
দেড় বছরের আশ্বাসেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান, লিখিত সিদ্ধান্তের দাবিতে টানা ১৩ দিনের আন্দোলন—অবশেষে মন্ত্রীর আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, প্রশাসনিক অধীনতা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনের পর রোববার থেকে ক্লাসে ফিরছেন তারা। আগামী আট মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
শুক্রবার দিবাগত রাতে সিলেট সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রীর সাথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শুনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এরপরই আন্দোলন প্রত্যাহার করে রোববার থেকে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, কলেজটিকে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীনে নেয়া, সিলেট প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা, শিক্ষকসঙ্কট নিরসন ও খেলার মাঠ নির্মাণ। এর আগে কলেজটিকে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সাথে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিকভাবে যুক্ত করার দাবিও জানিয়েছিলেন তারা।
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী বলেন, ‘কলেজটিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের অধীন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীনে স্থানান্তরের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করা হবে।’
পাশাপাশি আগামী আনুমানিক আট মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। বর্তমান চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার আগেই এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি আনার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। শিক্ষকসঙ্কটসহ অন্য সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দেন তিনি।
সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী কলেজে একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আগামী ১৮ অক্টোবর মন্ত্রী নিজে কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শন করবেন বলেও জানানো হয়।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো: তানভীর মাহমুদ জানান, মন্ত্রী তাদের সব দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। ১৮ অক্টোবর ক্যাম্পাস পরিদর্শনেও আসবেন তিনি। এসব আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তারা রোববার থেকে ক্লাসে ফিরছেন।
কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মো: সাহিদ ইকবাল বলেন, ‘মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফেরার কথা জানিয়েছেন। রোববার থেকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি দাফতরিক কার্যক্রমও শুরু হবে। এজন্য শনিবার ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে।’
সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। তবে কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর একটি প্রক্রিয়াধীন বিষয়। এজন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথা জানিয়েছেন।’
এর আগে বৃহস্পতিবার নগরের চৌহাট্টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শত শত শিক্ষার্থী। পরে দাবিসংবলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেড় বছর ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও যোগাযোগ করেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। গত বছর এ বিষয়ে রেজুলেশন পাসের কথা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। তাই এবার মৌখিক আশ্বাসের পরিবর্তে লিখিত সিদ্ধান্ত ও সরকারি প্রজ্ঞাপন দাবি করেন তারা। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরো কঠোর করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর আন্দোলন শুরুর দিন কলেজের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অধ্যক্ষসহ ১৪ শিক্ষককে টানা ৩৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন বিকেলে তৎকালীন অধ্যক্ষকে বদলি করে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হলেও আন্দোলনকারীরা তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেয়া হলেও নির্ধারিত বৈঠক না হওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের ১৩তম দিনে মন্ত্রীর সাথে মতবিনিময় সভার পর কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন তারা।
সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকায় ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক অধীনতা পরিবর্তন, উচ্চশিক্ষার স্বতন্ত্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








