
নানা সমস্যায় জর্জরিত প্রস্তুতি পর্বের পর শনিবার জাপানে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছে ২০তম এশিয়ান গেমস। অলিম্পিকের চেয়েও বেশি সংখ্যক অ্যাথলেটের অংশ নেয়া এই বহুমাত্রিক ক্রীড়া আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া হয়েছে ঐক্যের বার্তা।
তবে ৩০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার নাগোয়ার পালোমা মিজু স্টেডিয়ামে বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা ছিল। অল্পসংখ্যক দর্শক বর্ণিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করেন, যেখানে মূল মঞ্চটি তৈরি করা হয়েছিল বিশাল একটি হৃদয়ের আকৃতিতে।
বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় শুরু হয় উদ্বোধনী আয়োজনের মূল আনুষ্ঠানিকতা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ থাকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর এ্যাথলেট ও কর্মকর্তাদের মার্চ পাস্টের আয়োজনকে ঘিড়ে। উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে সকলেই নিজ নিজ দেশের এ্যাথলেটদের স্টেডিয়ামে আগমনে হয়েছেন উচ্ছসিত।
ইংরেজী বর্ণমালার ক্রমানুসারে বাংলাদেশ স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে আফগানিস্তান ও বাহরাইনের পর তিন নম্বরে। বাংলাদেশের শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার প্রিয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন।
এবারের গেমসের ৪৩টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে বাংলাদেশ ২২টিতে অংশগ্রহণ করছে । এ্যাথলেট ও কর্মকর্তা মিলিয়ে প্রায় আড়াইশ জনের কন্টিনজেন্ট বাংলাদেশের।
জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞী স্টেডিয়ামে আসন গ্রহণ করলে তাদের সম্মানজনক অভ্যর্থনা জানানো হয়। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
নাগোয়া ও আইচি প্রিফেকচারে আয়োাজিত এই আসরে সাতটি খেলায় ২০২৮ অলিম্পিকের জায়গা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অংশ নিচ্ছেন বিশ্বখ্যাত তারকা ও দ্রুত উঠে আসা প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা।
তবে গেমসের আগে ধারাবাহিক নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল আয়োজনটি। ১১ হাজারের বেশি অ্যাথলেট ও ছয় হাজার কর্মকর্তা আয়োজকদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেন। সবাইকে থাকার ব্যবস্থা করতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হয়।
গত সপ্তাহে রেকর্ড বৃষ্টিতে নাগোয়ার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। এর মধ্যে পূর্ব জাপানের দিকে এগিয়ে আসছে একটি টাইফুন, যা আগামী কয়েক দিনে আরো বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া (ওসিএ) বলেছে, ৪৫টি দেশ ও অঞ্চল অংশ নেয়া মহাদেশের এই প্রধান ক্রীড়া আসরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে ওসিএ সভাপতি শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল-থানি বলেন, ‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বার্তা হলো, এশিয়ার বিভিন্ন সঙ্ঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সঙ্ঘাতের বিরুদ্ধে এশিয়ার ঐক্য দেখানো ও তুলে ধরা।’
তবে আয়োজকেরা সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বললেও স্টেডিয়ামের সারি সারি আসন ফাঁকা ছিল।
স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় স্বাভাবিকভাবেই স্বাগতিক জাপানের অ্যাথলেটদের বিশাল বহরের দিকে সকলের নজড় ছিল। এরপর দর্শকদের সবচেয়ে বেশি অভিবাদন পেয়েছেন চীনের প্রতিযোগীরা।
২০২৩ সালে কোভিডের কারণে বিলম্বিত সর্বশেষ হাংঝু এশিয়ান গেমসে নিজেদের মাটিতে ২০১টি স্বর্ণসহ মোট ৩৮৩টি পদক জিতেছিল চীন। এবারো পদক তালিকায় শীর্ষে থাকার প্রত্যাশা তাদের।
বাস্কেটবল, ফুটবল ও ক্রিকেটসহ কয়েকটি খেলা ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
১৯৫১ সালে শুরু হওয়া এশিয়ান গেমসে বরাবরের মতোই অ্যাথলেটিকস ও সাঁতারের মতো অলিম্পিকের গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলোর পাশাপাশি সেপাক টাকরো ও কাবাডির মতো আঞ্চলিক জনপ্রিয় খেলাও থাকবে।
থাকছে ই-স্পোর্টস, ব্রেকড্যান্সিং ও বিএমএক্স সাইক্লিং। প্যাডেল ও এমএমএ প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে যুক্ত হয়েছে। বাসস







