স্নায়ুক্ষয়ী ২ জয়ে পদকের আশা

ক্রীড়া প্রতিবেদক
আগে প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য কোনো আতঙ্কেই ছিল না দক্ষিণ কোরিয়া ও চাইনিজ তাইপে। তবে এখন তারা কাবাডিতে বেশ উন্নতি করেছে। ২০২৩ সালের হ্যাংজু এশিয়ান গেমসে এই চাইনিজ তাইপের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মিজানুর রহমানদের। কাল জাপানের নায়োগাতে সেই হারের প্রতিশোধ। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর কাল চাইনিজ তাইপেকে ৪৮-৪৭ পয়েন্টে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এটি ছিল দিনের দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রথম খেলায় বাংলাদেশ ৩৯-৩৫ পয়েন্টে হারায় দক্ষিণ কোরিয়াকে। এই দুই স্নায়ুক্ষয়ী জয়ের পর আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জাপান। এই ম্যাচে জিতলে সেমিতে উঠবে এশিয়ান গেমস কাবাডিতে তিন রৌপ্য ও দুই ব্রোঞ্জ জয়ী লাল-সবুজরা। আর গেমসের নিয়ম অনুযায়ী সেমিতে উঠলেই পদক। সুতরাং ভারতের মুখোমুখি হওয়া আগে আজ জাপানকে হারাতে পারলেই সেমিতে উঠা ও পদক জয় নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। কাল স্বাগতিক জাপান ২৪-৩৯ পয়েন্টে হেরেছে ভারতের কাছে।  আগামীকাল ভারতের সাথে ম্যাচ বাংলাদেশের। কাল বাংলাদেশ দু’টি ম্যাচ খেললেও ভারত ও জাপান একটি করে ম্যাচ খেলেছে।
এবারের এশিয়ান গেমসে পদকের আশা করা হয়েছিল মূলত কাবাডি ও ক্রিকেটে। নারী ক্রিকেটে ভারতের কাছে সেমিতে হেরে বাংলাদেশের স্বর্ণ জয়ের আশা শেষ। এখন আজ ব্রোঞ্জ জয়ের ম্যাচে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। পুরুষ ক্রিকেট এখনো শুরু হয়নি। অন্য ডিসিপ্লিনে হারের দিনের মধ্যে পুরুষ কাবাডিতে এই জয় বিশাল অর্জনই। এখন আসল কাজটি হলেই হলো।
ঢাকা থেকে যাওয়ার আগেই কাবাডি খেলোয়াড় মিজানুর রহমান কোচ বাদশা মিয়া, আবদুল জলিলরা জানিয়েছিলেন তাদের মূল লক্ষ্যই হলো এশিয়ান গেমসে হারানো পদক পুনরুদ্ধার। সেই মিশনে গতকাল সকালে উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জয়টা তাদের বিপক্ষে আগের হারের বদলাও। ২০১৪ সালের ইনচন এশিয়ান গেমসে কোরিয়ার কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ দল। কাল জাপানের মাটিতে প্রথমার্ধে বাংলাদেশ দল ১৭-১৬ পয়েন্টে লিড নিয়েছিল। এতেই বুঝা যায় কী চ্যালেঞ্জই না মিজান, দীপায়নদের দিকে ছুড়ে দিয়েছিল কোরিয়ানরা। তবে সমান তালে লড়লেও জলিল-বাদশার শিষ্যরা ঠিকই নিজেদের দাপটা ধরে রাখে। সেই সূত্র ধরেই বিরতির পরও লাল-সবুজদের দাপট ছিল। এই অর্ধে ২২-১৯ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা। এতেই দুই অর্ধ মিলে ৩৯-৩৫ পয়েন্টে জয়।
একই দিনে দুই টাফ ম্যাচ। ফলে বিকেলে পরের ম্যাচে ক্লান্ত বাংলাদেশ দলকে মুখোমুখি হতে হয় চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে। কারণ তাইপের আগে কোনো খেলা ছিল না কাল। এর পরও বাংলাদেশ দল প্রথমার্ধে ২৪-২০ পয়েন্টে লিড নেয় তাইপের বিপক্ষে। অবশ্য বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে চাইনিজ তাইপে। দাপটের সাথে খেলেই তারা স্কোর ২৭-২৪ করে ফেলে। কিন্তু বাংলাদেশ দল প্রথমার্ধের পয়েন্টে এগিয়ে ছিল বলেই রক্ষা পেয়েছে। তাই ১ পয়েন্টের ব্যবধানে জিতে সেমির দরজায় কড়া নাড়ছে।
জাপানের নাগোয়া থেকে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু জানান, চাইনিজ তাইপের মতো অতো শক্তিশালী দল মনে হয়নি জাপানকে। তাই জাপানিদের বিপক্ষেও জয়ের আশা করছি।
উল্লেখ্য, অপর গ্রুপে আছে ইরান, পাকিস্তান, নেপাল ও থাইল্যান্ড।
বাংলাদেশ কাবাডি দল ২০০৬ সালের দোহা এশিয়ান গেমসের পর আর পদক জিততে পারেনি। ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৩ সালের ব্যর্থতাকে ছাপিয়ে এবার পদক পাওয়ার জন্য আজ জাপানকে কি হারাতে পারবে। কাল ভারতের বিপক্ষে জাপানিদের লড়াই কিন্তু বলে দিচ্ছে লাল-সবুজদের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ এই জাপানিরা।
পুরুষ কাবাডির সেমিফাইনাল ২৫ সেপ্টেম্বর আর ফাইনাল ২৬ তারিখে।