ইসলামী ব্যাংক, সঙ্কট, নারীর ক্ষমতায়ন

 

Advertisement

আরেক দফা নেতৃত্ব সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে দেশের বৃহত্তম ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং এক সদস্যের বোর্ড নিয়ে চলতে থাকা ব্যাংকটির পাঁচজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) অবসরের বয়সের আগেই সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক থেকে বিদায়ের আয়োজন শুরু করেছে নীতি নির্ধারণী কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, ব্যাংকটিতে ২০২৪ সালে এই  পাঁচজনকে এসইভিসি থেকে ডিএমডি পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। পদোন্নতি ও নিয়োগপত্রে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দিলেও নিয়োগপত্রে উল্লেখ ছিল ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত তারা চাকরির সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন এবং ব্যাংকের সার্ভিস রুল অনুযায়ী তাদের চাকরি বহাল থাকবে। এই পাঁচজন ডিএমডির কারোই বয়স ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ৬০ বছর হচ্ছে না। অথচ চুক্তির মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে  এই অজুহাতে ৩০ অক্টোবর থেকেই তাদের বিদায়ের আয়োজন শুরু হয়ে গেছে।
অভিজ্ঞ ব্যাংকার মো: মাহমুদুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান আল মামুন, মো: রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ এবং মো: মাকসুদুল ইসলাম- এই পাঁচজনই দীর্ঘ দিন বিভিন্ন পদে যোগ্যতার সাথে দায়িত্ব পালন করে ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছেন। এদের মধ্যে দুইজন ১৯৯৩ সালে ও দুইজন ১৯৯৫ সালে প্রবেশনারী অফিসার হিসেবে এবং অন্যজন ১৯৯৮ সালে সিনিয়র অফিসার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করে কোনো ধরনের ধারাবাহিকতা ভঙ্গ না করে ডিএমডি পর্যন্ত পদোন্নতি পেয়েছেন। ক্যারিয়ারের শেষের দিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে এদের একেকজন এখন ব্যাংকের এক বা একাধিক উইংয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। প্রত্যেকেই ব্যাংকের অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক বাণিজ্য, করপোরেট বিনিয়োগ, অডিট, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা এবং ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পোর্টফোলিওগুলো পরিচালনা করছেন। অথচ এদের চাকরিই এখন খাড়ার নিচে।
দেশের বৃহত্তম ব্যাংক হওয়ার কারণে রেমিট্যান্স, বৈদেশিক বাণিজ্য, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়নসহ সব ক্ষেত্রেই ইসলামী ব্যাংকের রয়েছে বিশাল ভূমিকা। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশিত রাষ্ট্রীয় প্রসবনীয় অগ্রাধিকার সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি বাস্তবায়নেও ইসলামী ব্যাংকই মূল ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এই পাঁচজন কর্মকর্তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, ব্যাংকের নীতি নির্ধারণ, ফান্ড ম্যানেজমেন্ট, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন, যা ব্যাংকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আমানতকারী, বিনিয়োগ গ্রাহক এবং ফরেইন করেসপন্ডেন্টদের সাথেও এদের রয়েছে তিন দশকেরও বেশি সময়ের নিবিড় সম্পর্ক। এদের বাদ দেয়া হলে ধুঁকতে থাকা ব্যাংকটি আবারো নেতৃত্ব শূন্যতা ও ভয়াবহ আস্থার সঙ্কটে পড়বে।
ইতোমধ্যে এই পাঁচজন ডিএমডি ৬০ বছর পর্যন্ত তাদের চাকরি অব্যাহত রেখে তা নবায়নের আবেদন করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকের প্রশাসন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবেদনে তারা চাকরির নবায়নের যৌক্তিকতা উল্লেখ করে বলেছেন, ব্যাংকের বিদ্যমান এইচআর পলিসি, নিয়োগপত্রের শর্ত এবং দেশের আইন অনুযায়ী তাদের ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরি করার অধিকার রয়েছে।
