চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আটক অফিস সহায়ক মো: শাহজামালকে আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনার তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রশ্নফাঁস তদন্তের অংশ হিসেবে জব্দ করা বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক মো: শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটার পরীক্ষা করে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টাররোলে লোক নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিফট পরিবর্তনের মতো গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের সত্যতা মিলতেই বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে তাকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়।

জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তের একপর্যায়ে কমিটির প্রধান অভিযুক্ত অফিস সহায়ক শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটার জব্দ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।

কম্পিউটারে সংরক্ষিত নথিপত্র পর্যালোচনা করতে গিয়ে প্রশ্নফাঁসের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিয়োগ ও ভর্তি কার্যক্রমে বড় ধরনের জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অফিস সহায়ক পদে চাকরি করলেও শাহজামাল দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার অপারেটর পদের বেতন তুলে আসছিলেন। এছাড়া প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টাররোলে বিভিন্ন লোকজনকে নিয়োগ দেয়ার একাধিক নথি তার কম্পিউটারে পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত নানা অনিয়মের তথ্যও খতিয়ে দেখছে তদন্ত দল।

বুধবার রাত ১০টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বিদ্যালয়ে গিয়ে নথিপত্র ও অভিযোগগুলো নিজে পর্যালোচনা করেন। এরপর রাতেই শাহজামালকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, বিস্তারিত তদন্তের পরই সব বিষয় পরিষ্কার করা যাবে। অভিযুক্ত বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে জালিয়াতির নানা তথ্য পাওয়া গেছে।