ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যেন কর্মজীবনে প্রতিফলিত না হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক 

Advertisement

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কর্মকর্তাদের ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই কর্মজীবনে প্রতিফলিত না হয়।
মন্ত্রী গতকাল দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ৪৫তম বিসিএস (পুলিশ) ও বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে নতুন যোগদানকৃত কর্মকর্তাদের ব্রিফিং ও পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। 
নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুপিরিয়র সার্ভিসে আপনাদের প্রধানতম দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সমুন্নত রাখা এবং এর মাধ্যমে দেশের সব কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পন্ন করার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। প্রশাসন, উন্নয়ন ও সমাজের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বস্তি অনেকাংশে আপনাদের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে। তিনি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, সার্ভিস লাইফে সর্বদা শৃঙ্খলা ও সার্ভিস রুলস মেনে চলতে হবে এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আইনানুগ নির্দেশ প্রতিপালন করতে হবে। 
মন্ত্রী আরো বলেন, পুলিশ ও আনসার অন্যান্য ক্যাডার সার্ভিসের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং অত্যন্ত সংঘাতময় ও চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে কাজ করে। এখানে মুহূর্তের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যেখানে বুদ্ধিমত্তা, পেশাদারিত্ব ও প্রেজেন্স অব মাইন্ড অত্যন্ত জরুরি। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও বিচক্ষণতা প্রদর্শনের জন্য তিনি নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে এবং কোনো অবস্থাতেই যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার না হয় সে বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইজিপি (ইনচার্জ) ও অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। 
উল্লেখ্য, ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষায় বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে ৮০ জন এবং বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে ২৫ জন কর্মকর্তা সুপারিশপ্রাপ্ত হন এবং পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রজ্ঞাপন জারির পর ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ পূর্বাহ্নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে ৬৫ জন এবং বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে ১৯ জন কর্মকর্তা যোগদান করেন।  
সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভা কমিটির সভা : 
এ দিকে সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, কার্যকারিতা ও গতিশীলতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে জনসেবা আরো বেগবান করার লক্ষ্যে ‘সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি (জিপিএমএস) বাস্তবায়নের জন্য গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। 
সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভায় কমিটির সদস্য জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো: ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবগণ সভায় অংশগ্রহণ করেন। 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, সভায় সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি বাস্তবায়নের সার্বিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি পর্যালোচনা করা হয়। 
একই সাথে বিগত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়িত জিপিএমএসের সার্বিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি সরকারি দফতরগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সরকারের পলিসি অনুযায়ী সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং অর্পিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকর মনিটরিং ও মূল্যায়নের ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়। 
সভায় সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি সহজীকরণ ও মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। 
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ২০ ধারা এবং সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪-এর ২৫৫ নং নির্দেশনার আলোকে সরকারি অফিসগুলোতে কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে জিপিএমএস প্রবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে ৫২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, ৩৮৬টি দফতর ও সংস্থাসহ বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মাঠপ্রশাসনে জিপিএমএসের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।