তারা আবেদনে উল্লেখ করেছেন, ডিএমডি পদে নিয়োগের সময় তাদের সার্ভিস বেনিফিট প্রদান করা হয়নি এবং নিয়মিত কর্মকর্তা হিসেবে চাকরির  সময় হিসাব করা হচ্ছে। তাদের ১৮০ দিন ছুটি পাওনা রয়েছে। সার্ভিস রুল অনুযায়ী এক বছর আগে জানানো হয়নি যে, তাদের চাকরির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। তারা আরো উল্লেখ করেছেন, তাদের চাকরিতে কোনো ডিসকন্টিনিউটি নেই বা ছেদ পড়েনি। ফলে তাদের চাকরি অব্যাহত না রাখার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বরং তাদের বাদ দিলে তা হবে দেশের প্রচলিত নিয়মের ব্যত্যয় এবং অমানবিক।
তারা আবেদনাপত্রে আরো উল্লেখ করেছেন, ‘ব্যাংকের চাকরি বিধিমালালার চতুর্থ অধ্যায় (চৎড়সড়ঃরড়হ চড়ষরপ)-এর অনুচ্ছেদ ১.১৪ অনুযায়ী উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ মূলত পদোন্নতি। ২০১৭ সালের পূর্বে এ পদটি চুক্তিভিত্তিক ছিল না। পরবর্তীতে প্রবর্তিত চুক্তিভিত্তিক কাঠামো একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা মাত্র, যা পদোন্নতির মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন করে না।’
প্রাসঙ্গিক উল্লেখ্য যে, ‘গত ১৯ আগস্ট এ ধরনের একটি মামলায় বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইজুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রায়ে উল্লেখ করেন যে, ‘চাকরিতে প্রবেশের সময় কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর যে অধিকার ও পদোন্নতির যোগ্যতা থাকে, পরবর্তীতে প্রবিধানমালা বা বিধি সংশোধন করে তা কেড়ে নেয়া যাবে না।’
ইসলামী ব্যাংকের এই কর্মকর্তারা যখন চাকরিতে যোগদান করেন তখন ডিএমডি বা উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদটি ছিল একটি নিয়মিত পদ, যা প্রমোশন পলিসিতে এখনো বিদ্যমান। অন্য দিকে ২০১৭ সালে ব্যাংক এই পদটি চুক্তিভিত্তিক একটি পদে রূপান্তর করলেও নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ৬০ বছর পর্যন্ত পিএফ, সুপারঅ্যানুয়েশন ফান্ড এবং চাকরির যাবতীয় শর্ত ব্যাংকের এইচআর পলিসি দ্বারা পরিচালিত হবে এবং ব্যাংকের এইচআর পলিসিতে চাকরির সীমা ৬০ বছর নির্ধারিত রয়েছে। যেহেতু এই পাঁচজন ডিএমডির বয়স ৬০ বছর হচ্ছে না, ফলে তাদের চাকরি থেকে বাদ দেয়া হবে একটি বেআইনি কাজ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, এই কর্মকর্তাদের অপরিহার্যতার বিষয়টি অবহিত করে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন ৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করেন এবং তাদের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে নির্দেশনা কামনা করেছেন। মোহাম্মদ জহির হোসেন তার পত্রে উল্লেখ করেছেন, ‘ইসলামী ব্যাংক একটি ইসলামী শরিয়াহ্ ভিত্তিক ব্যাংক। এ সংক্রান্ত নীতি ও কর্মপৌশল প্রণয়ন এবং তার বাস্তবায়নে এদের রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। উপরন্তু ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের সাথে তাদের যোগাযোগ স্থাপনের যে সক্ষমতা রয়েছে তা দেশের ব্যাংকিং খাতে অনন্য এবং যা সহজে প্রতিস্থাপনযোগ্য নয়।’
তিনি বলেন, ‘উক্ত এক্সিকিউটিভরা দীর্ঘ দিন এই ব্যাংকে কর্মরত থাকায় ইসলামী ব্যাংকিং কাঠামোর আদ্যোপান্ত ও মূল সঙ্কটসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকায় বর্তমান সঙ্কট নিরম্ব এবং ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত্রসমূহ দ্রুত পুনর্গঠনে সক্ষমতার প্রমাণ রেখে চলেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই কর্মকর্তাংশ তাদের দীর্ঘদিনের অর্জিত জ্ঞান, বিচক্ষণ প্রজ্ঞা ও প্রজ্ঞাপূর্ণ তদারকির মাধ্যমে ব্যাংকটিকে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন। ফলে লাখ লাখ প্রবাসীসহ সাধারণ গ্রাহক, দেশী-বিদেশী স্টেকহোল্ডার ও আমানতকারীদের মধ্যে আস্থা দ্রুত ফিরে এসেছে।’
