
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতির জন্য সাময়িক স্বস্তি নিয়ে এসেছে। এতে রফতানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরী পোশাক ও ওষুধ খাতের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য বাড়তি সময় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই সময়সীমা বৃদ্ধি কোনো স্থায়ী নিরাপত্তাবলয় নয়। বরং রফতানি প্রতিযোগিতা বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা কাটানো, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এবং অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কারের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
অর্থনীতির সামনে এখন বড় প্রশ্ন- ২০২৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশ কি এমন একটি উৎপাদনশীল ও প্রতিযোগিতাসক্ষম অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারবে, যা বিশেষ বাণিজ্যসুবিধা কমে গেলেও আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে সক্ষম হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়তি তিন বছরকে কেবল প্রস্তুতির সময় হিসেবে দেখলে চলবে না। এ সময়ের প্রতিটি বছরকে নির্দিষ্ট সংস্কার, বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যের সাথে যুক্ত করতে হবে। তা না হলে উত্তরণ পিছিয়ে দেয়ার সুফল সাময়িক স্বস্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে; ভবিষ্যতে রফতানি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ আরো বাড়তে পারে।
কেন বাড়তি সময় গুরুত্বপূর্ণ
এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দীর্ঘ দিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানসহ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যসুবিধা পেয়ে আসছে। উত্তরণের পর এসব সুবিধার কিছু হারালে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়তে পারে। এতে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশী পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষ করে তৈরী পোশাক খাত এ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। দেশের রফতানি আয়ের বড় অংশ এই খাত থেকে আসে। একই সাথে ওষুধশিল্পের জন্য মেধাস্বত্ব, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও গবেষণাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিধিবিধানের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বাড়তি সময় কাজে লাগানো জরুরি।
তবে উত্তরণের পর সব বাজারে একই ধরনের সুবিধা উঠে যাবে, এমন নয়। কোন বাজারে কী শুল্ক প্রযোজ্য হবে এবং কোন পণ্য কী ধরনের অগ্রাধিকার পাবে, তা সংশ্লিষ্ট বাজারের নীতিমালা, চুক্তি ও যোগ্যতার শর্তের ওপর নির্ভর করবে। তাই বাংলাদেশের প্রয়োজন বাজার ও পণ্যভিত্তিক ঝুঁকি নিরূপণ এবং আগাম কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনা।
সরকারের সামনে ৭টি অগ্রাধিকার
১. বাণিজ্যসুবিধা ধরে রাখতে আগাম আলোচনা : ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপানসহ প্রধান রফতানি বাজারগুলোর সাথে দ্রুত আলোচনা শুরু করতে হবে। উত্তরণের পর কোন বাজারে কোন পণ্যের ওপর কত শুল্ক আরোপিত হতে পারে, তা নিরূপণ করে সম্ভাব্য ক্ষতি কমানোর পরিকল্পনা নিতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা যাচাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এসব আলোচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট শিল্প খাত ও ব্যবসায়ী সংগঠনকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। কেবল আলোচনা শুরু করাই যথেষ্ট নয়; নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অগ্রগতি অর্জনও নিশ্চিত করতে হবে।
২. তৈরী পোশাকের বাইরে রফতানির নতুন ভিত্তি : বাংলাদেশের রফতানি ঝুড়িতে তৈরী পোশাকের প্রাধান্য রয়েছে। এই নির্ভরশীলতা কমাতে ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবার বিকাশে কার্যকর নীতিসহায়তা দিতে হবে।
প্রতিটি খাতের জন্য রফতানি আয়, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা জরুরি। নতুন শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না; প্রয়োজন প্রযুক্তি, অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের বাস্তব সহায়তা।
একই সাথে তৈরী পোশাক খাতেও পণ্যের বৈচিত্র্য, আধুনিক প্রযুক্তি, শ্রমিকের দক্ষতা এবং পরিবেশসম্মত উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শুধু কম শ্রমমূল্যের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।
৩. রাজস্ব সংস্কার ও ব্যবসার ব্যয় হ্রাস : অর্থনীতির প্রতিযোগিতাসক্ষমতা বাড়াতে করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করজাল সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি কমানো, কর অব্যাহতির যৌক্তিকতা যাচাই এবং ভ্যাট প্রশাসনের স্বয়ংক্রিয়তা বাড়াতে হবে। রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতা দূর না হলে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্পোন্নয়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান কঠিন হবে।
ব্যবসা শুরু থেকে পণ্য রফতানি পর্যন্ত লাইসেন্স, অনুমোদন, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও অন্যান্য সরকারি সেবা পেতে সময় ও ব্যয় কমানোও জরুরি। প্রশাসনিক জটিলতা, অনিশ্চয়তা ও হয়রানি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে। এসব ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব।
৪. ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা : দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা অর্থনীতির প্রতিযোগিতাসক্ষমতা বাড়ানোর পথে বড় বাধা। খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি, ঋণ অনিয়ম এবং সুশাসনের ঘাটতি মোকাবেলা না করলে উৎপাদনশীল শিল্পে অর্থায়ন বাড়ানো কঠিন হবে।
এ জন্য ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নিরূপণ, অনিয়মের জন্য দায় নির্ধারণ, ঋণ আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়াতে হবে। দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নীতি অনুসরণ করতে হবে।
