
গত ১১ সেপ্টেম্বর ভাবগম্ভীর পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রে প্রার্থনা ও স্মরণসভার মাধ্যমে পালন হলো টুইন টাওয়ার হামলার ২৫ বছর পূর্তি। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি ছিল ভয়াবহতম রহস্যময় এক নৃশংস আক্রমণ। কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমা ছাড়া শুধু বিমান দিয়ে আঘাত হানার মাধ্যমে আমেরিকার অহঙ্কার বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের দু’টি ইস্পাত কাঠামো নির্মিত টাওয়ার মাটির সাথে মিশে গিয়েছিল। অত্যন্ত বেদনাদায়কভাবে কয়েক হাজার মানুষ ছাই হয়ে গিয়েছিল। সারা বিশ্বের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের মনকে এই হামলা কাঁদিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বয়ানে ইসলামী সন্ত্রাসবাদ এই হামলার জন্য দায়ী।
আধুনিক সন্ত্রাসবাদের উৎপত্তি : ১৯৪৬ সালে ‘উরগুন’ এবং ‘স্টার্নগ্যাং’ নামক ইসরাইলি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দ্বারা ফিলিস্তিনে যুক্তরাজ্যের সামারিক দফতর কিং ডেভিড হোটেলে সন্ত্রাসী হামলা করে ইসরাইল নামক সন্ত্রাসী রাষ্ট্র গড়ার রাস্তা প্রশস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে ‘নাকবা’ নামক ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভিটামাটি থেকে তাড়িয়ে ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে। নিজেদের দেশ ও ভিটামাটি রক্ষার জন্য ‘ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা’ (পিএলও) যুদ্ধে অবতীর্ণ হলে তাদেরকেই উল্টো সন্ত্রাসী আখ্যা দেয়া হয়। ‘পিএলও’ ব্যর্থ হলে ইসলামী জিহাদ, হামাস, আল কুদস ব্রিগেড ইত্যাদি ফিলিস্তিনি দেশপ্রেমিক সশস্ত্র গোষ্ঠী উঠে আসে জন্মভূমি রক্ষার তাগিদে। আমেরিকার সরাসরি সহযোগিতায় ইসরাইল সন্ত্রাসী কায়দায় ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করতেই থাকে। আর বিশ্ব নীরবে তা দেখতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিবেকের দৃষ্টিতে ইসরাইলি নির্যাতনকে তুলে ধরার জন্য ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা রক্ষা গোষ্ঠীগুলো দেশের বাইরে অন্যান্য দেশেও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা শুরু করে। প্রতিরোধ-প্রতিরক্ষার এই প্রক্রিয়াকে বন্ধ করার প্রয়াসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা সভ্যতা একে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। আর যেহেতু ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীরা মুসলমান তাই এর নাম হয়ে গেল ইসলামী সন্ত্রাসবাদ!
