চাটখিল থানা, নোয়াখালী
চাটখিল থানা, নোয়াখালী। নয়া দিগন্ত

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় বাড়িতে বেড়াতে আসা জামাইকে বিষপানে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

Advertisement

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন ৯ নম্বর উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গুজার দিঘীরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম মো: মোহন (৩২)। তিনি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ২ নম্বর রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের পশ্চিম রামনারায়ণপুর-ইদাগাজী পাটোয়ারীবাড়ী এলাকার নুরুজ্জামানের ছেলে। মোহন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।

জানা যায়, ২০২১ সালে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ২ নম্বর রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের পশ্চিম রামনারায়ণপুর-ইদাগাজী পাটোয়ারীবাড়ী এলাকার নুরুজ্জামানের ছেলে রাজমিস্ত্রি মো: মোহনের সাথে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন ৯ নম্বর উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গুজার দিঘীরপাড়ের নবী উল্যাহর মেয়ে মিতুর বিয়ে হয়।

নিহত মোহনের বড় বোন ফেরদৌস আক্তার বলেন, বিয়ের পর থেকে মিতু দুই-চার দিন আমাদের বাড়িতে থাকলে দুই-তিন মাস থাকে বাবার বাড়িতে। এ নিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিলে সেখানে যায়নি তারা। তাদের চার বছর বয়সী একটি ছেলে আছে। 

তিনি বলেন, এরই মাঝে মোহনের স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিল। আমার ভাই মোহন বারবার তার স্ত্রীকে ফেরত আনতে চাইলেও তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নানা ধরনের মানসিক অত্যাচারসহ গালমন্দ করেন।

ফেরদৌস আক্তার অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে তিন মাস পর মোহন ছেলেকে দেখতে শ্বশুরবাড়ি যায়। সেখানে ভাই মোহনকে তার শ্বশুরের নিজ বসতঘরে বিষপান করানো হয়। পরে সে অসুস্থ হলেও আমাদের খবর দেয়া হয়নি।

ফেরদৌস আক্তার আরো বলেন, পরিবারের সদস্যরা অন্যভাবে খবর শুনে মোহনকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করতে গেলে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাধা দেয়। একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে চাটখিল সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নেয়ার পর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২৫ মিনিট মোহনের মৃত্যু হয়। রাতে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ লাশ নিয়ে যায়।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ বলেন, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এসআই মোসলেহ উদ্দিনকে পাঠিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পুনরায় নোয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠাই।

তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থল চন্দ্রগঞ্জ থানার অধীনে আর মৃত্যুস্থল সুধারাম থানার অধীনে। আমরা একটি জিডি নিয়েছি। মামলা করতে হলে চন্দ্রগঞ্জ থানায় যেতে হবে।