ধর্ষণ
তাহিরপুর থানা, সুনামগঞ্জ ছবি: নয়া দিগন্ত

চকলেট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী রাকিব মিয়াকে (১৩) আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের বিন্নাকুলী বাজারের পাশ থেকে অভিযুক্ত রাকিবকে আটক করে তাহিরপুর থানায় সোপর্দ করা হয়।

এদিকে শুক্রবার তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামে অভিযুক্ত রাকিবের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত একই গ্রামের প্রতিবেশী আব্দুল আজিজের ছেলে।

ভুক্তভোগী শিশুটির চাচা দানু মিয়া ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত রাকিব ওই শিশুটির প্রতিবেশী এবং পাশাপাশি বাড়ি। রাজিব ওই শিশুকে চকলেট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে তার নিজ বাড়ির খালি ঘরে ডেকে নিয়ে যায় এবং পরে ঘরের দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে শিশুটি কেঁদে নিজের বাড়িতে আসলে পরিবারের লোকজন কী হয়েছে জানতে চাইলে শিশুটি জানায়— তাকে রাকিব কাপড় খুলে গায়ে হাত দেয়া সহ ধর্ষণ করেছে। পরে শিশুটিকে রাত ৮টার দিকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে ডা: মুসফিকা মারজান জানান, রাত ৮টার দিকে একটি মেয়েশিশুকে নিয়ে এসে পরিবারের লোকজন জানান তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে তাকে দেখে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।

ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা জানান, ‘ঘটনার পর আমার মেয়েকে তাহিরপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সদর হাসপাতালে পাঠান। এখন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে। এ বিষয়ে শুক্রবার তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি আমার ছোট এই শিশুর সাথে যা হয়েছে তার বিচার চাই। আর যেন কোনো মেয়ের সাথে এমন ঘটনা না ঘটে।’

শিশু ধর্ষণ ও এ ঘটনায় মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ। 

তিনি জানান, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগে আটক রাকিবকে আগামীকাল শনিবার আদালতে পাঠানো হবে।