
কুষ্টিয়ায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এর নারী ও পুরুষ দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমারখালী উপজেলা দল।
তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম চত্বরে।
নারী বিভাগের ফাইনালে কুষ্টিয়া ও কুমারখালী দলের নির্ধারিত সময়ের খেলা অমীমাংসিত থাকে। পরে ৪-৩ পয়েন্টের ব্যবধানে কুষ্টিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় কুমারখালী নারী দল। পুরুষ বিভাগের ফাইনালে ভেড়ামারা দলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় কুমারখালী।
ফাইনাল ঘিরে শুক্রবার বিকেলে স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বৃষ্টিভেজা মাঠেও কাবাডির টানেই স্টেডিয়ামে ভিড় করেন শত শত দর্শক ও ক্রীড়ামোদী। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী এ খেলাকে ঘিরে প্রাণ ফিরে পায় স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ। ফাইনাল শুরুর আগে দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ রেজাউল করিম।
এ সময় তিনি বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক অপরাধ থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলার আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি হলে তরুণদের একটি বড় অংশ মাঠমুখী হবে। খেলা দেখতে আসা দর্শকদের মধ্যে ছিল শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। মাঠে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের সদস্য, তাদের পরিবারের নারী সদস্য এবং স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরাও। দর্শকদের অনেকেই দেশীয় খেলাধুলার এমন আয়োজন নিয়মিত করার দাবি জানান।
কুমারখালী দলের খেলোয়াড় ফাহিমা ও কুষ্টিয়া দলের খেলোয়াড় জিসকা জুবায়ের বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতা খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করে। নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন হলে নতুন খেলোয়াড় তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণও বাড়বে।
জেলা পুলিশ জানায়, খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে মাঠমুখী করার পাশাপাশি পুলিশের সাথে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক আরো দৃঢ় করার লক্ষ্যেই কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা হয়েছে।
খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘কাবাডির পাশাপাশি ভবিষ্যতে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন ও ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে যুবসমাজকে খেলাধুলার পরিবেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হবে।’
পরে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও মেডেল তুলে দেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ রেজাউল করিম।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, কাবাডির মতো দেশীয় ও গ্রামীণ খেলাধুলার নিয়মিত আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিকে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে মাঠে ফিরবে তরুণ প্রজন্ম।








