
বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এতে প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বালানি সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর পররাষ্ট্র ও ক্যারিকম বিষয়ক মন্ত্রী এস এম সোবার্স নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘নতুন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুই দেশ নিয়মিতভাবে তাদের সম্পর্ক পর্যালোচনা করার সুযোগ পাবে। এর পাশাপাশি বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, কারিগরি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেয়ার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের পথ সুগম হবে।’
জ্বালানি খাতকে স্বল্পমেয়াদি সহযোগিতার অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে দ্রুত একটি কারিগরি বৈঠক আয়োজনে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বৈঠকে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর ন্যাশনাল গ্যাস কোম্পানি, আটলান্টিক এলএনজি, ফিনিক্স পার্ক গ্যাস প্রসেসরস এবং একটি অ্যামোনিয়া বা সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করতে পারে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ অব্যাহত রাখতে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর সমর্থন প্রত্যাশা করেন। বিশেষ করে ২০২৭-২০২৮ মেয়াদে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেশটির দায়িত্ব পালনের সময় এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
মানবিক সহায়তার তহবিল কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মানবিক সহায়তার তহবিল কমে আসা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনো মিয়ানমার থেকে আসা ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে।’
এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া ক্রিকেটকে দুই দেশের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যুব ও নারী ক্রিকেট, কোচিং, ক্রীড়া বিজ্ঞান এবং ক্রীড়া প্রশাসনে পারস্পরিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রস্তাব দেন।
এই সমঝোতা স্মারকের ফলে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো সুসংগঠিত ও অর্থবহ হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।
সূত্র : বাসস








