মাদরাসা, মিজানুর রহমান আজহারী, শায়খ আহমাদুল্লাহ, শায়খ আহমাদ বিন ইউসুফ আযহারী, আব্দুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, প্রফেসর মুখতার আহমাদ
টঙ্গীর ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আলেমরা। নয়া দিগন্ত

সম্প্রতি রাজধানীর অদূরের টঙ্গীতে অবস্থিত একটি মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থী, তার অভিভাবক ও শিক্ষকের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট আলেমরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়, এমন কয়েকজন আলেমের ফেসবুকে দেয়া পোস্ট এখানে তুলে ধরা হলো-

Advertisement

 
শায়খ আহমাদুল্লাহ
বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও চেয়ারম্যান, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন
মাদরাসাগুলোতে জঘন্য অনাচারের যত ঘটনা শোনা যায়, তার অধিকাংশই ভুঁইফোঁড়, মানহীন প্রাইভেট মাদরাসা। তারপরও এগুলো যেহেতু মাদরাসাই, এবং তাদের অপকর্মের কারণে যেহেতু পুরো মাদরাসা-ব্যবস্থা আজ হুমকির সম্মুখীন, তাই এগুলো দমনে মাদরাসা পরিচালনার সাথে যুক্ত কর্তৃপক্ষকেই জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। 

মাদরাসার এই অপকর্ম রোধে বেশকিছু পদক্ষেপ সম্বলিত একটি প্রস্তাবনা মাদরাসাগুলোর অভিভাবকতুল্য ৩০-এর অধিক শীর্ষ আলেমের কাছে বেশ আগেই আমি পাঠিয়েছিলাম। এরপর জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য সেই প্রস্তাবনা আমার পেজেও পোস্ট করি।

মাদরাসাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নানা অনাচারের বিষয়ে আমি অনেক আগে থেকেই বারবার কথা বলে আসছি। কিন্তু মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কিংবা পরিচালনা পর্ষদের সাথে আমার কোনো দাফতরিক সংশ্লিষ্টতা না থাকায় লেখা ও বলার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি এবং দাবি জানানোর বাইরে আমার হাতে আসলে কোনো বিকল্প উপায় নেই। থাকলে সেটা ব্যবহারের সর্বোচ্চ চেষ্টা আমি করতাম। 

আবাসিক মাদরাসাগুলো এ দেশের লাখ লাখ এতিম-অসহায় শিক্ষার্থীদের আশ্রয়স্থল এবং দ্বীনি ইলমের দুর্গ। এই দুর্গসমূহ হেফাজত করতে এবং মাদরাসার প্রতি জনসাধারণের আস্থা অটুট রাখতে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের কর্ণধার এবং শীর্ষস্থানীয় আলেমদেরকে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে জোরালে পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুবা ইতিহাসে এর দায় তাদেরকেই বহন করতে হবে।  

এত কিছুর পরও যদি কোনো প্রতিষ্ঠান শিক্ষক নামের কতিপয় অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, সমাধানের পথে না গিয়ে সত্য আড়াল করে, তবে এই লুকোচুরি মাদরাসার জন্য চূড়ান্ত ক্ষতি ডেকে আনবে, তখন আফসোস ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না। 

সেই সাথে এটাও বলতে চাই, টঙ্গীর ঘটনায় যিনি অপরাধ প্রমাণের আগেই মাদরাসার শিক্ষকের বিচার করে ফেললেন, তদন্তের পর যদি অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষক যে অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হলেন, সেই ক্ষতি কি তিনি কোনোভাবে পুষিয়ে দিতে পারবেন?

এটা বলার কারণ—ইতোপূর্বে এমন বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে—যেখানে আইন হাতে তুলে নেয়ার পর ভিন্ন বাস্তবতা দেখা গেছে। 

সুতরাং সকল ক্ষেত্রে আইন হাতে তুলে না নিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করা সবার ক্ষেত্রে সব সময়ের জন্য প্রযোজ্য। 

আর হ্যাঁ, ধর্ম অবমাননার ইস্যুসহ কোনো ইস্যুতেই যে আইন হাতে তুলে নেয়া যাবে না, এবং এটাই যে ইসলামের নির্দেশনা, এ বিষয়ে আমি বহুবার কথা বলেছি।

তাই আসুন, মাদরাসা বা যে কোনো জায়গায় সংঘটিত অনাচারের বিরুদ্ধে সরব থাকার পাশাপাশি আমাদের ক্ষণিকের ক্রোধ যেন অন্যের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ না হয়, সে বিষয়েও সজাগ থাকি।

 

মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী
বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও চেয়ারম্যান, হাসানাহ ফাউন্ডেশন