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘ব্যাংকটি বর্তমানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সংস্কার এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্ব পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট সাফল্যও অর্জিত হয়েছে। ব্যাংকের এই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মুহূর্তে শীর্ষ নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তন এলে চলমান রিকভারি কার্যক্রম ও নীতিগত ধারাবাহিকতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। একই কারণে গ্রাহক আস্থাতেও পুনরায় মারাত্মক চির ধরবে যা মোকাবেলা করা কঠিন হবে। কারণ ব্যাংকটির দীর্ঘ দিনের পরীক্ষিত ও পুরনো গ্রাহকরা (ডিপোজিটরি ও বিনিয়োগ গ্রাহক নির্বিশেষে) এ সব নির্বাহীদের কাছে তাদের স্বার্থ নিরাপদ মনে করেন।’
ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জহির হোসেন তার পত্রে আরো পূর্বোল্লেখ করেন যে, ‘২০২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটি যখন আর্থিক সঙ্কট এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিপতিত হয়েছিল তখন এ সব নির্বাহীরা ব্যাংকের হাল ধরে সঙ্কট উত্তরণে অবদানের ভূমিকা রেখেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অপরাপর ব্যাংকগুলো এ ধরণের সক্ষমতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব কারণে এদের সার্ভিস (কাজ চালিয়ে যাওয়া) ব্যাংকের স্বার্থেই অতি জরুরি।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর মোহাম্মদ জহির হোসেন বোর্ড অব ডিরেক্টরের সব ক্ষমতা নিয়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। সেই ক্ষমতাবলে সম্প্রতি তিনি ইসলামী ব্যাংকের দুইজন এসইভিসিকে ডিএমডি হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তার হাতে সমস্ত কর্তৃত্ব থাকার পরও এই পাঁচজনের বিষয়টি নিজে সুরাহা না করে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ নানা কর্তৃপক্ষের অজুহাত দেখাচ্ছেন। ব্যাংকের প্রবিধান অনুযায়ী একমাত্র এমডি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
এমডি ও ডিএমডি নিয়োগ নিরঙ্কুশভাবে বোর্ডের হাতে। আর যেহেতু মো: জহির হোসেন চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের সব ক্ষমতা প্রয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং সব ক্ষেত্রে তিনি তা প্রয়োগ করছেনই, সে কারণে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে তার এখতিয়ারভুক্ত। তদুপরি এই পাঁচজন অভিজ্ঞ ডিএমডি আবেদনপত্র জমা দিলেও গত ১৩ অক্টোবরের বোর্ডে এ বিষয়ে কোনো মেমো জমা দিতে তিনি বারণ করেছেন। অন্য দিকে ৬ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রেরিত পত্রের বিষয়টি সুরাহা না করে বাংলাদেশ ব্যাংক নানা রকম আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে ফেলে রেখেছে। অথচ বিষয়টি যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ার বহির্ভূত, সে কারণে তারা জানিয়ে দিতে পারত যে, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের করার কিছু নেই বরং চেয়ারম্যান হিসেবে বোর্ডের ক্ষমতা বলে জহির হোসেন নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে এস আলম, তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং আরো কয়েকটি কংগ্লোমারেটের মাধ্যমে ব্যাপক লুটপাটের শিকার হয় ইসলামী ব্যাংক। বিগত দুই বছরে ব্যাংকটি অনেকটা ঘুরে দাঁড়ায় এবং ২১ হাজার কোটি টাকার নতুন আমানত সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। কিন্তু গত মে মাসে এস আলম ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নিয়োগ দিলে কয়েকদিনের মধ্যে ব্যাংক থেকে গ্রাহকরা প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার আমানত তুলে নেয়। আমানতের স্থিতি নেমে দাঁড়ায় এক লাখ ৫৮ হাজার কোটিতে। ফলে ব্যাংকটি মারাত্মক তারল্য সঙ্কটে পড়ে এবং দেশের সমগ্র ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিজিবি এ বিষয়ে তাদের আশঙ্কাও ব্যক্ত করে।
