শেফালির রানই করতে পারেনি টাইগ্রেসরা

 ক্রীড়া প্রতিবেদক
এক শেফালির কাছেই কুপোকাত বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট শিবির। তার একার রানকেই টপকাতে পারেনি জ্যোতি বাহিনী। এক প্রান্তে ব্যাট হাতে আগুন ঝরাচ্ছেন শেফালি ভার্মা। ম্যাচের অন্য প্রান্তে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে বাংলাদেশ। এ যেন একই ম্যাচে দুই দলের দুই রকম গল্প! ভারতের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বর্ণস্বপ্ন যখন বড় হচ্ছিল, শেফালির ব্যাটের ঝড়ে সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত চুরমার হয়ে গেল! এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ১১৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে ভারত। আর বাংলাদেশের ১৯৬ রানের লক্ষ্যের জবাব থেমেছে মাত্র ৮১ রানে।
নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে শুরুটা ছিল ভারতের জন্য বিস্ফোরক। শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা যেন বাংলাদেশের বোলিংকে পাত্তাই দিলেন না। প্রথম ছয় ওভারেই ভারতের স্কোরবোর্ডে জমা পড়ে ৭২ রান। পাওয়ার প্লের শেষ বলে নাহিদা আক্তারের বলে মান্ধানা ৩৭ রানে ফিরলেও শেফালি তখনো ক্রিজে দাঁড়িয়ে। এরপর শুরু হয় একার রাজত্ব! হারমানপ্রীত কৌরকে সাথে নিয়ে শেফালি গড়েন ৯৪ রানের ঝড়ো জুটি। ২৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পরও থামেননি। বরং শেষ পর্যন্ত এমন এক ইনিংস খেললেন, যা বাংলাদেশের সেমিফাইনালকে কার্যত একতরফা করে দিয়েছিল।
শেষ ওভারের আগে তার রান ৯৮। শতক থেকে দরকার মাত্র দুই। শেষ ওভারের প্রথম তিন বলে স্ট্রাইকই পেলেন না। চতুর্থ বলে এক রান নিয়ে পৌঁছালেন ৯৯-এ। শেষ বলে আরেকটি রান-আর তাতেই প্রথম আন্তর্জাতিক সাদা বলের শতক পূর্ণ করলেন ২২ বছর বয়সী এই ওপেনার! ৪৯ বলে ১০০। ৯ টি ছক্কা। তিনটি চার। শেফালির সেই ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে ২০ ওভারে চার উইকেটে ১৯৫ রান তোলে ভারত। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সানজিদা আক্তার মেঘলা চার ওভারে ২৫ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। রাবেয়া, মারুফা ও নাহিদাও একটি করে উইকেট পেলেও রান আটকাতে পারেননি।
১৯৬ রানের লক্ষ্য। কিন্তু শুরু থেকেই যেন রান তাড়ার বদলে উইকেট বাঁচানোর লড়াই হয়ে গেল বাংলাদেশের জন্য। পাওয়ার প্লের মধ্যেই তিন উইকেট নেই। ৩৮ রানে তিন। এরপর ৪৯ রানে পাঁচ। প্রথম সাত ব্যাটারের মধ্যে দিলারা আক্তার ও শারমিন আক্তার ছাড়া কেউ দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। দিলারা ২৩ বলে ২৭ করে কিছুটা আশা দেখিয়েছিলেন। চারটি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসটিও বেশিক্ষণ টেকেনি। তার বিদায়ের পর বাংলাদেশের ইনিংস দ্রুতই ভেঙে পড়ে। শেষ দিকে সুলতানা খাতুনের অপরাজিত ১২ রান শুধু স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের পতনের শেষ সংখ্যাটা একটু বাড়িয়েছে। ১৫.৪ ওভারেই ৮১ রান! শেফালি একাই যত রান করেছেন, বাংলাদেশ দল তার চেয়েও ১৯ রান কম করেছে। ভারতের হয়ে দীপ্তি শর্মা ও নন্দিনী শর্মা তিনটি করে উইকেট নেন। শ্রী চরণী নেন দু’টি। ভারতের বোলারদের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অসহায় চিত্রটা শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানের ব্যবধানেই ফুটে উঠেছে।
এই হার বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি সেমিফাইনাল হার নয়। এর আগে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালেও একই প্রতিপক্ষের সামনে একই পরিণতি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের জয় এখন টানা ১০ ম্যাচ। তবে স্বর্ণের দরজা বন্ধ হলেও পদকের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি! আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে জিতলে সেমিফাইনালের হতাশার পরও এশিয়ান গেমস থেকে পদক নিয়ে ফিরতে পারবে নিগার সুলতানার দল। আর সেই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে টি-২০ অধিনায়ক হিসেবে নিগার সুলতানা জ্যোতির শেষ ম্যাচ। ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাই বাংলাদেশের গল্পটা শেষ হয়েছে হতাশায়। কিন্তু এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের গল্প এখনো শেষ হয়নি!