গ্রিনল্যান্ড ঘিরে কৌশলগত চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ওয়াশিংটন

 বিবিসি
আর্কটিক অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের বৈশ্বিক লড়াইয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বেশ কয়েক মাসের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা ও বাণিজ্যিক শুল্কারোপের হুমকির পর শেষ পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তাসংক্রান্ত একটি স্থায়ী চুক্তিতে সম্মত হয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই দ্বীপে রাশিয়া ও চীনসহ ন্যাটোর বহির্ভূত যেকোনো শক্তির সামরিক তৎপরতা ও আধিপত্য পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, চুক্তিটির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার চিরস্থায়ী সুযোগ নিশ্চিত হচ্ছে। এর আওতায় গ্রিনল্যান্ডে বড় পরিসরে সেনা মোতায়েন, বিমান চলাচল এবং সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতি কিংবা কৌশলগত অবকাঠামোতে বিনিয়োগ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও এই নিরাপত্তা কাঠামোর শর্তগুলো বহাল থাকবে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে উত্তর আমেরিকা ও মেরু অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত এই দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র চলাচলের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ভৌগোলিক পথ এটি।
তা ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলতে থাকায় গ্রিনল্যান্ডের মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ সোনা, হীরা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং বিশেষ করে দুর্লভ খনিজ উপাদানের (রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস) সন্ধান মিলছে।