কোমোর রেকর্ড, জিতেছে রিয়াল-আর্সেনাল

ক্রীড়া ডেস্ক

Advertisement

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতিহাস গড়ল ইতালিয়ান ক্লাব কোমো। নিজেদের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযানেই লেন্সকে ৯-১ গোলে বিধ্বস্ত করে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে তারা। অন্য দিকে শেষ মুহূর্তের গোলে রিয়াল মাদ্রিদের নাটকীয় জয়, সøাভিয়া প্রাগের বিপক্ষে জয় আর্সেনালের এবং রোমাঞ্চকর জয়ে এবারের আসর আরো জমিয়ে তুলেছে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে ফেনারবাচের কাছে হেরে নিজেদের জয়ের ধারায় ছেদ পড়েছে লিভারপুলের।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গত পরশু লিগ পর্বের চতুর্থ রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনের ৯টি ম্যাচে গোল হয়েছে মোট ৩৬টি। রাতের সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে কোমো। ফ্রান্সের মাঠে লেন্সকে ৯-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সিসে ফাব্রিগাসের দল। ম্যাচের প্রথমার্ধেই তাসোস দুভিকাসের জোড়া ও নিকো পাজের গোলে এগিয়ে যায় কোমো। বিরতির পর ব্যবধান আরো বাড়ে লুকাস দা কুনহার গোলে। এরপর একের পর এক গোলে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করে ইতালিয়ান ক্লাবটি। এর মধ্যে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন দুভিকাস। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গ্রিক তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। এ ছাড়া জালের দেখা গোল করেন মার্টিন বাতুরিনা, মাত্তেও পাপাচিওলিও। লেন্সের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন রুবেন আগুইলার। এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসায় কোমো। এর আগে ৮-০ ব্যবধানের জয় ছিল সর্বোচ্চ। ২০০৭ সালে বেসিকতাসকে ৮-০ গোলে হারায় লিভারপুল। আর ২০১৫ সালে মালমোকে বিপক্ষে ৮-০ ব্যবধানে জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম দল হিসেবে প্রতিপক্ষের মাঠে ৯ গোলের রেকর্ডও গড়ল কোমো। প্রতিযোগিতাটির পূর্ববর্তী সংস্করণ ইউরোপিয়ান কাপে সর্বশেষ ১৯৭১ সালে অলিম্পিকায়োসের মাঠে ৯-০ গোলে জিতেছিল ফেইনুর্ড। এমন নজির আছে আরো তিনটি- ১৯৬৯ সালে কেআর রিকজাভিকের মাঠে ১২-২ গোলের জয় ফেইনুর্ডের, ১৯৬৬ সালে হাকার মাঠে অ্যান্ডারলেখটের জয় ছিল ১০-১ গোলের এবং রেইপাস লাহথির মাঠে ১৯৬৮ সালে ৯-১ গোলে জিতেছিল স্পার্তাক ত্রনাভা।
এ দিকে গ্রিসের মাঠে এএইকে এথেন্সের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় পড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। দুইবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। স্বাগতিকদের হয়ে আবুবাকারি কোইতা ও স্তাভরোস পিলিওস গোল করেন। রিয়ালের হয়ে জুড বেলিংহাম ও কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করে সমতা ফেরান। ম্যাচের যোগ করা সময়ে ফেদেরিকো ভালভার্দের দুর্দান্ত শটে জয় নিশ্চিত হয় রিয়ালের। চার ম্যাচে চার জয় নিয়ে লিগ পর্বে নিজেদের শতভাগ সাফল্য ধরে রাখল তারা।
জয় পেয়েছে ইংল্যান্ডের আরেক ক্লাব আর্সেনাল। সøাভিয়া প্রাগের মাঠে ২-১ গোলে জিতেছে গানাররা। ম্যাচে আর্সেনালের হয়ে গোল করেন বুকায়ো সাকা ও ভিক্টর ইয়োকেরেস। স্বাগতিকদের হয়ে ব্যবধান কমান টমাস চোরি। এদিন নাটকীয় ম্যাচে আরবি লিপজিগকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। শেষ পর্যন্ত ৭৮ মিনিটে আর্লিং হলান্ডের গোলে জয় নিশ্চিত হয় এনজো মারেস্কার দলের।
রাতের আরেক আলোচিত ম্যাচে লিভারপুলকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে তুরস্কের ক্লাব ফেনেরবাচে। এ ছাড়া পোর্তো ৪-১ গোলে হারিয়েছে নাপোলিকে। বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ২-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল বেটিসকে। নেদারল্যান্ডসের ক্লাব পিএসভি আইন্দোহেভেনকে তাদের মাঠে ২-১ গোলে হারিয়েছে ক্লাব ব্রুজ।