
ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মুখে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার এক কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে। জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এ তথ্য জানিয়েছেন।
কিউবার ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আলোচনার সময় ওয়াল্টজ এবং কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিলার মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডার ঘটনার পরপরই এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এল। একই সময়ে, মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেয়ার ইঙ্গিত আরো জোরালোভাবে তুলে ধরছেন।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ওয়াল্টজ জানান, কিউবান প্রতিনিধি দলের ফার্স্ট সেক্রেটারিকে বহিষ্কারের নথিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তিনি ওই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে ধাক্কাধাক্কি করা এবং এক আমেরিকান কূটনীতিকের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টার অভিযোগ আনেন।
ওয়াল্টজ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কোনো আমেরিকানের গায়ে হাত তুললে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, সেক্রেটারি রুবিও এবং আমি—আমরা কেউই তা মেনে নেব না। এর পরিণাম ভোগ করতে হবে।’
বুধবার ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ বলেন, কিউবান কূটনীতিক আজই হাভানায় ফেরার জন্য বিমানে উঠবেন এবং এই দেশ ছেড়ে চলে যাবেন।
মঙ্গলবারের ভিডিওতে দেখা যায়, ওয়াল্টজ যখন কথা বলছিলেন, তখন কিউবান প্রতিনিধি দলের সদস্যরা টেবিলে আঘাত করছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রদ্রিগেজ পারিলাকে অধিবেশনে বক্তব্যের নিয়মসংক্রান্ত আপত্তি জানাতে শোনা যায়। পরে তিনি মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান এবং দু’জনই একে অপরের সাথে চিৎকার করে কথা বলতে থাকেন।
মঞ্চ থেকে ওয়াল্টজ চিৎকার করে বলেন, ‘এই ব্যক্তিকে মঞ্চ থেকে দূরে সরে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে দাঁড়িয়ে তিনি আমাকে ভয় দেখাতে পারবেন না, যেমনটা তিনি রাজনৈতিক বন্দীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন। আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি, পিছিয়ে যান!’
এ সময় ওয়াল্টজকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। ওয়াল্টজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক কিউবান কূটনীতিক ভিডিও ধারণ করা ফোনটি সরিয়ে দিচ্ছেন। ওই কূটনীতিক বলেছেন, ভিডিওধারণকারী ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত পরিসরে (পার্সোনাল স্পেস) হস্তক্ষেপ করছেন।
পরে জাতিসঙ্ঘে কিউবার মিশন মহাসচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে ওই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। চিঠিতে কিউবার মিশন অভিযোগ করে, এক মার্কিন কূটনীতিক কিউবান কূটনীতিকের ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকে ভিডিও ধারণ করেছেন। পরে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে বুধবার কিউবার ওপর দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাস হয়। প্রস্তাবের পক্ষে ১৩০টি, বিপক্ষে ১৭টি ভোট পড়েছে। ভোটদানে বিরত ছিল ২৫টি দেশ।
কাস্ত্রো সরকারকে পরিবর্তন করতে ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিউবার ওপর অর্থনৈতিক চাপ জোরদার করেছে। এমনকি গত কয়েক দিনে, হাভানার দীর্ঘদিনের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিষয়ে তারা প্রকাশ্যে কঠোর বক্তব্যও দিয়েছে।
শুক্রবার রুবিও এক্সে লিখেছেন, ‘যারা কিউবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান—এখনই তার উপযুক্ত সময়। ব্যর্থ প্রতিশ্রুতি, দুর্নীতি এবং মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত জীবন—এসবের বিপরীতে, সিআইএ-এর সাথে গোপনে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার এই সুযোগটি কাজে লাগান।’
সিআইএ-এর সাথে কিউবায় বিভিন্ন প্রকল্পের সাথে জড়িত কয়েকজন আমেরিকানের যোগাযোগ রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দু’টি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এসব আলোচনা মূলত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং রুবিওর ওই পোস্টের আগেই শুরু হয়েছিল।
রুবিওর এই জোরালো বার্তার পর আরো কিউবান নাগরিক দেশটির কমিউনিস্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টায় সিআইএ-এর সাথে যোগাযোগ করবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে রুবিওর পোস্টের কয়েক মুহূর্ত পরই সংস্থাটি স্প্যানিশ ভাষায় একটি ভিডিও প্রকাশ করে। এতে নিরাপদে কিভাবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাটির সাথে যোগাযোগ করতে হবে, সে বিষয়ে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেয়া হয়।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান থেকে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার বিষয়টি সামলাবে।
ট্রাম্প আরো বলেছেন, ‘আসলে কিউবার সাথে আমরা যা করব, তা হলো ইরান থেকে ফেরার পথে সেখানে যাব। ওই সুন্দর জাহাজগুলো নিয়ে আমরা কিউবার পাশ দিয়ে যাব। একটি জাহাজ উপকূল থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে থামাব। তখন তারা হাত তুলে আত্মসমর্পণ করবে। এরপর খেলাটি শেষ করার জন্য আমরা মার্কো রুবিওকে পাঠাব।’
সূত্র : সিএনএন
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








