
স্ত্রী দাবি করা নারীকে নিয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য, কলাম লেখক ও জনপ্রিয় টকশো ব্যক্তিত্ব গোলাম মওলা রনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেইজে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেনে তিনি।
ব্ল্যাকমেইলিং ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েও অন্যায়ের সাথে কখনো আপস করেননি বলে জানিয়েছেন গোলাম মওলা রনি। সাবেক ‘ইউনুস জমানা’ থেকে শুরু করে ‘আওয়ামী লীগ জমানা’ পর্যন্ত কীভাবে বিভিন্ন সিন্ডিকেট মানুষকে জিম্মি করত, তার একটি বিবরণ তুলে ধরেছেন তিনি।

জালিয়াত চক্রের অনুপ্রবেশ ও পুলিশি পদক্ষেপ
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাবেক এমপি গোলাম মওলা রনি জানান, সময়টা ইউনুস জমানার। তখন ইল্লুদের প্রভাব তুঙ্গে। ইল্লুর প্ররোচনায় স্ত্রী দাবি করা এক নারী হঠাৎ একদিন তার অফিসে আসেন। পরিস্থিতি দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন। পুলিশ এসে ওই মহিলাকে বিয়ের প্রমাণের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে দাবি করে যে তার কাছে কাগজ আছে, কিন্তু তা দেখাতে ব্যর্থ হয়। কারণ হিসেবে নারী জানায় কাগজটি নাকি তার কাছে নেই। তখন জানানো হয়, কাগজ পাওয়া গেলে আইন মোতাবেক তাকে তালাক দেয়া হবে। এরপর পুলিশ তাকে অফিস থেকে নিয়ে গেলেও নিচে নেমে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চম্পট দেন তিনি।
ধানমন্ডির বাসায় উপস্থিতি ও শাহবাগ থানায় অভিযোগ
চক্রান্তের দ্বিতীয় অংশ বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তীতে ওই নারী ধানমন্ডিতে তার বাসায় উপস্থিত হন। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে নারীর আত্মীয় পরিচয়ে দুজন লোককে আনা হয় এবং থানার কর্তাব্যক্তিরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কথিত কাবিনের একটি কপি সংগ্রহ করতে সমর্থ হন।
আইনজীবীদের পরামর্শ ও তালাক নোটিশ
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আইনজীবীদের পরামর্শ ছিল—কাবিনটির যথাযথতা এবং কাবিনের আড়ালের ঘটনা কোর্ট-কাছারিতে গিয়ে প্রমাণ করতে গেলে কয়েক বছর লেগে যাবে। মূলত চক্রান্তকারীরা তাকে কোর্টে নিয়ে জিম্মি করতেই চেয়েছিল। তার চেয়ে তাকে কাবিন অনুযায়ী তালাক এবং দেনমোহরের ১০ লাখ টাকা দিয়ে দিলে মন্দের ভালো হয় এবং চক্রান্তের ইতি ঘটে। এ পরামর্শের ভিত্তিতে পুরো ঘটনা বর্ণনা করে তিনি শাহবাগ থানায় মামলা করেন, তালাকের নোটিশ প্রদান করেন এবং কথিত কাবিনে বর্ণিত টাকা পরিশোধ করেন।
সামাজিক সম্মান নিয়ে জিম্মি করার চেষ্টা
টাকা পরিশোধের পরও স্ত্রী দাবি করা নারীর লোকজন একাধিকবার যোগাযোগ করে এবং তার সামাজিক সম্মানকে জিম্মি করে বিশাল বিশাল দাবি করতে থাকে। কিন্তু তিনি নিজের অবস্থানে অটল থাকেন। নারীর বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা না করার কারণ হিসেবে তিনি জানান, ওই মহিলার সাবেক স্বামীর ওরসে জন্ম নেয়া বিবাহউপযোগী ও কিছুটা মানসিকভাবে অসুস্থ মেয়ে এবং কিশোর ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি আদালতের আইনি পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকেন।
পারিবারিক সমর্থন ও ইউটিউব অপপ্রচার
তিনি উল্লেখ করেন, ওই বিষয়টি তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং আপনজনেরা প্রথম দিন থেকেই জানতেন। ফলে তার মানসিক ও নৈতিক শক্তি অটুট ছিল এবং পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আপনজনেরা সবাই আন্তরিকতা নিয়ে তার পাশে দাঁড়ান। এরই মধ্যে চক্রান্তের অংশ হিসেবে ওই নারী এবং তার গডফাদার ইউটিউবার ইলিয়াস একটি ভিডিও তৈরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি বনি আমিন নামক আরেক ইউটিউবারকেও দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেয়া হয় মূলত তাকে হেয় করার জন্য।
তবে যেহেতু আইন মোতাবেক তালাক কার্যকর ও রেজিস্ট্রি হয়ে যায় এবং নারী তার দাবিকৃত টাকা পেয়ে যায়, সেহেতু পরবর্তী সময়ে চক্রান্তকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
এনসিপি ও জাতীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন
ওই ঘটনার অনেক পরে এনসিপির নাহিদরা কেন সেই স্ত্রী দাবি করা নারীর প্রতি এতটা আকৃষ্ট হলো এবং এই নারীর নেতৃত্বে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখল—তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি তার বোধগম্য নয়।
আপসহীন অবস্থানের পুনর্ব্যক্ত
তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জমানায় আমার মতো বহু মানুষকে কীভাবে বিভিন্ন সিন্ডিকেট জিম্মি করত, তা যদি কেউ জানতে চান তবে শাহবাগ থানায় করা আমার অভিযোগটি পড়তে পারেন।’
নিজের জীবনকে আপনজন, প্রতিপক্ষ ও শত্রুদের জন্য উন্মুক্ত দাবি করে তিনি স্পষ্ট জানান, তার জীবনে গোপনীয়তা, লুকোচুরি কিংবা অন্যায়ের সাথে সমঝোতার কোনো জায়গা নেই। জীবনের সব ঝড় তিনি মোকাবিলা করেছেন কিন্তু কখনোই আপস করেননি। কারোর সাথে অযথা বিরোধে জড়াতে না গেলেও কেউ ক্ষতি করতে এলে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা মোকাবিলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








