
ভারত ছাড়ার নির্দেশসংবলিত সরকারি নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেতা ইমরান খান। তার দাবি, ছাত্র বিক্ষোভের বিষয়ে কৌতূহল থেকেই গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। কোনো বিক্ষোভ সংগঠিত করা বা তাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্য তার ছিল না।
আদালতে দাখিল করা রিট আবেদনে ইমরান খান বলেছেন, পুলিশ তাকে ওই এলাকা সংরক্ষিত বলে জানালে তিনি সেখান থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের গাড়ির দিকে ফিরে যাওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা তাকে ঘিরে ধরেন। এরপর সেখানে হট্টগোলের সৃষ্টি হয় এবং পুলিশ তাকে আটক করে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর জারি করা নোটিশে ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিনেতা ওই নোটিশকে ‘স্বেচ্ছাচারী’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এতে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা নোটিশ জারির কারণ উল্লেখ করা হয়নি। কোনো শুনানির সুযোগ না দিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও আবেদনে দাবি করেছেন তিনি।
কোনো বিক্ষোভে জড়িত নই
২০০৮ সালের রোমান্টিক কমেডি ‘জানে তু... ইয়া জানে না’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া ইমরান খান তার আবেদনে বলেছেন, ঘটনার দিন তিনি যখন আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে পৌঁছান, তখন সেখানে কোনো বিক্ষোভ চলছিল না। পুলিশ সদস্য ও সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা ছাড়া সেখানে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি ছিল না বলেও দাবি করেছেন তিনি।
আবেদনে বলা হয়েছে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বান্দ্রা-ওরলি সি-লিংক দিয়ে যাত্রা করেন ইমরান। বিকেল ৫টার দিকে নানা চক এলাকায় পৌঁছে তিনি ময়দানের দিকে যাওয়ার রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ দেখতে পান। রাস্তা বন্ধের কারণ জানতে তিনি পুলিশের সাথে কথা বলেন।
পিটিশনে আরো বলা হয়েছে, বিক্ষোভ আয়োজন বা পরিচালনার সাথে যুক্ত কোনো সংগঠন কিংবা প্রতিষ্ঠানের সাথে ইমরানের সংশ্লিষ্টতা নেই।
সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা তাকে চিনে ফেললে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এ সময় তিনি বলেন, তার কোনো দাবি নেই। শহরের একজন বাসিন্দা হিসেবে মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা কেন সীমিত করা হচ্ছে এবং তাদের কণ্ঠস্বর কেন দমন করা হচ্ছে, তা জানতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি।
আবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা ১৯ মিনিটের দিকে পুলিশ কোনো উসকানি ছাড়াই তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের আটক করে। পরে তাদের ইয়েলো গেট থানায় নেয়া হয় এবং একপর্যায়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
এফআইআরের অভিযোগ নিয়ে আপত্তি
ঘটনার দিন রাতেই মুম্বাইয়ের গামদেবী এলাকার পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করে। এতে ইমরান খানের নামও অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে।
এফআইআরে অভিযোগ করা হয়েছে, ইমরান খানসহ অন্যরা বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ময়দানে জড়ো হয়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ জনের একটি জনতাকে উসকে দিয়েছিলেন। তবে আবেদনে এ অভিযোগের বিরোধিতা করে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে এ বর্ণনা বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিক্ষোভটি ছিল বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যোগসাজশের মাধ্যমে নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে চলমান প্রতিবাদের অংশ। প্রধানত নয়াদিল্লি ও মুম্বাইসহ বিভিন্ন স্থানে এ নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। তবে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন উভয়ই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সাধারণ বিদেশী নই
ইমরান খানের আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হলো, তিনি ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী। জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক হলেও দুই বছর বয়স থেকে ভারতে বসবাস করছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ভারত দ্বৈত নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দেয় না। তবে ওসিআই কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট শর্তে ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসসহ বিভিন্ন সুবিধা পেয়ে থাকেন। অবশ্য এই মর্যাদা পূর্ণ ভারতীয় নাগরিকত্বের সমতুল্য নয় এবং এর অধিকারও শর্তসাপেক্ষ।
আবেদনে ইমরান খান যুক্তি দিয়েছেন, ওসিআই কার্ডধারী হিসেবে তাকে ‘সাধারণ বিদেশী’ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তার বক্তব্য, যথাযথ শুনানির সুযোগ না দিয়ে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়া আইনসঙ্গত নয়।
১৪ অক্টোবরের নোটিশে ভারতের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইমরান খান ওই আইনের বিধান এবং এর অধীনে প্রণীত নিয়ম ও আদেশ লঙ্ঘন করেছেন। তবে কোন বিধান তিনি লঙ্ঘন করেছেন বা তার কোন কাজের কারণে নোটিশ দেয়া হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
নতুন করে কারণ দর্শানোর নোটিশ
ইমরান খানের আবেদনে আরো বলা হয়েছে, তাকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয়ার আগে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়নি। তবে আবেদন দাখিলের পর মুম্বাইয়ের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরো) তাকে নতুন করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।
এ বিষয়ে তার আইনজীবী এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে নোটিশটির বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করছেন। মামলাটি শুনানির জন্য আদালতে উঠলে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।
আবেদনে আরো অভিযোগ করা হয়েছে, রাজনৈতিক চাপের কারণে ইমরান খানের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সেখানে নাম প্রকাশ না করে বলা হয়েছে, একজন রাজনৈতিক নেতা ১০ ও ১২ অক্টোবর তাকে ভারত থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছিলেন। বিজেপি নেতা কিরিট সোমাইয়াও প্রকাশ্যে ইমরান খানকে ভারত থেকে বের করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ইমরান খান আদালতের কাছে ভারত ছাড়ার নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত করার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে দেশ থেকে বহিষ্কার বা কালো তালিকাভুক্ত করা এবং তার ওসিআই নিবন্ধনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিরত রাখার নির্দেশ চেয়েছেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








