নিখোঁজ
নিখোঁজ মোছা: গুলনাহার বেগম (৫৫)। নয়া দিগন্ত

দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোছা: গুলনাহার বেগম (৫৫) নামে এক নারী নিখোঁজ হয়েছেন। প্রায় ৪ দিন পার হলেও উদ্ধার পাননি তিনি। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

Advertisement

নিখোঁজ গুলনাহার বেগম দিনাজপুর সদর উপজেলার ২ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং মো: জার্জিস আলীর স্ত্রী। 
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে তাকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বড় মেয়ে জাকিয়া সুলতানা রুমি সার্বক্ষণিক তার সাথে ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে তার মেয়ে জাকিয়া সুলতানা রুমি অল্প সময়ের জন্য পাশের কক্ষে যান। প্রায় পাঁচ মিনিট পর ফিরে এসে তিনি দেখতে পান তার মা হাসপাতালের বেডে নেই। এরপর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডোর এবং আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পরপরই গুলনাহার বেগমের সন্তান, স্বামী, আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকাবাসী ব্যাপক অনুসন্ধান চালান। হাসপাতাল চত্বরসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করা হলেও তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা: জাহাঙ্গীর কবির নয়া দিগন্ত প্রতিনিধিকে জানান, ‘তাকে উদ্ধারে সিসি ফুটেজ অনুসন্ধান চালানো হবে।’

অন্যদিকে নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গুলনাহার বেগমের বড় ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম জিম বলেন, ‘মাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করেছি এবং নিরলসভাবে খোঁজাখুঁজি চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু এখনো কোনো সন্ধান পাইনি।’

এদিকে, ২৮ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজ ব্যক্তির বড় ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম জিম জিডিটি দায়ের করেন, যার জিডি নম্বর- ২৬৯৭। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গুলনাহার বেগমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুন নবীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।’