গ্রেফতার শ্রমিকদের মুক্তি দাবি শিবিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
পোশাকশ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম দ্রুত শুরু এবং শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়ন ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সাথে শিল্পাঞ্চলে চলমান অস্থিরতা নিরসনে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের মধ্যে কার্যকর সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। 
গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এসব দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ঢাকা, সাভার, মিরপুর, গাজীপুর, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে অন্তত ৬৭৯টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। লাখো শ্রমিকের শ্রম ও অবদানে তৈরী পোশাকশিল্প খাত দেশের রফতানি আয়ের বড় অংশ জোগান দিচ্ছে। অথচ দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও ২০২৩ সাল থেকে তাদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকায় আটকে রয়েছে এবং ন্যায্য মজুরির দাবিকে ষড়যন্ত্র বা উস্কানি হিসেবে চিহ্নিতে অপচেষ্টা চলছে- এটি স্পষ্টতই দ্বিচারিতা।
বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, শ্রমিক অসন্তোষকে পুঁজি করে পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি বা বাংলাদেশবিরোধী অপশক্তি কোনো ষড়যন্ত্র কিংবা নাশকতার চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। পোশাকশিল্পের ব্যস্ততম মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হলে দেশের রফতানি আয় ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শিল্পের স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিবৃতিতে অবিলম্বে যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়ন ও হয়রানি বন্ধ, গ্রেফতারদের মুক্তি ও সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।

Advertisement