
দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঠেকাতে যে মাত্রার কড়াকড়ি করা হয়েছিল, তা শুধু পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্মকর্তাদেরই নয়, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও বিস্মিত করেছে।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে পুলিশের কড়াকড়ির ব্যাপকতা নিয়ে। পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের চেয়েও বেশি প্রশ্ন উঠছে, এত বড় মাত্রায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন নেয়া হলো, তা নিয়ে।
প্রায় ২০ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটকাতে মোতায়েন করা হয়েছিল প্রায় ৩৫ হাজার নিরাপত্তারক্ষী। এদের মধ্যে দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি আরো কয়েকটি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও ছিলেন।
কর্নাটকের সাবেক ডিজিপি এস টি রমেশ বিবিসি নিউজকে বলেন, ‘পুলিশি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, কিন্তু বর্তমান পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। আমি বিহারের একটি রেলস্টেশনে আটকে পড়া মানুষের ছবি দেখেছি, কারণ তাদের ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল। তাই এর প্রভাব শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সারা দেশেই পড়েছে।’
এই বিষয়ে বিবিসি নিউজ হিন্দি কথা বলেছিল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর সাবেক স্পেশাল ডিরেক্টর যশোবর্ধন আজাদের সাথে।
তার মতে, পুলিশ কমিশনারের উচিত ছিল তার রাজনৈতিক ঊর্ধ্বতনদের সামনে এই মূল্যায়ন তুলে ধরা যে বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে এবং সেগুলো লঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পুলিশ কমিশনারের রাজনৈতিক মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত বা পরিচালিত না হয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিল বলে এস টি রমেশ যে মন্তব্য করেছেন, তার সাথে একমত হন যশোবর্ধন আজাদ।
যশোবর্ধন আজাদ বলেন, ‘জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের জন্য যন্তর মন্তরের চেয়েও বড় কোনো স্থান দেয়া উচিত ছিল। যা হয়েছে তা হলো, নিট-এ সংস্কারের বিষয়টি আড়ালে চলে গেছে। পুলিশের বর্বরতার কারণে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে শত্রুতার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এর ফলে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের কোনো সমাধানের সম্ভাবনাই কার্যত শেষ হয়ে যায়।’
তবে বিজেপি বলেছে, দলটি বিক্ষোভের বিরুদ্ধে নয়।
দলের প্রবীণ নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ শনিবার বলেন, ‘আমরা বিক্ষোভের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু নিজেদের পরাজয়ের কারণে এরা রাস্তার আন্দোলনকে অস্ত্র করে তুলেছে। তার মধ্যেও আশ্চর্যের বিষয় হলো... একটা প্রতিযোগিতা চলছে।’
সূত্র : বিবিসি
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








