শুরুতেই দুঃস্বপ্ন নারী হকি দলের

 ক্রীড়া প্রতিবেদক
ইতিহাসের দরজা খুলেছিল পাঁচ মাস আগে। এশিয়ান গেমসে প্রথমবার জায়গা করে নিয়ে বাংলাদেশের নারী হকি দল লিখেছিল নতুন অধ্যায়। কিন্তু সেই ইতিহাসের মঞ্চে পা রাখতেই অপেক্ষা করছিল নির্মম বাস্তবতা। এশিয়ান গেমসে অভিষেকের ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের তিন নম্বর চীনের কাছে ০-১৩ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা!
বিশ্রামের সময়ও পাচ্ছেনা দল। চীনের বিপক্ষে ১৩ গোল হজমের পরদিনই অর্থাৎ আজ দ্বিতীয় ম্যাচে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া, ২৫ সেপ্টেম্বর কাজাখস্তান এবং ২৭ সেপ্টেম্বর চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে খেলবে তারা। পুল ‘এ’-তে চীন, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কাজাখস্তান ও চাইনিজ তাইপের মতো প্রতিপক্ষের সাথে বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাচই আলাদা পরীক্ষা। চীনের বিপক্ষে প্রথম পরীক্ষায় বড় ব্যবধানে হারলেও বাংলাদেশের এশিয়ান গেমস অভিযান এখানেই শেষ নয়!
জাপানের কাকামিগাহারার গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে গতকাল ম্যাচের শুরুতে অবশ্য প্রতিপক্ষকে সামলেই খেলছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই প্রতিরোধ টিকেছে মাত্র তিন মিনিট। চতুর্থ মিনিটে ঝং জিয়াকির গোলের পর যেন খুলে যায় বাংলাদেশের রক্ষণদুর্গ। এরপর একের পর এক আক্রমণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় চীন।
প্রথম কোয়ার্টারেই চারবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠায় চীনারা। ঝং জিয়াকির পর ১২ ও ১৮ মিনিটে দু’টি গোল করেন চেন ইয়াং। ১৩ মিনিটে লি হংয়ের গোলের পর একই মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে আবারো গোল করেন ঝং জিয়াকি। প্রথম ১৫ মিনিটেই ম্যাচের চিত্র অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যায়।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। ২৭ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করেন ঝাং ইং। দুই মিনিট পর পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন ঝং জিয়াকি। ৩২ মিনিটে মা নিংয়ের ফিল্ড গোলের পর বিরতিতে ৭-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় চীন।
বিরতির পরও গল্প বদলায়নি। ৩৬ মিনিটে ইয়াং লিউ ও ৩৮ মিনিটে জু মেইরংয়ের গোলে চীনের ব্যবধান পৌঁছে যায় দুই অঙ্কে। ৪১ মিনিটে চেন ই গোল করলে বাংলাদেশের বিপদ আরো বাড়ে। শেষ কোয়ার্টারে জু মেইরং ও চেন ই আরো একটি করে গোল করে চীনের জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচের পরিসংখ্যানেও দুই দলের ব্যবধানটা স্পষ্ট। পুরো ম্যাচে চীন পেয়েছে ১৫টি পেনাল্টি কর্নার ও দু’টি পেনাল্টি স্ট্রোক। বিপরীতে বাংলাদেশ একটিও পেনাল্টি কর্নার আদায় করতে পারেনি। তবে বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচের গল্প শুধু ১৩ গোলের হার নয়। মাত্র পাঁচ মাস আগে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করাই ছিল এই দলের সবচেয়ে বড় অর্জন। এ বছরের এপ্রিলে জাকার্তায় বাছাইপর্বে শেষ ম্যাচে হংকংকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল মেয়েরা।
সেই দলটিই এবার মূল এশিয়ান গেমসের মঞ্চে। আর অভিষেকেই সামনে পেয়েছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলকে। বিশ্ব হকিতে চীনের অবস্থান, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে রৌপ্যজয়ের মতো অর্জনের সামনে বাংলাদেশের ব্যবধানটা ছিল প্রত্যাশিতভাবেই বড়।
বাংলাদেশের প্রস্তুতির বাস্তবতাও আলাদা। দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড় সম্প্রতি চীনে জুনিয়র নারী এশিয়া কাপে অংশ নিয়ে সেখান থেকে সরাসরি জাপানে গেছেন। পরে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন অধিনায়ক অর্পিতা পাল, দুই গোলরক্ষক মহুয়া ও হিমাদ্রি সুখ এবং ডিফেন্ডার নীলাদ্রি নীল, ঋতু আক্তার ও নিনিসেন রাখাইন। ফলে এত অল্পসময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ দল হিসেবে নিজেদের গুছিয়ে নেয়াটাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।