নাব্যতা সঙ্কটে নগরকান্দা সালথার কুমার নদ

কাজী আফতাব হোসেন নগরকান্দা (ফরিদপুর)
ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদর বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী কুমার নদ বর্তমানে কচুরিপানায় ভরে গিয়ে এর নাব্যতা ও স্রোতধারা হারিয়ে ফেলেছে। এক সময়ের স্বচ্ছ জলধারা ও মনোরম সৌন্দর্য ও অসংখ্য মাছে ভরপুর ছিল এই নদ। বর্তমানে কুমার তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে ফেলার কারণে পাড়ের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা ধংস হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, ফরিদপুর সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মদনখালী এলাকায় পদ্মা নদী থেকে কুমার নদের উৎপত্তি। এটি ফরিদপুর শহরের ভেতর দিয়ে সালথা উপজেলা সদরের পাশ দিয়ে, বোয়ালমারীর নতুবদিয়া ও ভাওয়াল বাজার এবং মাঝারদিয়া বাজারের পাশ দিয়ে নগরকান্দা উপজেলা হয়ে ১২১ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আড়িয়াল খাঁ ও মধুমতি নদীর সংযোগ খাল বিলরুট ক্যানেলে গিয়ে পড়েছে। নদের বুকে কচুরিপানা বিস্তারের ফলে এর পানিতে এখন আর সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারছে না। এতে পানির গুণগত মান নষ্ট হয়ে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্র হুমকির মুখে পড়েছে।  সচেতন মহল মনে করেন, নদের কচুরিপানা পরিষ্কার করা হলে সহজেই এর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এই নদকে রক্ষা করতে প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এজন্য কচুরিপানা অপসারণ, নদের পাড় দখল এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এর হারানো যৌবন ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব। এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জনিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, যথাযথ ও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হলে কুমার নদ আবারো ফিরে পাবে তার স্বচ্ছতা, প্রাণচাঞ্চল্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। স্থানীয়রা ফিরে পাবে তাদের প্রিয় নদকে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, সালথায় কুমার নদের ওপর বাঁশের সাঁকোর কারণে কচুরিপানা ও পানি প্রবাহ আটকে গেছে।