১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন মধ্য এশিয়ার প্রবেশদ্বার আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়ে দখলে নিয়ে নেয়। তৎকালীন দ্বিমেরু বিশ্বের অপর পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র তখন কমিউনিজমের কবর রচনার জন্য আফগানিস্তানের কাঁধে ভর করে। ‘সিআইএ’ আফগানদের সংগঠিত করে তাদেরকে জিহাদের তালিম দেয় ও তাদের নাম দেয় মুজাহিদ বাহিনী। তারা এই জিহাদে শরিক হওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে যুবকদের রিক্রুট করে সোভিয়েত লাল বাহিনীর বিরুদ্ধে ময়দানে পাঠায়। সেই সাথে আমেরিকা ‘নাস্তিক বধের’ নামে সৌদি থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এবং পাকিস্তানের মাটিতে অপারেশন মঞ্চ তৈরি করে। ‘সিআইএ’ সৌদি ধনকুবের এবং জিহাদি ব্যক্তিত্ব ওসামা বিন লাদেনকে উড়িয়ে নিয়ে আসে আফগানিস্তানের যুদ্ধ সমন্বয় করার জন্য। বিন লাদেন ‘আল-কায়েদা’ নামক কাঠামো গঠন করে মুজাহিদ বাহিনীর যুদ্ধ সমন্বয় করেন। এভাবে ১০ বছরের যুদ্ধে রাশিয়া পরাজিত হলে বিন লাদেন নিজ ভূমি সৌদিতে ফিরে যান এবং আল-কায়েদার মাধ্যমে বিশ্ব জিহাদের পরিকল্পনা করেন। তিনি প্রথমেই সৌদি ভূমি থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে দাঁড়ালে রাতারাতি লাদেন সৌদি-মার্কিনিদের শত্রুতে পরিণত হন। ফলে বিন লাদেন পুনরায় আফগানিস্তানে ফিরে আসেন এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে বিশ্ব মুসলমানদের জিহাদের আহ্বান জানান।
ইতোমধ্যে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ ঘৃণ্য হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ তৎক্ষণাত লাদেনকে দায়ী করেন এবং লাদেনকে আমেরিকার হাতে তুলে দিতে আফগান নতুন তালেবান সরকারকে আদেশ দেন। বিন লাদেন ওই ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন। আর আফগান সরকার আমেরিকাকে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে লাদেনকে হস্তান্তরের কথা জানায়। প্রতিউত্তরে অক্টোবরে আমেরিকান সৈন্য আফগানিস্তানে নামে এবং অল্প কয়েকদিনের যুদ্ধেই তারা আফগানিস্তান দখল করে নেয়। এই যুদ্ধকে তারা নাম দেয় ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’। পরে ২০১১ সালে আমেরিকা বিন লাদেনকে পাকিস্তানে হত্যা করে।
আফগানিস্তান দখলের পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’কে ইরাকে স্থানান্তরিত করে। ইরাকে ‘ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র’ রয়েছে— এই মিথ্যা বয়ান গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে উৎপাদন করে ২০০৩ সালের মার্চে ন্যাটো বাহিনী ইরাক দখলে আগ্রাসন চালায়। অন্য দিকে আল-কায়েদাও বিশ্ব জিহাদের ধারণা নিয়ে বিভিন্ন ফ্রন্টে পাল্টা প্রতিরোধের চেষ্টা চালায়। ইতোমধ্যে তারা ‘আল-কায়েদা-ইরাক’ নামে মধ্যপ্রাচ্যে কাজ শুরু করে। ইরাক দখলে নেয়ার পর আমেরিকা সেখানে শিয়া-সুন্নি বিভাজনকে উসকে দেয়। এতে পারে ইরানি প্রভাবে শিয়ারা ইরাকে শক্তিশালী হয়ে উঠলে আমেরিকা সুন্নি নেতা আবুবকর আল বাগদাদিকে দাঁড় করিয়ে দেয় এবং তার পেছনে সাদ্দাম হোসেনের ভেঙে যাওয়া সেনাবাহিনীর সুন্নি সদস্যদের সংগঠিত করে। আবুবকর বাগদাদির বাহিনী শিয়াদের দমন করে শক্তিশালী হয়ে উঠলে তারা বৃহত্তর সিরিয়া দখলে নিয়ে ‘ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া’ (আইএসআইএল) নামে খেলাফতের ঘোষণা দেয়। এবার মার্কিনিরা ‘আইএস’কে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করে সিরিয়ায় যুদ্ধ শুরু করে। পরে ২০১৯ সালে বাগদাদিকে সিরিয়ায় হত্যা করে। এভাবেই মার্কিন আঁতুড়ঘরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্ম হয় এবং তাদেরকেই সুবিধামতো সময়ে ইসলামী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তাদের সাথে গত ২৫ বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে মূলত মুসলিম নিধনযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
নাইন-ইলেভেন হামলার পরিণতি : ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে টুইন টাওয়ারের হামলায় প্রায় তিন হাজার নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় আমেরিকার নেতৃত্ব আফগানিস্তানে চালানো ২০ বছরের যুদ্ধে এক লাখ ৭৬ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আর ইরাকে আমেরিকার যুদ্ধে আরো তিন লাখ ১৫ হাজার মানুষ জীবন দিয়েছেন। এসব অগণিত বনি আদমের ৯৫ শতাংশই মুসলমান ছিলেন। অন্য দিকে সিরিয়ায় ‘আইএস’ নিধন যুদ্ধে আরো লাখো মুসলমান মৃত্যুবরণ করেছেন। আর সবমিলিয়ে উদ্বাস্তুর সংখ্যা হবে তিন কোটি ৮০ লাখের বেশি, যাদের প্রায় সবাই মুসলমান। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াটসন ইনস্টিটিউটের ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, ২০০১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চালানো অভিযানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৪৫ থেকে ৪৭ লাখ মানুষ মারা গেছে। এর মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের কারণে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার মানুষের (আজকের প্রত্রিকা : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭)!
