
সাঈদ আর সুবহা বাবা-মায়ের সাথে অটোরিকশায় করে উত্তরার দিকে রওনা দিলো। আজ তাদের গানের শুটিং আছে। জুমার নামাজ পড়ে সবাই একটু নাস্তা করে বের হয়েছে। মানিকদি থেকে উত্তরার পথে যেতে যেতে সুবহা নানা কথা বলছিল। সাঈদও তার সাথে গল্প করছিল। কিছুক্ষণ পর তারা শুটিংয়ের জায়গায় পৌঁছে গেল। সেখানে গিয়ে প্রথমে একটি রেস্টুরেন্টে বসে সবাই একটু বিশ্রাম নিল। কিছুক্ষণ পর মুমিন ভাই মোবাইলে ফোন করে বললেন, তোমরা ব্রিজের সাথে লেকের পাড়ে চলে এসো। সাঈদ, সুবহা আর তাদের বাবা-মা লেকের পাড়ে চলে গেল। লেকের পাড়ে গিয়ে সুবহা চারদিকে তাকিয়ে বলল, আব্বু, এখানে কত গাছ! বাবা বললেন, হ্যাঁ, জায়গাটা বেশ সুন্দর। দুই পাশে অনেক গাছপালা। কিছু ওষুধি গাছ, কিছু ফলের গাছ। বড় বড় বটগাছও আছে। কয়েকজন ছোট কণ্ঠশিল্পী বটগাছের ছায়ায় বসেছিল। তাদের সাথেই আজ গান হবে।
শুটিং শুরু হলো। সবাই নিজের নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর সুবহা দূরে তাকিয়ে দেখল সাদা সাদা কিছু একটা বাতাসে দুলছে। সে বাবাকে জিজ্ঞেস করল, আব্বু, ওইগুলো কী? বাবা বললেন, ওগুলো কাশফুল। ওখানে কাশবন হয়েছে। কাশফুল? হ্যাঁ। এগুলো দিয়ে কী হয়? বাবা বললেন, এগুলো প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায়। শরৎকালে কাশফুল ফুটতে দেখা যায়। সুবহা কিছুক্ষণ কাশফুলের দিকে তাকিয়ে রইল। বাতাস লাগলে ফুলগুলো দুলছিল। তার বেশ ভালো লাগল। এরপর আবার শুটিং শুরু হলো। সবাই মিলে ‘মন ভোমরা মদিনার পথে’ গানের শুটিং করল। কখনো লেকের পাশে, কখনো গাছের নিচে, আবার কখনো কাশবনের কাছেও শুটিং হলো। সাঈদ আর সুবহার শুটিং করতে ভালোই লাগছিল। মাঝে মাঝে তারা হাসছিল, মুমিন ভাই ডাক দিলে নিজেদের জায়গায় দাঁড়াচ্ছিল।
শুটিং শেষ হতে হতে বিকেল হয়ে গেল। এরপর ঘাসের ওপর চাদর বিছিয়ে সবাই বসে পড়ল। শুরু হলো গল্প আর আড্ডা। সুবহা আবার কাশবনের দিকে তাকিয়ে বলল, আব্বু, কাশফুলগুলো অনেক সুন্দর। বাবা বললেন, তোমার ভালো লেগেছে? হ্যাঁ। সাঈদ বলল, আমারও ভালো লেগেছে। সবাই মিলে কিছুক্ষণ গল্প করল। সাঈদ আর সুবহা বাবা-মায়ের সাথে সময় কাটাল। সবাই মিলে অনেক ছবি তুলল স্মৃতি রাখার জন্য। এরপর সন্ধ্যা হয়ে এলো। সবাই বাড়ি ফেরার জন্য প্রস্তুত হলো। অটোরিকশায় উঠতে উঠতে সুবহা একবার পেছন ফিরে কাশবনের দিকে তাকাল। বাড়ি ফেরার পথে সাঈদ বলল, আজকের শুটিং কেমন হয়েছে? সুবহা বলল, ভালো হয়েছে। তবে আমার কাশফুল দেখতে বেশি ভালো লেগেছে। বাবা হেসে বললেন, তাহলে আবার কোনো দিন কাশফুল দেখতে নিয়ে যাবো।
সুবহা খুশি হয়ে বলল, সত্যি? বাবা বলল সত্য। কথা বলতে বলতে তারা বাড়িতে পৌঁছে গেল। বাড়িতে এসে সবাই যে যার মতো বিশ্রাম নিতে গেল। সুবহাও মায়ের কাছে গিয়ে বলল, আম্মু, আজকে কিন্তু অনেক মজা হয়েছে। মা বললেন, হ্যাঁ, এবার হাত-মুখ ধুয়ে একটু বিশ্রাম নাও। সুবহা বলল, আচ্ছা। তারপর সে তার নিজের রুমে চলে গেল। সাঈদও তার সাথে গেল।








