
প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়া পদত্যাগ করেছেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ডিজিটাল ব্যাংক ‘উয়েনো’ ধসে পড়ে লাখ লাখ গ্রাহকের নিজ অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অপসারণের তীব্র দাবির মুখে বৃহস্পতিবার তিনি সরে গেলেন।
বৃহস্পতিবার রেকর্ড করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, 'আমাদের দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি এবং আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই আমি পদত্যাগ করছি।'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত পেনিয়া এমন এক সময়ে পদত্যাগ করলেন, যখন বিরোধী দল কংগ্রেসে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু করতে একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকে এবং আন্দোলনকারীরাও তার পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে।
এর আগে বৃহস্পতিবার নিজ রক্ষণশীল দলের সদস্যদের সমর্থনও হারান পেনিয়া। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
আইনপ্রণেতারা পেনিয়ার বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত, পেনশন তহবিলের অপব্যবহার এবং ‘উয়েনো’ ধসের সাথে সম্পর্কিত প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছিলেন। উল্লেখ্য, এ ব্যাংকটি একটি ক্ষুদ্র ফিনটেক প্রতিষ্ঠান থেকে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল পরিচালনকারী একটি মাঝারি সারির ব্যাংকে পরিণত হয়েছিল।
আল জাজিরার ল্যাটিন আমেরিকা সম্পাদক লুসিয়া নিউম্যান বলেন, 'তার বিরুদ্ধে অন্ততপক্ষে চরম অবহেলা এবং ব্যাংকটির দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার তথ্য চেপে যাওয়ার ক্ষেত্রে যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে।'
তিনি আরো যোগ করেন, 'কংগ্রেস এখন প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট উভয়কেই অভিশংসিত করার চেষ্টা করছে এবং বর্তমানে অধিবেশন চলছে। আমি কথা বলার সময়ও বাইরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করছে এবং তারা কংগ্রেসকে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করার আহ্বান জানাচ্ছে; কারণ তারা চায় তাঁকে বিচারের আওতায় এনে অভিশংসিত করা হোক।'
প্যারাগুয়ের সেন্ট্রাল ব্যাংক সর্বনিম্ন সচ্ছলতার শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ার পর ‘উয়েনো’র নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করে। আর এটিই এমন এক সংকট তৈরি করে যার ফলে ৬৫ লাখ মানুষের এই দেশে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহক তাদের নিজ অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন।
পেনিয়া তার ভাষণে আরো বলেন, 'আমার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা হলো এই তহবিলগুলোর ফেরত পাওয়া যেন নিশ্চিত করা হয়, ডিপোজিট গ্যারান্টি ফান্ড যেন তার উদ্দেশ্য পূরণ করে এবং সব প্যারাগুয়ানের সম্পদের পাশাপাশি সরকারি তহবিলগুলো যেন সুরক্ষিত থাকে।'
তবে এ বিষয়ে ‘উয়েনো’র পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
সূত্র : আল জাজিরা
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