আফগানিস্তান ও ইরাকে যুদ্ধগুলোর উদ্দেশ্য : এই যুদ্ধগুলোর ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা ‘ওয়ার অন টেরর’; কিন্তু মূল উদ্দেশ্যটিই গোপন ছিল বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। আক্রমণ চালিয়ে মুসলিম জনগোষ্ঠীগুলোকে ‘সন্ত্রাসী’ তকমা লাগিয়ে নিধন করা এবং পরবর্তী সময়ে যেকোনো মুসলিম সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী আত্মরক্ষার জন্য দাঁড়ালে তাদেরকেও সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে হত্যাযোগ্য করে তোলা। এভাবে সম্ভাব্য সব প্রতিরোধের উৎস নির্মূল করে মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস ও খনিজসম্পদ আহরণ করা এবং সাথে সাথে ভূরাজনৈতিক প্রভুত্ব কায়েম করা।
নাইন-ইলেভেন হামলার প্রভাব : টুইন টাওয়ারে হামলার পরপরই প্রেসিডেন্ট বুশ বলেছিলেন, এটি আরেক ‘ক্রুসেড’! যদিও তিনি পরবর্তী সময়ে সেই অবস্থা থেকে সরার চেষ্টা করেছেন; কিন্তু এটিকে পশ্চিমারা ক্রুসেড হিসেবেই দেখেছে। মার্কিন একতরফা প্রচারণায় পশ্চিমে ইসলামোফোবিয়া মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যা অদ্যাবধি চলমান আছে। পশ্চিমা বিশ্বে মুসলমানদের সংস্কৃতি, পোশাক, ধর্মীয় আচার-আচরণ হরহামেশা বিদ্রুপ এবং বর্ণবাদী বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। যেকোনো সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাতেই তদন্ত ছাড়াই মুসলমানদের দায়ী করা হচ্ছে। অসংখ্য স্থানে মুসলমানদের মসজিদ, মিলনকেন্দ্র, পাঠাগার ইত্যাদি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে। এসবের প্রতিবাদে কোথাও কোথাও কোনো হতাশ ও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। সেটিকে পুনরায় ইসলামী সন্ত্রাসবাদের সাথে যুক্ত করে মুসলমান সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসী বানানোর একটি চক্রাকার প্রক্রিয়ার মধ্যে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
এশিয়ার দেশগুলোতেও ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ ঢেউ লেগেছে। চীনের উইঘুর সম্প্রদায় রোমহর্ষক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ভারতের কাশ্মিরের রাষ্ট্রীয় বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়া হয়েছে। কাশ্মির স্বাধীনতাকামীদের সন্ত্রাসী হিসেবেই মোকাবেলা করে হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে। কাশ্মিরের তরুণ-যুবাদের সন্দেহ হলেই স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে নির্বিচারে নির্যাতন ও হত্যা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে ভারতের সাধারণ মুসলমানদের অবর্ণনীয় নির্যাতন করা হচ্ছে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে। অন্য দিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ ‘সন্ত্রাসী’ কর্মকাণ্ডের দায় চাপিয়ে পাকিস্তানের সাথে দুই দু’টি যুদ্ধ বাধিয়েছে ভারত।
