
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপের ফুটবলার। ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে খেলেছেন। ফ্রান্স বিশ্বকাপেতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র্র দলের অধিনায়কই ছিলেন। এরপর কোচিং ক্যারিয়ারে এসে দুই দফা ফিলিপাইনের হেড কোচ ছিলেন। বাংলাদেশের দায়িত্ব নেয়ার আগে ছিলেন দক্ষিণ আমেরিকান দেশ গায়ানার দায়িত্বে। এই সার্টিফিকেটধারী কোচের প্রতি বাফুফের আগ্রব প্রবল হবেই। তাই স্প্যানিশ হাভিয়ার কাবরেরার পর্ব শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন টমাস ডুলিকেই দায়িত্ব দেন। লাল-সবুজদের হেড কোচ হয়েই প্রথম ইউরোপ জয়। জুনে সানমেরিনোর বিপক্ষে ২-১-এ জয় টমাস ডুলির দলের। যা এই জার্মান-আমেরিকানের বাফুফেতে চাকরিটা নিশ্চিত করে। ওই জয়ে হাওয়ায় ভাসতে থাকেন ডুলি। সাথে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু পরশু মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আসিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে হামজা চৌধুরীদের ০-৩ গোলে অসহায় আত্মসমর্পণ প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে ডুলির কোচিংকে। বাংলাদেশ দল এতটা বাজে খেলবে- তা কেউ আশা করেনি।
ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে মালয়েশিয়া। তাদের বিপক্ষে সেই ১৯৮২ সালের দিল্লি এশিয়ান গেমসের পর আর কোনো জয় নেই। পরশুর ম্যাচের আগ পর্যন্ত দুই দলের ১০ মোকাবেলায় বাংলাদেশ দুইবার ড্র করতে পেরেছিল, জয় একটিতে। সবই ঠিক আছে। তাই বলে রাকিব, সাদউদ্দিন, সোহেল রানাদের পারফরম্যান্স কেন এত বাজে হবে।
প্রশ্ন উঠেছে আসিয়ান কাপ খেলতে ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার আগে কেন বাংলাদেশ দলের এত ফুটবলার ইনজুরিতে পড়ল। চোটের জন্য নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার তপু বর্মণ দলের সাথে যেতেই পারেননি। ফরোয়ার্ড ফয়সাল আহমেদ ফাহিদ ও ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ ইনজুরিতে ছিটকে গেছেন। চোট নিয়েই ইন্দোনেশিয়া যান অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তাকে অবশ্য খেলানো হয়নি মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। ইনজুরি থেকে মাত্রই মুক্তি পেয়েছেন শেখ মোরসালিন। তাকে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বিরতির পর নামানো হয়। তপুর গ্যাপ পূরণের জন্য মাঠে ছিলেন তারিক কাজী ও শাকিল আহাদ তপু। জুনিয়র তপু ভুলে পা দিয়ে গোল খাইয়েছেন। আর তারিক কাজী তো বিরতির পর ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ফুটবলারদের এত ইনজুরির জন্য দায় কিন্তু কোচের। জাকার্তা গামী বিমানে উঠার আগে দলকে প্রস্তুত করার মতো যে সময় বাফুফে দিয়েছিল কোচ ডুলিকে তিনি তা ঠিক মতো কাজে লাগাতে পারেননি। তার ট্রেনিং স্টাইলের কারনেই এত ফুটবলার ইনজুরিতে পড়েছেন। লম্বা সময় ধরে ম্যাচের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের যেভাবে ট্রেনিংয়ে লোড দেয়ার কথা এবং এরপর সেই লোড রিকভারি করার জন্য যা করা দরকার তা করতে পারেননি এই ডুলি। ফলে এত ফুটবলারের ইনজুরিতে পড়া।
ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার আগে ফর্টিস এফসির সাথে ম্যাচ খেলেছিল জাতীয় দল। ক্লোজ ডোর ছিল বলে সেই খেলা দেখার কোনো সুযোগই ছিল না। তবে সেই ম্যাচে জাতীয় দলের চিত্র দেখে হতাশই হয়েছিলেন ফর্টিস এফসির সাথে সম্পৃক্ত একজন। তার মতে, ‘ওই ম্যাচে জাতীয় দল যদি প্রথমার্ধেই ছয় গোল হজম করত তাতে অবাক হওয়ার মত কিছু ছিল না। ম্যাচে বুঝতেই পারিনি জাতীয় দল আসলে কোন ফরমেশনে খেলতে চায়। কি কোচের কৌশল। তখনই সন্দেহ হচ্ছিল আসলে জাতীয় দল কেমন করবে ইন্দোনেশিয়ার মাটিতে।’ উল্লেখ্য, সেই ম্যাচে ফর্টিস ১-০তে হারিয়েছিল জাতীয় দলকে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোচের একাদশ গঠন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বড় হারটা বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়। ২০২২ সালেও এই দলটির কাছে তাদের মাঠে ১-৪ গোলে হেরেছিল হাভিয়ার কাবরেরা বাহিনী। অবশ্য সেই ম্যাচে বাংলাদেশ দলের দৃষ্ট্রিনন্দন খেলা ছিল। একটি গোলও দিতে পেরেছিল। আরো বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল। এবার মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দু’টি গোলের সুযোগ আসে। তা ৭৫ মিনিটের পর। একটি নষ্ট করেছেন হামজা। তার শট রুখে দেন বিপক্ষ কিপার। আর পরেরটি শাহরিয়ার ইমন পোস্টের দিকে না তাকিয়ে বোকার মতো মাথা নিচু করে শট নেন গোলরক্ষক সোজা।
বাংলাদেশ দলে যেমন প্রবাসী ফুটবলার ছিল তেমনি মালয়েশিয়া দলেও। তবে বাংলাদেশী ফুটবলারদের ভুল পাস এবং ভুলগুলোই সর্বনাশ করেছে। এখন আগামীকাল বাংলাদেশের পরের ম্যাচ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। নিকট অতীতে এই দলটির কাছে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে লাল-সবুজরা ১-২ ও ০-১ গোলে হেরেছিল। এখন টমাস ডুলি কি সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জেতাতে পারবেন দলকে। যদি সেখানেও ব্যর্থ হন ফের হারের বৃত্তেই থাকে লাল-সবুজরা তাহলে তা হবে নভেম্বরের সাফ ফুটবলের জন্য অশনি সঙ্কেত। কোচ অবশ্য বারবারই উল্লেখ করছেন এই আসিয়ান কাপ তার জন্য সাফের প্রস্তুতি। তবে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হতশ্রী পারফরম্যান্স সবাইকেই হতাশ করেছে।








