রেহেনার জোটেনি সরকারি সহায়তা

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের নাছনাপাড়া কলোনির বাসিন্দা রেহেনা বেগম (৫৬)। প্রায় ৩০ বছর ধরে ভ্যানে করে পানি সরবরাহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। বয়সের ভার ও নানা শারীরিক সমস্যায় আগের মতো কাজ করতে না পারলেও জীবিকার তাগিদে এখনো প্রতিদিন পানি টেনে চলেছেন। স্বামী হারানোর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিধবা ভাতা বা অন্য কোনো সরকারি সহায়তা পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
রেহেনা বেগম জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর অভাবের সংসারে কলাপাড়া পৌর এলাকায় কলসিতে পানি বহনের কাজ শুরু করেন। প্রথম দিকে কোমরে কলস বহন করলেও বর্তমানে ভ্যানে করে বিভিন্ন বাড়ি, খাবারের হোটেল ও রেস্তোরাঁয় পানি সরবরাহ করেন। টিউবওয়েল ও পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ কলস পর্যন্ত পানি বহন করতে হয় তাকে।
সরেজমিন দেখা যায়, খাসজমির এক টুকরা জায়গায় টিনের জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন রেহেনা। দীর্ঘদিন পানি টানার কাজ করায় স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘পানি বুয়া’ নামে পরিচিত। বয়স ও অসুস্থতার কারণে তার ব্যবহৃত পুরনো ভ্যানটিও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কহিনুর বলেন, দীর্ঘদিন পানি টানতে গিয়ে রেহেনা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার ভ্যান ও ঘরের অবস্থাও ভালো নয়। তাকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন।
ব্যবসায়ী সৈয়দ রাসেল বলেন, অসুস্থ শরীর নিয়েও রেহেনা প্রতিদিন পানি সংগ্রহ করে সরবরাহ করেন। তার মতো অসহায় মানুষের পাশে সমাজের বিত্তবানদের দাঁড়ানো উচিত।
রেহেনা বেগম বলেন, শরীরের অবস্থা ভালো না। ঘরটাও ভাঙা। বিত্তবানরা যদি ঘর ও ভ্যানটি মেরামত করে দিতেন, তাহলে কাজ করে বাঁচতে পারতাম। তিনি জানান, প্রতিদিন পানি সরবরাহ করে গড়ে ৩০০ টাকা আয় হয়। এর একটি অংশ ভ্যান মেরামতে ব্যয় হওয়ায় অবশিষ্ট টাকা দিয়ে কোনোভাবে দিন কাটে। কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, রেহেনাকে বিধবা ভাতার আওতায় আনার পাশাপাশি সরকারি অন্যান্য সুবিধা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।