এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভুগছে সব খাত সারা দেশে প্রায় অর্ধশত বিদ্যুৎকেন্দ্র শাটডাউনে

 বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম

Advertisement

মহেশখালীর মাতাবাড়ীতে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল মেরামতজনিত কারণে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহে চাপ স্বল্পতা বিরাজ করছে।  এত দিন এক্সিলারেট ও সামিটের দু’টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৯৮৩ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দেয়া হলেও বর্তমানে তা ৫৪৭ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারা দেশে গ্যাসের চাপ স্বল্পতা বিরাজ করছে। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানা। 
পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে আজ ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ সময় সারা দেশে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে বলেও পেট্রোবাংলা জানিয়েছে। 
পেট্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী- গ্যাস সঙ্কটের কারণে সারা দেশে প্রায় অর্ধশত বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ঘোড়াশাল এক হাজার ৩১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, ৫৮৩ মেগাওয়াট সামিট মেঘনাঘাট-২ বিদ্যুৎকেন্দ্র, ৪৫০ মেগাওয়াট মেঘনাঘাট আইপিপি, সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিট, আশুগঞ্জ ৫০০ মেগাওয়াট ও ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাউজান তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দু’টি ইউনিট, ৩৪১ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিবিয়ানা-২ বিদ্যুৎকেন্দ্র অন্যতম। এ ছাড়া যমুনা সারকারখানা, আশুগঞ্জ সার কারখানা, শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি এবং চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা (সিইউএফএল) গ্যাস সঙ্কটের কারণে শাটডাউনে রয়েছে।   
এ দিকে চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা পুরোটাই এলএনজি-নির্ভর হওয়াতে চট্টগ্রামের গ্যাস সেক্টরে এই সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। শিল্প কারখানায় উৎপাদন কমছে, বিশেষ করে রফতানিমুখী গার্মেন্ট ও ডায়িং কারখানাগুলো বেশ বেকায়দায় পড়েছে। রান্নার চুলায়ও গ্যাসের চাপ কমে গেছে। সিএনজি চালিত যানবাহনগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সীমিত পরিমাণ গ্যাস নিয়ে পাম্প থেকে ফিরতে হচ্ছে। 
পেট্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী-৩৮৭০ মিলিয়ন ঘনফুট জোগান সক্ষমতার বিপরীতে বৃহস্পতিবার সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ দেয়া হয়েছে দুই হাজার ১২৩ মিলিয়ন ঘনফুট। যা গত বেশ কিছুদিন ধরে দুই হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি সরবরাহ দেয়া হচ্ছিল। হঠাৎ প্রায় সাড়ে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সঙ্কটে পড়েছে সব সেক্টর।  
এ দিকে চট্টগ্রামে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বৃহস্পতিবার ২৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেয়া হয়। 
চাপ কম সিএনজি স্টেশনেও
গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানাসহ সবগুলো খাত বেকায়দায় পড়েছে। সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গতকাল শুক্রবারও সকাল থেকেই প্রতিটি রিফুয়েলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সিএনজিচালক মোস্তাফিজ নয়া দিগন্তকে বলেন, অধিকাংশ সিএনজি স্টেশন বন্ধ। ফলে গ্যাস নেয়ার জন্য এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে দৌড়াতে হচ্ছে, পাশাপাশি দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি তো আছেই। ফলে সিএনজি অটোরিকশাগুলো বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। 
প্রসঙ্গত, ইতঃপূর্বে গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে ভাসমান দু’টি এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘ দিন এলএনজি সরবরাহে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করে।

 

Advertisement