
ক্রীড়া প্রতিবেদক
সিঙ্গাপুর ১-০ বাংলাদেশ
সেই ১৯৭৩ সাল থেকে সিঙ্গাপুরের সাথে ম্যাচ খেলে আসছে বাংলাদেশ। অবশ্য এই সংখ্যা বেশি নয়। আসিয়ান অঞ্চলের এই দেশিটির বিপক্ষে গতকালের আগ পর্যন্ত চারটি। গতকাল আসিয়ান কাপে এই সংখ্যা ৫-এ উন্নীত হয়। তবে দলটির বিপক্ষে কাক্সিক্ষত সেই জয় এবারো হলো না। বরং টানা হারের বৃত্তেই লাল-সবুজরা। আসিয়ান কাপেই মালয়েশিয়ার কাছে ০-৩ গোলে হারের পর কাল একাদশে বড়সড় পরিবর্তন আনেন কোচ টমাস ডুলি। একেবারে চারজন বদল। এতে বাংলাদেশ দলের খেলায় গতি এলেও গোলের দেখা মেলেনি। এড়ানো যায়নি হারও। সিঙ্গাপুরের কাছে ০-১ গোলে হেরে আসর থেকেই ছিটকে গেল জামাল ভূঁইয়ারা। ফলে এখন নিয়মরক্ষার ম্যাচে ১ অক্টোবর মুখোমুখি হবে হবে ইন্দোনেশিয়ার সাথে।
আগের ম্যাচের অধিনায়ক সোহেল রানাকে এই সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলানোই হয়নি। নেতৃত্ব নিয়েই মাঠে নামেন জামাল ভূঁইয়া। এ ছাড়া ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপু, মিডফিল্ডার ফাহামিদুল ইসলাম, ফারহান আলী ওয়াহিদকে সাইড লাইনে বসিয়ে যথাক্রমে জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ, শেখ মোরসালিন ও শুকি ইতোফুসাকে একাদশে রাখেন কোচ ডুলি। তবে গোল বা জয় কোনোটিই ধরা দেয়নি। আসলে গোল করার মতো যে দক্ষতা দেখানো দরকার সেটা করতে ব্যর্থ লাল-সবুজরা। এতে মালয়েশিয়ার মতো গতকাল জাকার্তার গেলুরা বন কার্নো স্টেডিয়ামে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেও একই চিত্র। সিঙ্গাপুর যে চান্স থেকে গোল করেছে বাংলাদেশ সেই সুযোগই নষ্ট করেছে বল উপর দিয়ে মেরে।
পোস্টের নিচে এই ম্যাচেও টমাস ডুলির আস্থা ছিলেন মেহেদী হাসান শ্রাবণ। নিজের দীর্ঘদেহটা দিয়ে প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন পোস্ট আগলাতে। তবে ডিফেন্সে ফাটল থাকলে কিভাবে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। ম্যাচে বাংলাদেশ বিরতির পর ৯টি কর্নার পায়। তবে এর সবগুলোই কাজে লাগাতে ব্যর্থ।
ম্যাচের ১৭ মিনিটে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন শ্রাবণ। ফানদি ইলহানের শট ডান দিকে শরীর ফেলে কর্নার করেন বসুন্ধরা কিংসের এই কিপার। ৩৩ মিনিটেই পোস্ট অক্ষত রাখেন কুমিল্লা থেকে উঠে আসা কিপারটি। এবার ফ্রি-কিক থেকে আসা বলে বক্সে যে শট হয় পোস্টের উদ্দেশ্যে তা আসামান্য দক্ষতায় রুখে দেন তিনি। তবে ৩৫ মিনিটে স্টুয়ার্ট হারিয়াসের হেডে ছিলেন একেবারেই অসহায়। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে বাংলাদেশী ডিফেন্ডারদের গড়ে দেয়া গ্যাপকে পুঁজি করে লাফিয়ে হেড করেন তিনি। সেই ড্রপ হেড পোস্টের পাশ দিয়ে জালে যায়। বল গোল লাইন অতিক্রম করার দৃশ্যটা চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না শ্রাবণের। মূলত পানি পানের বিরতির পরই আরো আগ্রাসী হয়ে উঠে সিঙ্গাপুর। ৩৮ মিনিটে ব্যবধান বাড়েনি তাদের এক খেলোয়াড়ের নেয়া শট ক্রস বারে লাগায়। ৫২ মিনিটে সং উই অংয়ের শট পোস্ট ঘেঁষে লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়। কিছুক্ষণ পরই আরেক দফা বাংলাদেশ দলের ত্রাতা হিসেবে ভূমিকা রাখেন শ্রাবণ।
৫৮ মিনিটে শেখ মোরসালিনকে তুলে কোচ ডুলি মাঠে নামান মিনহাজুল করিম স্বাধীনকে। এতে আর্জেন্টিনা লিগে খেলা ফুটবলারটির অভিষেক ঘটে লাল-সবুজ জার্সিতে। এই ফরোয়ার্ড মাঠে নামার পরপরই বাংলাদেশ দলের খেলায় গতি বাড়ে। পুরোটা সময়ই দুর্দান্ত খেলেন স্বাধীন। সেই ধারাক্রমে গোলের সুযোগও পায় ২০০৩ এর সাফ জয়ীরা। ৬৪ মিনিটে সাদ উদ্দিনের ক্রসে দারুণ জায়গায় বল পান শমিত শোম। তবে যে পজিশন থেকে সিঙ্গাপুরের স্টুয়ার্ট গোল করেছিলেন, শমিত সেই জায়গা থেকে বল পাঠান বার উঁচিয়ে। ৭৩ মিনিটে সিঙ্গাপুরের ব্যবধান বাড়েনি নাকামুরা কাগোয়ার হেড পোস্টে বাতাস দিয়ে বাইরে যাওয়ায়।
৭০ মিনিটে শুকির জায়গায় মাঠে নামেন ফাহামিদুল। আর শমিত শোমের পরিবর্তে জুনিয়র সোহেল রানা। এই ফাহামিদুল ৭৯ মিনিটে দারুণ এক ক্রস ভাসান সিঙ্গাপুরের পোস্টে। ফরোয়ার্ড রাকিব সেই বলে হেডও নেন। তবে সেই হেড বিপক্ষ ডিফেন্ডার রায়ান স্টুয়ার্টের গায়ে লেগে কর্নার হলে অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে আর ম্যাচে ফেরা হয়নি বাংলাদেশের। ৮৬ মিনিটে উল্টো অল্পের জন্য দ্বিতীয় গোল হজম থেকে রক্ষা বাংলাদেশের।
এই হারের ফলে সর্বশেষ এশিয়ান কাপে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুই হারের বদলা নেয়া হলো না বাংলাদেশের। দুই দলের ১৯৭৩ সালের মারদেকা কাপে প্রথম সাক্ষাতে বাংলাদেশ সেই যে প্রথম ১-১ গোলে ড্র করেছিল এখন পর্যন্ত ওটিই তাদের বিপক্ষে সেরা রেজাল্ট।








