জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শাবিপ্রবিতে আলোচনা সভা
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শাবিপ্রবিতে আলোচনা সভা। নয়া দিগন্ত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য নতুন প্রজন্মকে ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভিসি অধ্যাপক ড. মো: খায়রুল ইসলাম।

Advertisement

তিনি বলেন, ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস। এই দিবসের মূল নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।’

শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

Advertisement

শাবিপ্রবি ভিসি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর এ দিবসটি পালনের সুযোগ দেয়া হয়নি। নতুন প্রজন্মকে এ দিবসের তাৎপর্য ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস কখনো জোর করে মুছে ফেলা যায় না। আজ সেটিই প্রমাণিত সত্য।’

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যিনি দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেন তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন। এমন মানুষদের ইতিহাস থেকে কখনো মুছে ফেলা যায় না। আমাদের সন্তানদের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। কারণ সঠিক ইতিহাস জানার মাধ্যমেই তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।’

এর আগে, সকাল ১০টার দিকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বৃক্ষরোপণ ও বর্ণাঢ্য র‌্যালির মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। ভিসি অধ্যাপক ড. মো: খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বে র‌্যালিটি প্রশাসন ভবন-১-এর সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিনি অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।

পরে মিনি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।

সিলেট সিটি প্রশাসক বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একদলীয় বাকশাল শাসনের অবসানের পর তিনি সব রাজনৈতিক দলের জন্য রাজনীতির অধিকার ফিরিয়ে দেন। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আবারো গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘সে সময় জিয়াউর রহমানকে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল। এমন সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তিনি মুক্তি লাভ করেন। এ ঘটনা দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তন করে। পরবর্তী সময়ে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জাতীয় ঐক্য, সুশাসন ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করেন।’

আলোচনা সভায় ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস : ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, রাষ্ট্রীয় সঙ্কট থেকে উত্তরণ এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মোরাদ।

উদযাপন কমিটির সভাপতি ও গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো: আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব ও অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো: মখলিছুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রো-ভিসি) অধ্যাপক ড. জি এম রবিউল ইসলাম। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার (ইনচার্জ) কালাম আহমদ চৌধুরী।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন লাইফ সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক মিয়া, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আয়েশা সিদ্দিকা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. দিলারা রহমান, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মেজর মো: আশরাফুল করিম, লাইব্রেরি প্রশাসক অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো: ছুফিয়ান চৌধুরী, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো: ফয়ছল আহমদ, শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক আদনান আহমেদ মোহন ও শাবি কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শাহপরাণ হলের পেশ ইমাম হাফিজ মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক। আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া দিনব্যাপী কোরআন খতম শেষে বাদ এশা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।