
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকের ওপর এখন শোভা পাচ্ছে কালিমায়ে তাইয়্যেবাহ। আরবি হরফে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ লেখা স্টিলের ফ্রেমে নতুন রূপ পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথ। একইভাবে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনেও স্থাপন করা হয়েছে কালিমা লেখা ফ্রেম। ইসলামী ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান ফটক ও কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এসব ফ্রেম স্থাপন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৪৭ বছরে প্রথমবারের মতো প্রধান ফটকের ওপর কালিমা স্থাপন করা হলো। আগাম কোনো ঘোষণা ছাড়াই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া এমন উদ্যোগে অবশ্য সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামী ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের পাশাপাশি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত বৈশিষ্ট্য ও স্বতন্ত্র পরিচয়কে সামনে আনতেই প্রশাসনের এমন উদ্যোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রধান ফটক ও কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে কালিমা স্থাপন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ত্বকী ওয়াসিফ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট ও মসজিদ গেটে কালেমা সংবলিত ফ্রেম লাগানোর ব্যাপারটি অবশ্যই ইতিবাচক, যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে পবিত্র এই বাক্যের পবিত্রতা রক্ষা করা। এটার পবিত্রতা যেন রক্ষা পায়, এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুনজর কামনা করছি।’
ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী জুনাইদুল মোস্তফা বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট ও কেন্দ্রীয় মসজিদে কালিমাখচিত ফ্রেম স্থাপন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে মেইন গেটের ফ্রেমটির নকশা গেটের সামগ্রিক স্থাপত্যশৈলীর সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়নি। এটা আরো নান্দনিক, সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হলে তা সবার কাছে আরো দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠত।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রকৌশল, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এখানে কোরআন-হাদিসসহ ইসলামী শিক্ষার বিভিন্ন বিশেষায়িত বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ইসলামী ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে প্রধান ফটক ও কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে কালিমা স্থাপন করা হয়েছে।’








