নিকলীতে সার ডিলার বাছাইয়ে বিতর্ক ২ প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

 কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নে নতুন সার ডিলার নিয়োগের জন্য উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা কার্যালয়ে পাঠানো তিনজনের তালিকায় দুই প্রার্থীর নাম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাদের একজনের বিরুদ্ধে অতীতে সার-সংক্রান্ত অনিয়মে জরিমানার অভিযোগ রয়েছে। অপরজনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে।
তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠান দু’টি হলো ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ ও রনি অ্যান্ড মোসা এন্টারপ্রাইজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সার ডিলার বাছাই কমিটি দামপাড়া ইউনিয়নের জন্য তিনজনের নাম জেলা পর্যায়ে পাঠিয়েছে। পরে জেলা সার ডিলার নিয়োগ কমিটি তালিকাটি ঢাকায় পাঠিয়েছে। তালিকায় থাকা তৃতীয় প্রতিষ্ঠান শান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বদরুল মোমেন বাদলের বিরুদ্ধে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সার-সংক্রান্ত অনিয়মের ঘটনায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও তাকে অবৈধ সারসহ আটক করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্য দিকে রনি অ্যান্ড মোসা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাখাওয়াত হোসেন রনির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার পর ৫ আগস্টের পর বিএনপির সাথে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিতর্কিত ব্যক্তিদের সাথে আমার প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকায় আসায় আমি বিব্রত। যারা দীর্ঘদিন আমাদের ওপর নির্যাতন করেছে, তাদের কেউ যদি এখন সার ডিলারের তালিকায় থাকে, তা দুঃখজনক।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ইউনিয়ন থেকে তিনজনের নাম পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে একজনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হবে। তিনি বলেন, ‘বিতর্কিত কারো নাম দিয়ে থাকলে উপজেলা কমিটি দিয়েছে। জেলা পর্যায়ে আমাদের করার কিছু নেই।’

Advertisement