সুদীর্ঘ আফগান যুদ্ধের বাইপ্রডাক্ট হিসেবে পাকিস্তানে এখনো সন্ত্রাসীরা রক্ত ঝরাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাদের বেলুচিস্তান এখন হুমকির মুখে পড়েছে। পাক বাহিনী এক অন্তহীন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে রয়েছে। এখানে মুসলমানরাই মুসলমানদের মারছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী দল ‘হামাসকে’ যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা দেয়ায় ইসরাইল বাহিনীকে বিশ্ববাসী গাজার এক লাখ নিরীহ মানুষ হত্যার ছাড়পত্র দিয়েছে ইসরাইলি সশস্ত্র বাহিনীকে। নিহতের অধিকাংশই নারী, শিশু এবং বৃদ্ধ। তিনটি বছর ধরে ইসরাইলি সশস্ত্রবাহিনী নিরস্ত্র গাজাবাসীদের যখন যেভাবে খুশি হত্যা করছে আর মানবাধিকারের রক্ষাকর্তা পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো অস্ত্র-গোলাবারুদ ও লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে। কারণ ফিলিস্তিনি এসব নিরস্ত্র নাগরিকরা সবাই সন্ত্রাসী! এ কেমন সংজ্ঞা— নিরীহ নিহতরা সন্ত্রাসী আর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত আক্রমণকারীরা আত্মরক্ষাকারী! পশ্চিমা সভ্যতা মানবাধিকার নিয়ে নির্লজ্জ তামাশা করছে।
আমাদের মাতৃভূমিতেও আমেরিকার নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়ার প্রভাব পড়েছে। হাসিনা সরকার ভারতের সহযোগিতায় আজীবন ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল হিসেবে ‘ওয়ার অন টেরর’ বা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধকেই কাজে লাগিয়েছে। তার সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধতাকারী ইসলামী দলগুলোকে হাসিনা জঙ্গিগোষ্ঠী বলে চিহ্নিত করেছে। জামায়াত-শিবিরসহ যত ইসলামী দল বা ব্যক্তিত্বকে তার হুমকি মনে হয়েছে, এরা সবাই তার কাছে ছিল জঙ্গি-সন্ত্রাসী। এমনকি নামাজি কিছু তরুণ ছাত্র একসাথে নৌকাভ্রমণে গেলেও তাদেরকে জঙ্গি বলে আটক করা হয়েছে। ভারতের মদদ এবং সরাসরি হস্তক্ষেপে সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদেরকে ‘বিচারিক সন্ত্রাসে’র মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। জামায়াত-শিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম, খুন এবং গুলি করে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। আর এসবই হাসিনা করেছে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধের যুদ্ধে’র অংশ হিসেবে।
নাইন-ইলেভেন হামলায় নিহত হয়েছিলেন তিন হাজার নিরপরাধ নাগরিক। পরবর্তী সময়ে মার্কিন প্রতিক্রিয়ায় আজ ২৫ বছরে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। পঙ্গু হয়েছেন আরো কয়েক লাখ। উদ্বাস্তু হয়েছেন কোটি মানুষ। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে— কারা কী উদ্দেশ্যে নাইন-ইলেভেন হামলার পরিকল্পনা করেছিল? এখন পর্যন্ত এর বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত বা গবেষণা হয়নি। একতরফা পশ্চিমাদের তথ্য বিশ্লেষণ এবং বয়ান আমরা চোখ বুজে বিশ্বাস করে নিচ্ছি। তবে নিরপেক্ষ বিশ্লেষক এবং বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ দেখলে সন্দেহের যথেষ্ট উপাদান সামনে আসে; কারা, কেন এবং কোন মিশন নিয়ে কিভাবে ইতিহাসের জঘন্যতম আক্রমণ করেছিল ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারিখে?
লেখক : নিরাপত্তা বিশ্লেষক
maksud2648@yahoo.com