এ দেশে দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে মাদরাসাগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। হাজারো আলিম, আলিমা ও দ্বীনদার প্রজন্ম গড়ে তোলার নেপথ্যে এই প্রতিষ্ঠানগুলো অবদান রাখছে। তাই মাদরাসা শিক্ষাকে আরো আধুনিক, শক্তিশালী, নিরাপদ ও আস্থাশীল করার জন‍্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে মাদরাসাকেন্দ্রিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ বাস্তবতায় প্রভাবশালী আলিম, দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং মাদরাসা পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সকলের উচিত বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা ও আত্মসমালোচনামূলক আলোচনা করা। আমরা যদি নিজেদের ভুলগুলো নিজেরাই সংশোধন না করি, তাহলে একসময় দ্বিতীয় বা তৃতীয় পক্ষ সেই সুযোগ গ্রহণ করবে। তখন সামগ্রিকভাবে পুরো মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাই অযাচিত চাপ ও সঙ্কটের মুখে পড়তে পারে।
বিভিন্ন সময় আমরা মিডিয়ায় উঠে আসতে দেখেছি যে দেশের নানা প্রান্তে গণহারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অসংখ্য মাদরাসা এবং হিফজখানা গড়ে উঠেছে যেগুলোতে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই, যথাযথ তদারকি নেই। নেই মানসম্পন্ন পরিবেশ কিংবা উন্নত পাঠদান ব্যবস্থা। প্রায়শই এসব প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত নানা অপ্রীতিকর ঘটনার ছবি ভিডিও প্রকাশ পাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যা মাদরাসা শিক্ষার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।
ধর্মীয় শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তা জবাবদিহিতা, সুশাসন ও মানোন্নয়নের ঊর্ধ্বে থাকবে। বরং দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা আরো দৃশ্যমান হওয়া উচিত। যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য অনুমোদন, নিবন্ধন, মানসম্মত পাঠ্যক্রম, দক্ষ শিক্ষক, নিরাপদ অবকাঠামো, নিয়মিত শিক্ষক প্রশিক্ষণ, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, দক্ষ পরিচালনা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকদের আচরণ ও পাঠদান পদ্ধতি নির্ধারণে শিশুর মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে ধারণা থাকাও আবশ্যক। শিশুদের বয়স, মানসিক বিকাশ, আবেগ ও শেখার ধরন একেক রকম। তাই একজন শিক্ষককে শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানে দক্ষ হলেই চলবে না; শিশুদের মনস্তত্ত্ব বুঝে তাদের সাথে বয়সোপযোগী ও মানবিক আচরণ করার সক্ষমতাও থাকতে হবে। এ জন্য শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে আবাসিক মাদরাসাগুলোর ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আরো কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। একইসাথে শিক্ষক নিবন্ধন, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা, এবং গুরুতর অপরাধে জড়িত শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্ল্যাকলিস্টিংয়ের মতো পদক্ষেপও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা যেতে পারে।

মাদরাসাগুলোতে শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি, বেত্রাঘাত ও টর্চারের ঘটনাও মাঝে মাঝেই ঘটে। এই ঘটনাগুলোও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি জনমনে নেতিবাচকতা জন্ম দেয়। এমন কোনো আচরণ, যা শিশুর মনে ভয়, অপমান বা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমা সৃষ্টি করে— তা শিক্ষার উদ্দেশ্যের সাথে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শৃঙ্খলা অবশ্যই থাকতে হবে, তবে তা হতে হবে প্রজ্ঞা, ভালোবাসা ও মানবিকতার ভিত্তিতে। জোর করে বিদ্যা চাপিয়ে দেয়ার নাম শিক্ষা নয়, শিক্ষা হলো আপনার সন্তানের স্বতঃস্ফূর্ত আত্মবিকাশ।

এক্ষেত্রে প্রতিটি মাদরাসায় কার্যকর শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বা চাইল্ড সেফটি পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা জরুরি। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে গ্রহণযোগ্য ও নিষিদ্ধ আচরণ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের পদ্ধতি এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারে, সে জন্য নিরাপদ ব্যবস্থা রাখা এবং অভিযোগকারীর পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষা করাও জরুরি। গুরুতর নির্যাতনের ঘটনা অভ্যন্তরীণভাবে ধামাচাপা না দিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। 

একইসাথে শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকদের আচরণের সুস্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করা জরুরি। শাসনের নামে ভয় দেখানো, অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি কিংবা অনুপযুক্ত স্পর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পরিসর ও মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি একান্তে সাক্ষাৎ, ব্যক্তিগত বার্তা সব ক্ষেত্রেই নিরাপদ ও পেশাগত সীমারেখা বজায় রাখতে হবে।

গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের পুনরায় একই ধরনের দায়িত্বে নিয়োগ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা থাকা উচিত। তবে অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাও জরুরি।

এক্ষেত্রে আলিম-উলামা, মাদরাসা পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ ও শিশু সুরক্ষায় কাজ করা সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে সীমিত সামর্থ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিশু সুরক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। সংস্কারের লক্ষ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা নয়; বরং তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে একটি নিরাপদ, মানসম্মত ও আস্থাশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা।

আমাদের এই পর্যালোচনা মাদরাসার বিরুদ্ধে নয়; বরং মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও দ্বীনি শিক্ষার মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি শুধু তার ঐতিহ্য বা সুনামে নয়; বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা ও পরিচালনব্যবস্থার স্বচ্ছতার মধ্যেও নিহিত। নিজেদের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে আত্মসমালোচনা, জবাবদিহিতা ও সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়া দুর্বলতা নয়; বরং দায়িত্বশীলতার পরিচয়। দ্বীনি শিক্ষার মর্যাদা ও সমাজের আস্থা অটুট রাখতে এখনই কার্যকর ও সময়োপযোগী সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া জরুরি।

