
ক্রীড়া ডেস্ক
নিজেদের মাঠ, চিরচেনা পরিবেশ, তার পরও হতাশা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না ইতালিকে। বিশ্বকাপ ফুটবলের চারবারের চ্যাম্পিয়ন দলটি গত তিন আসরে মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনেই হয়েছে ব্যর্থ। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের পর প্রথমবার মাঠে নেমেও সেই বৃত্ত থেকে বের হতে পারল না ইতালি। ২০২৬-২৭ উয়েফা নেশন্স লিগের শুরুটাও হলো হার দিয়ে। রোমের অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে গত পরশু বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে আজ্জুরিরা। এদিন তুরস্কের বিপক্ষে বিশেষ ম্যাচ ছিল ফ্রান্সের। কারণ এই ম্যাচ দিয়ে লেস ব্লুজদের ডাগআউটে অভিষেক হয় নতুন কোচ জিনেদিন জিদানের। আর প্রথম ম্যাচে নতুন কোচের অধীনে জয় পেল দলটি।
বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বারের মতো জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর নেশন্স লিগে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য ছিল ইতালির। কিন্তু রবার্তো মানচিনির দ্বিতীয় মেয়াদও শুরু হলো হার দিয়ে। ঘরের মাঠে বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে পরাজয়ে আরো একবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নিজেদের মাঠে শুরু থেকেই ছন্দ খুঁজে পেতে সমস্যায় ছিল ইতালি। বরং আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বেলজিয়াম। ২০ মিনিটে মিকা গডটসের গোলে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। বিরতির পর অবশ্য বল দখল ও আক্রমণে উন্নতি করে স্বাগতিকরা। কিন্তু কাক্সিক্ষত সমতা ফেরাতে পারেনি তারা। উল্টো ৬৯ মিনিটে দোদি লুকেবাকিওর দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বেলজিয়াম। ইতালির হয়ে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ না করলে ব্যবধান আরো বড় হতে পারত।
এই পরাজয়ের পর ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের বিবৃতিতেও ম্যাচটিকে কঠিন শুরুর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোচ রবার্তো মানচিনি স্বীকার করেছেন, প্রথমার্ধে বেলজিয়াম তাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আগামীকাল তুরস্কের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইতালি। এরপর আসছে কঠিন ম্যাচে ফ্রান্সের মতো প্রতিপক্ষও। ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর ও ধারাবাহিকতা ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ ইতালির।
এদিন ইলদিজ এন্টেগ্রে কোকেলি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই তুরস্কের বিপক্ষে বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় ফ্রান্স। কিন্তু গোলের খেলা ফুটবলে জালের দেখা পাচ্ছিল না জিনেদিন জিদানের দল। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে ম্যাচের ৫৪ মিনিটে। মাইকেল ওলিসের পাস থেকে বল জালে পাঠিয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে তার ৬৭তম গোল। তবে গোলের পরই চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় ফরাসি অধিনায়ককে, ফলে জয় পেলেও উদ্বেগ নিয়ে ম্যাচ শেষ করে ফ্রান্স। শেষ দিকে আরো বিপাকে পড়ে তুরস্ক। গোলরক্ষক চাকির লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দশজনের দলে পরিণত হয় স্বাগতিকরা। এরপর আর সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ১-০ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।
এদিকে রাতের আরেক আলোচিত ম্যাচে হাঙ্গেরিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ইউক্রেন। জর্জিয়ার বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে ১-০ গোলে জিতেছে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড। সুইডেন ২-১ গোলে হারিয়েছে রোমানিয়াকে। পোল্যান্ড ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ম্যাচ শেষ হয়েছে গোলশূন্য ড্রতে। আর্মেনিয়া ২-০ গোলে লাটভিয়াকে এবং মন্টেনেগ্রো ২-১ গোলে সাইপ্রাসকে হারিয়েছে।








