
ক্রীড়া প্রতিবেদক
শুরুটা ছিল হতাশার! শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়া ও স্বাগতিক জাপানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হার। তবে সেখানেই থেমে থাকেনি বাংলাদেশ। ঘুরে দাঁড়িয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর এবার ইন্দোনেশিয়াকেও হারাল রোমান-জিমি-আমিরুলরা। তাতে এশিয়ান গেমসে পুরুষ হকিতে টানা দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেল লাল-সবুজের দল। ৩-১ গোলে জয় বাংলাদেশ দলের।
গতকাল সকালে গিফুর মাঠে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক হয়ে উঠলেন আমিরুল ইসলাম। পেনাল্টি কর্নারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১১ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন। প্রথম কোয়ার্টারে পাওয়া সেই লিড দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও ধরে রাখে বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণ সামলে ১-০ ব্যবধানেই বিরতিতে যায় দল।
তৃতীয় কোয়ার্টার শুরু হতেই আবারো আঘাত বাংলাদেশের। নিজের দ্বিতীয় গোল করে আমিরুল ব্যবধান বাড়িয়ে দেন ২-০। এরপর ৩৭ মিনিটে আসে ম্যাচের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। ফিল্ড গোল করে বাংলাদেশের জয়কে আরো শক্ত ভিত্তি দেন রাসেল মাহমুদ জিমি।
দীর্ঘ দেড় বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর আবারো আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরেছেন জিমি। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে গোল করে নিজের উপস্থিতি জানান দিলেন অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড। তার গোলের পর বাংলাদেশের জয় তখন সময়ের অপেক্ষা। শেষ কোয়ার্টারে ইন্দোনেশিয়া একটি গোল শোধ করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আর হাতছাড়া করেনি বাংলাদেশ। ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে ফাতু গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়।
এশিয়ান গেমসে প্রথম দুই ম্যাচের ফল বাংলাদেশের জন্য ছিল কঠিন। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ এবং জাপানের কাছে ৬-১ গোলে হারের পর দলটি ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫-১ গোলের জয় দিয়ে। এবার ইন্দোনেশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেই প্রত্যাবর্তনের গল্প আরো এগিয়ে নিলো বাংলাদেশ। তবে সামনে অপেক্ষা করছে আরো কঠিন পরীক্ষা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামীকাল শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে পাওয়া এই জয় আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও ভারতের বিপক্ষে লড়াই হবে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ!
এদিকে বক্সিং ৫৫ কেজিতে মঙ্গোলিয়ার খারখু বিলগুনসাইখানের কাছে ৫-০ তে হেরেছেন বাংলাদেশের বক্সার উৎসব আহমদ। অ্যারচারির কম্পাউন্ড নারী বিভাগ দলগততে গতকাল বাংলাদেশ দল কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে ২০৬৭ স্কোর করে দশম হয়েছে। রিকার্ভ পুরুষ দলগততে বাংলাদেশ ১৯৮৪ স্কোর করে পেয়েছে ১১তম স্থান। রিকার্ভ এককে আবদুর রহমান আলিফ ৬৫৩ স্কোর করে ৩৮তম এবং রামকৃষ্ণ সাহা ৬৭৮ স্কোর করে ১২তম এবং রাকিব মিয়া ৬৫৩ স্কোর করে ৩৯তম হয়েছেন।