 

শায়খ আহমাদ বিন ইউসুফ আযহারী
বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশী কারী 

একজন শিক্ষকের নিজের শিক্ষার্থীকে আদর বা শাসন করার সীমা সম্পর্কে জানা থাকা উচিৎ। একজন শিক্ষক তার শিক্ষার্থীকে সন্তানসুলভ চোখে দেখতে পারেন এবং আদর করতে পারেন। কিন্তু সেটা কখোনোই বেড টাচ হতে পারে না। চুম্বন বিষয়টা খুবই সেন্সিটিভ। অন্য কারো সন্তানকে নিজের সন্তান হিসেবে দেখলেও এটা আপনি করতে পারেন না। আমাদের শিক্ষকদের আরো সচেতন হতে হবে।

ইউরোপ আমেরিকা কানাডা অস্ট্রেলিয়া এমনকি আরব বিশ্বের সব জায়গায় বাচ্চাদের গায়ে টাচ করাটা মারাত্মক অপরাধ হিসেবে ধরা হয়। এই বিষয়টা স্কুল কলেজ মাদরাসাসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক থেকে শুরু করে সাধারন সকলের জানা থাকা উচিৎ। 
কেউ যদি চুমু দিয়ে অপরাধ করে থাকেন অবশ্যই তার বিচার হওয়া উচিৎ। 
তবে তার গায়ে হাত দেয়াটাও এক ধরনের অপরাধ। 

দেশে আইন রয়েছে। কেউ অপরাধ করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। 

আশা করবো আমার এই বক্তব্যকে কেউ না বুঝে অন্য দিকে নিবেন না। কারণ, আমি একদিকে একজন শিক্ষক আরেকদিকে সন্তানের বাবা


শায়খ প্রফেসর মোখতার আহমাদ
বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও চেয়ারম্যান, তারবিয়াহ এডুকেশন নেটওয়ার্ক
কোনো শিক্ষকই কোনো শিক্ষার্থীকে চুমু দেয়া, ব্যাড টাচ করার সামান্যতম বৈধতা নেই। এটি কওমে লূতের পাপ। এমন পাপিষ্ঠরা কঠিনতম শাস্তি পেতেই হবে। আমার পরিবারের কারো বিষয়ে এমন কিছু ঘটলে ঘটনা ভিন্ন কিছু হতো না। কিন্তু, আলোচ্য প্রেক্ষাপটে যেহেতু অভিযুক্ত পক্ষ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হাজির করছে, তাই প্রয়োজনে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখুক। অভিযোগ সত্য হলে শাস্তির ব্যাবস্থা করা হোক।

কেননা আমরা এর আগেও দেখেছি একজন মাদরাসার শিক্ষককে শিক্ষার্থীর সাথে অনৈতিক কাজের অভিযোগে জেল খেটেছেন, অপমান অপদস্ত হওয়ার পর আদালতে প্রমাণ হয়েছে তিনি এমন কাজ করেননি। তো হুজুর করছে এমন কিছু শুনলেই আমরা সবাই নিজেরা বিচার করতে না বসি, এটিও খেয়াল রাখা দরকার। যাতে কারো উপর জুলুম না হয়। 

 

মাওলানা আব্দুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ
বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও খতিব, মসজিদুল জুম’আ

শিক্ষার্থীর প্রতি শাসন, স্নেহ ও যত্নেরও সীমারেখা আছে। বিশেষত ধর্মীয় শিক্ষকের ক্ষেত্রে এই নৈতিকতা হতে হবে আরো কঠোর। ‘পিতার মতো’ কিংবা ‘বড় ভাইয়ের মতো’ কোনো পরিচয়ই সীমালঙ্ঘনের বৈধতা দিতে পারে না।
যিনি স্নেহ ও শাসনের সীমা বোঝেন না, শিক্ষকতার নৈতিক দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা নিয়েই তাঁর প্রশ্নের মুখে পড়া উচিত।
অভিযোগ হলে নিরপেক্ষ তদন্ত চাই, অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আবার তদন্তের আগেই পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তও নয়। সত্য জানতে হবে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনৈতিকতা ধামাচাপা দেয়া দ্বিগুণ ক্ষতিকর। এতে অপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত হয়, প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতাও নষ্ট হয়। 

‘নিজেদের অন্যায় আড়াল করব, আর অন্যের অন্যায়ে সরব হব’- এ কেমন নৈতিকতা? এটা আবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কেমনে হবে? কোদালকে কোদাল বলতে না পারলে আমরা নিজেরাই শুধরাতে পারিনি, বাকিদের ওয়াজ করবো কোন যোগ্যতায়! ন্যায়বিচারের মানদণ্ড ব্যক্তি, পদ কিংবা প্রতিষ্ঠানভেদে বদলাতে পারে না। 

সব কথার শেষ কথা- ‘নিজ সন্তানের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নাই’- এটাই শেষ কথা।