
ক্রীড়া প্রতিবেদক
আরেকটি পদকের হাতছানি। স্বর্ণের লড়াই থেকে ছিটকে গেলেও এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জটা তো কম প্রাপ্তি নয়। সেই পদকের লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল। নকআউটের মঞ্চে দুই দলের লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা। তার ওপর চার বছর আগে হাংঝু এশিয়ান গেমসে এই পাকিস্তানকেই হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারো সেই স্মৃতি উজ্জীবিত করে মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
চার বছর আগে যে লড়াইয়ে বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ জিতেছিল, এবারো প্রতিপক্ষ সেই পাকিস্তান। পার্থক্য শুধু সময়ের। মঞ্চ একই রকম, পদকও একই- কিন্তু গল্পটা নতুন করে লেখার অপেক্ষায়। সকাল ৯টায় মাঠে নামবে দুই দল; লড়াইটা শুধু তৃতীয় হওয়ার নয়, হাংঝুর স্মৃতিকে আবারো জাগিয়ে তোলার।
তবে পরিসংখ্যানের পাল্লা পুরোপুরি বাংলাদেশের দিকে নয়। আন্তর্জাতিক টি-২০-এ এখন পর্যন্ত ২১ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। বাংলাদেশ জিতেছে পাঁচ ম্যাচে, পাকিস্তানের জয় ১৬টিতে। অর্থাৎ অতীতের সামগ্রিক লড়াইয়ে পাকিস্তানেরই পরিষ্কার আধিপত্য। তবে সাম্প্রতিক হিসাব আবার বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে। চলতি বছরের ২০ জুন সাউদাম্পটনে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ১২৩/৬ করার পর পাকিস্তানকে থামিয়ে দিয়েছিল ১০০/৮-এ।
এশিয়ান গেমসের মঞ্চে অবশ্য গল্পটা একটু অন্যরকম। ২০২৩ সালে হাংঝুতে ব্রোঞ্জের ম্যাচে পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে মাত্র ৬৪ রান তুলেছিল। বাংলাদেশের স্বর্ণা আক্তার ১৬ রানে ৩ উইকেট এবং সানজিদা আক্তার ১১ রানে নেন ২ উইকেট। জবাবে বাংলাদেশ ১৮.২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। স্বর্ণা অপরাজিত ছিলেন ১৪ রানে। সেই জয়েই বাংলাদেশের ঝুলিতে এসেছিল এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ।
এবারের আসরে দুই দলই সেমিফাইনালে গিয়ে থেমেছে। পাকিস্তান ১৭৭/৪ রান করেও শ্রীলঙ্কার কাছে ৮ উইকেটে হেরে স্বর্ণের লড়াই থেকে ছিটকে যায়। বাংলাদেশকে আরো বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ভারত। ১৯৫/৪ করার পর বাংলাদেশকে ৮১ রানে অলআউট করে ১১৪ রানের জয় পেয়েছে তারা।
তাই ব্রোঞ্জের ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আগের ম্যাচের হতাশা ঝেড়ে নতুন করে শুরু করা। ব্যাটিংয়ে দায়িত্ব নিতে হবে টপ অর্ডারকে, আর বোলিংয়ে স্পিনারদের পাশাপাশি পেসারদেরও শুরুতেই চাপ তৈরি করতে হবে। পাকিস্তানের দলে ফাতিমা সানা, মুনিবা আলী, গুল ফিরোজা, শাওয়াল জুলফিকার ও নাশরা সান্ধুর মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছেন। বাংলাদেশের ভরসা নিগার সুলতানা, দিলারা আক্তার, রাবেয়া খান, নাহিদা আক্তার, স্বর্ণা আক্তারদের ওপর।







