
পুঁথির আসর
জালাল খান ইউসুফী
একটা সময় পুঁথির আসর
বসত গাঁয়ের পাড়ায়
পুঁথির পাঠক পুঁথির সুরেই
শ্রোতার হৃদয় নাড়ায়।
বাড়ির উঠন বারান্দা আর
না হয় কারোর ঘরে
কুপি জ্বলা সন্ধ্যা বেলায়
পুঁথির আসর করে।
সুরে সুরে পড়ত পাঠক
মন ভুলানো পুঁথি
মনোরঞ্জন করতো সবাই
জাগত অনুভূতি।
ইলেকট্রনিক মিডিয়া যে
করল এসব দূর
তবুও মানুষ যায় হারিয়ে
শুনলে পুঁথির সুর।
শরতের ছড়া
জাহেদুল ইসলাম বাঁধন
সাদা সাদা মেঘ
দেখি ওরে দেখি, উড়ে উড়ে যায়
পায়ে আমি হাঁটি
দেখি পরিপাটি, আমাদের গাঁয়।
ছোট ছোট নদী
চলে নিরবধি, হাঁটু গাড়া জল
তার দুই কূলে
কাশবন দোলে, নিয়ে পুরো দল।
দিঘিটার জলে
কিশোরের দলে, খুনসুটি খেলে
আকাশের নীলে
খেলা করে চিলে, দুই ডানা মেলে।
শরতের ভোর
খুলে গেছে দোর, রোদ্দুর জ্বলে
ভেবে ভেবে শেষ
দেখে পুরো দেশ, শিল্পীর দলে।
ছড়ার বাবুই
শাহনেওয়াজ মিঠু
বাবুই নীড়ে ছড়ার ভিড়ে
নেচে বেড়ায় মন
ছন্দ নূপুর খোকা খুকুর
হাসায় সারাক্ষণ।
বাবুই কাদের? এই আমাদের
ছড়ার জাদুঘর
বাংলা মায়ের বোনের ভাইয়ের
বর্ণমালার স্বর।
বর্ণে বুনন ছড়ার বাবুই বাসা
মুক্ত রঙিন প্রজাপতির ভাষা।
শরৎ আসে
মুহাম্মদ জুবায়ের
ঝিলের কোলে শাপলা দোলে
শিউলি ফোটা ভোর
মেঘের পাশে সুরুজ হাসে
শিশির ভেজা দোর।
ফড়িং নাচে বিলের কাছে
পাশে কাশের বন
শালিক পাখি বাঁধছে বাসা
জুড়ায় তনু মন।
সুরের হাসি বাজায় বাঁশি
রাখাল ছেলে আজ
নদীর কূলে ছাতিম ফুলে
মিষ্টি মধুর সাজ।
আঁকতে পারো
হাফিয রেদওয়ান
সবুজ পাতা কচি আতা
জুঁই চামেলি সাদা
হলুদ গাঢ়ো আঁকতে পারো
সূর্যমুখী গাঁদা।
টোপর পড়া টিয়ের ছড়া
পায়রা দেখে চালতা
কোকিল ঘুঘু আঁকছে খুকু
শালিক পায়ে আলতা।
মলা ঢেলা পুঁটি চেলা
শিং মাগুড়ের দাড়ি
নানা রঙে তুলির ঢঙে
আঁকতে বলো পারি।
একটি ফোঁটা
তমসুর হোসেন
একটি ফোঁটা মিষ্টি মাখা
একটি ফোঁটা মধুয় ভেজা
একটি ফোঁটা দুধের সরের
একটি ফোঁটা তরুণ তাজা।
একটি ফোঁটা জোসনা ধোয়া
একটি ফোঁটা কাজল কালো
একটি ফোঁটা চাঁদের কুসুম
একটি ফোঁটা তারার আলো।
শরৎ এলে রাতের শেষে
ঝরে শিশির পথের ধারে
হাওয়ায় দোলে ডুমের গোটা
ঝাঁকড়া ডালে মাঠের পারে।
তাল
এম আবু বকর সিদ্দিক
সুয্যি মামার মেজাজ ভারী
দিচ্ছে ভীষণ তাপ
পাকা পাকা তালগুলো সব
পড়ছে যে ধুপধাপ।
তালের বড়া, তালের পিঠা
ছড়ায় মধুর ঘ্রাণ
মায়ের রান্না তালের পায়েশ
খেয়ে ভরে প্রাণ।
ভোর বিহানে তাল কুড়াতে
লাগে বেজায় সুখ
পাকা তালের আঁঠি চুষে
রঙিন করি মুখ।
মায়ের মতো
অপু বড়ুয়া
মা হলো এক মায়ার পাখি
মাকে বুকে জড়িয়ে রাখি
মায়ের হাসি চাঁদের হাসি
তাইতো মাকে ভালোবাসি।
মা যে সাঁঝের সন্ধ্যাতারা
স্নিগ্ধ শীতল ঝর্ণাধারা
মায়ের হাতের পরশ পেলে
সুখের পরী পাখনা মেলে।
খোকন হাঁটে মায়ের পিছু
মায়ের মতো হয় না কিছু।
নাগালের বাইরে
ইসমাইল তকি শাহ
জিনিসের দাম আজ
নাগালের বাইরে
কী খেয়ে বাঁচি বলো
কী খাবো ভাইরে!
ব্যয় শুধু বেড়ে গেছে
বাড়ে নিকো আয়রে
জিনিসের দাম শুনে
প্রাণ বুঝি যায়রে!
পড়ালেখা শিখে
মজনু মিয়া
পড়ালেখা শিখে আমি
অনেক বড় হবো
দেশ ও দশের জন্য আমি
ভালো কথা কবো।
পড়ালেখা শিখে আমি
সবার ভালোবাসায়
সবার মাঝে মিলেমিশে
থাকব বাঁচার আশায়।