সে সময় আর্থিক খাতে বিপর্যয় ও  গণ-অসন্তোষের আশঙ্কায় বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা প্রদান করে কার্যক্রম চালু রাখে। অনন্যোপায় হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক খুরশীদ আলমকে দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্বেই চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। তাকে অব্যাহতির পর গত চার মাসে ব্যাংকটিতে নতুন করে আবার আট হাজার কোটি টাকার আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন যদি আবার এই পাঁচজন ডিএমডি যারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ব্যাংকটির পুনর্গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদেরকে বিদায় করে দেয়া হয় তাহলে আবারো ব্যাংকটি আস্থার সঙ্কটে নিমজ্জিত হবে, যা ইসলামী ব্যাংক তথা দেশের ব্যাংকিং সেক্টরকেই অস্থিতিশীল করে তুলবে।
দেশের আর্থিক খাত নিয়ে কাজ করেন এমন কয়েকজন বিশেষজ্ঞের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং বলেন কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরই এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়। তারা আরো বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান তার এ ধরনের দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীকে হাতছাড়া করে না। ইসলামী ব্যাংকের মতো এমন একটি বিশেষায়িত ব্যাংকের এই পর্যায়ের পাঁচজন নির্বাহীকে বিদায় করা হবে ব্যাংকের জন্য আত্মহত্যারই শামিল।
প্রায় তিন কোটি গ্রাহক, যার একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী এবং এক লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা আমানতের এই ব্যাংকটিতে যদি নতুন করে কোনো সঙ্কট তৈরি হয়, তাহলে তা ইসলামী ব্যাংকের গণ্ডি ছাড়িয়ে সমগ্র ব্যাংকিং সেক্টর, আর্থিক খাত এবং সর্বোপরি দেশের আইন-শৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। কারণ ইসলামী ব্যাংকের অধিকাংশ আমানতকারীই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের। এর মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ রয়েছে গ্রামীণ জনপদের দুস্থ নারী। ব্যাংকটিতে করপোরেট আমানত ২ শতাংশের কম। ফলে এই তিন কোটি গ্রাহক রাস্তায় নেমে পড়লে সেই গণ-অসন্তোষ সামলানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
আর সত্যিই যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে তবে বিদেশী ব্যাংক ও উন্নয়ন সহযোগীরাও বিষয়টিকে নেতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করবে যা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ফল বয়ে আনতে পারে।
অভিজ্ঞ মহলের মত হলো এই পাঁচজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা যাদের সম্পর্কে স্বয়ং ব্যাংকটির চেয়ারম্যানই বলেছেন, তাদের যে সক্ষমতা রয়েছে ব্যাংকিং সেক্টরে তা অনন্য এবং সহজে প্রতিস্থাপনযোগ্য নয় তাদেরকে অন্যায়ভাবে সরিয়ে না দিয়ে বরং তাদের সার্ভিস গ্রহণ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম ইসলামী এবং একসময়ের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দেশের শ্রেষ্ঠ ব্যাংকটির গতিশীলতা বজায় রাখাই হবে যথাযথ সিদ্ধান্ত।