
গাজীপুরের টঙ্গীতে পুলিশের কাছ থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। রেললাইনের পাথর কুড়িয়ে পুলিশের ওপর বৃষ্টির মতো নিক্ষেপ করে হামলাকারীরা আসামিকে ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। এ সময় এক কনস্টেবল আহত হন। এ ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পুলিশ এ তথ্য জানায়। রোববার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে এ পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতাররা আসামিরা হলেন, আবুল হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল (৩০), মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৪), আহাম্মদ আলীর ছেলে নাইম মিয়া (২৮), আনিছুর রহমানের ছেলে সোহাগ (৩০) ও আব্দুল বারেকের ছেলে আদর আলী (২১)। তারা বিভিন্ন জেলা থেকে এসে টঙ্গীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
এর আগে, রোববার রাত ১১টার দিকে কেরানীরটেক মাদক বস্তি থেকে আসামি গ্রেফতারের পর টঙ্গী রেলওয়ে জংশন এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার টঙ্গী পূর্ব থানার এসআই হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কেরানীরটেক মাদক বস্তিতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে কুখ্যাত মাদক কারবারি রানী বেগমের ছেলে রাহুলকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে রাহুলকে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন এলাকা দিয়ে থানায় নেয়ার সময় একদল মাদক কারবারি পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে রেললাইনের পাথর তুলে নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে কনস্টেবল মাসুদ আহত হন। এসময় তারা পুলিশের কাছ থেকে রাহুলকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামি উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
পরে রোববার দিবাগাত রাতে দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, ‘পাঁচ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাহুলকে গ্রেফতারের পর থানায় নেওয়ার পথে সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা করে। তারা রেললাইনের পাথর কুড়িয়ে বৃষ্টির মতো নিক্ষেপ করে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’