একই সাথে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। ঋণের ব্যয় ও প্রাপ্তির প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে না পারলে রফতানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।
৫. বন্দর, জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন : আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা শুধু পণ্যের গুণমান বা শুল্কের ওপর নির্ভর করে না; পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের মোট ব্যয়ও গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কাস্টমসের ডিজিটাল ব্যবস্থা, সড়ক-রেল-নৌপথের সমন্বিত সংযোগ এবং শিল্পাঞ্চলভিত্তিক লজিস্টিকস উন্নয়ন তাই জরুরি।
একই সাথে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জ্বালানির অনিশ্চয়তা, পরিবহন ব্যয় এবং বন্দরে পণ্য খালাসের দীর্ঘসূত্রতা উৎপাদন ব্যয় বাড়ায়। এসব দুর্বলতা দূর করা না গেলে শুল্কসুবিধা বজায় রেখেও প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকবে।
৬. মেধাস্বত্ব, আন্তর্জাতিক মান ও শ্রমদক্ষতা : এলডিসি উত্তরণের পর ওষুধশিল্পের ওপর আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ববিধির সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করতে হবে। গবেষণা, ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মাননিয়ন্ত্রণে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিধিবিধান ও বাংলাদেশের প্রযোজ্য ছাড়ের মেয়াদ সম্পর্কে নির্ভুল আইনি মূল্যায়ন প্রয়োজন।
অন্য দিকে রফতানিমুখী শিল্পকে আন্তর্জাতিক শ্রমমান, পরিবেশগত শর্ত, কার্বন নিঃসরণ এবং পণ্যের উৎসসংক্রান্ত নিয়ম পূরণের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এসব মানদণ্ড এখন বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানোকে জাতীয় প্রস্তুতির অংশ করতে হবে।
৭. বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা : মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং চুক্তি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে নীতিগত অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে হবে।
বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন ও রফতানি বাজারে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। একই সাথে সংস্কারের ব্যয় যেন শ্রমিক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর অসমভাবে না পড়ে, সে জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি রাখতে হবে। অর্থনৈতিক সংস্কারের সুফল কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে প্রতিফলিত না হলে তার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাও দুর্বল হতে পারে।
২০২৬-২০২৯ : সময়সীমাভিত্তিক সংস্কার রোডম্যাপ
বাড়তি সময়কে কার্যকর করতে সরকারের উচিত বিদ্যমান মসৃণ উত্তরণ কৌশল (স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি-এসটিএস) ও ২৫ দফা সংস্কার পরিকল্পনা নতুন সময়সীমার সাথে সমন্বয় করা। পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাসের নামে বাস্তবায়ন যেন বিলম্বিত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় উত্তরণ টাস্কফোর্স গঠন করে খাতভিত্তিক ঝুঁকি, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, বাস্তবায়নের সময়সীমা ও পরিমাপযোগ্য সূচক প্রকাশ করা যেতে পারে।
প্রথম বছরের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা, ব্যাংকিং সংস্কার, কর প্রশাসন ও কাস্টমসের ডিজিটাল ব্যবস্থায় দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করতে হবে। দ্বিতীয় বছরে রফতানি বহুমুখীকরণ, শিল্পের উৎপাদনশীলতা এবং বন্দর-জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিতে হবে। তৃতীয় বছরে বাজারসুবিধা, আন্তর্জাতিক মান পূরণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের এলডিসি উত্তরণ বাস্তবায়ন পরিষদ গঠন করা যেতে পারে। এতে অর্থ, বাণিজ্য, শিল্প, পররাষ্ট্র, শ্রম, কৃষি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের যুক্ত করা প্রয়োজন।
পরিষদ প্রতি মাসে অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে, প্রতি তিন মাসে জনসমক্ষে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং প্রতিবছর স্বাধীন মূল্যায়নের মাধ্যমে সংস্কারের বাস্তব ফলাফল যাচাই করবে। কোন লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে, কোনটি পিছিয়ে আছে এবং কেন- তা জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।
সময় বাড়লেই কি ঝুঁকি কমবে?
এখানে তিনটি ভুল ধারণা এড়িয়ে চলা জরুরি। প্রথমত, সময়সীমা বাড়লেই সব বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল থাকবে- এমন নিশ্চয়তা নেই। দ্বিতীয়ত, শুধু তৈরি পোশাক খাতকে ঘিরে প্রস্তুতি নিলে রপথানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজন মিটবে না। তৃতীয়ত, সংস্কারের ঘোষণা দিলেই অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর হবে না; ব্যাংকিং খাতের জবাবদিহি, রাজস্ব সংস্কার, ব্যবসার পরিবেশ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতায় বাস্তব পরিবর্তন আনতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য বাড়তি তিন বছর তাই একই সাথে স্বস্তি ও সতর্কবার্তা। এই সময়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশ বিশেষ বাণিজ্যসুবিধানির্ভর অর্থনীতি থেকে উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বহুমুখী রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে পারবে। অন্যথায় বিলম্বিত উত্তরণ কেবল সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার সময় পিছিয়ে দেবে।
শেষ পর্যন্ত সাফল্যের মাপকাঠি হবে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর নয়; বরং সেই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ কতটা প্রতিযোগিতাসক্ষম অর্থনীতি গড়ে তুলতে পেরেছে। বাড়তি তিন বছর সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়- প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য এটি একটি মূল্যবান সুযোগ। সরকার, ব্যবসায়ী সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে পারলেই এই সুযোগ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ নিতে পারে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








