
- বাংলাদেশকে কারো কাছে ইজারা দেয়া হয়নি : ডা. শফিক
- ধোঁকাবাজি বন্ধ না করলে জনগণ লাল কার্ড দেখাবে : মাওলানা মামুনুল হক
- বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখল ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি চলছে : কর্নেল অলি
গণভোটে জনগণের দেয়া রায় বাস্তবায়নে সরকারকে আগামী ৯ তারিখের আগে অবস্থান সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে কারো কাছে ইজারা দেয়া হয়নি, ৭০ শতাংশ মানুষের দাবি আদায় করা হবে। প্রয়োজনে রাজপথে আন্দোলন হবে। আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে, ধোঁকাবাজি বন্ধ না করলে জনগণ সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। আর এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীর বিক্রম অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখল ও সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি চলছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশসহ বিভিন্ন পথসভা ও সমাবেশে এসব কথা বলেন তারা। সংবিধান সংস্কারসহ সাত দফা দাবি আদায়ে আয়োজিত এ কর্মসূচি রাজধানী থেকে শুরু হয়ে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হয়।
১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- গণভোটের গণরায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও সারের সঙ্কট নিরসন, সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ বন্ধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার।
সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৮টার দিকে গাড়িবহর গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করে। পদ্মা সেতু অতিক্রম করে বহরটি শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা এবং গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়ায় পথসভায় অংশ নেয়। ভাটিয়াপাড়ায় বহর পৌঁছালে স্থানীয় নারী-পুরুষ সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে নেতাদের স্বাগত জানান। সেখানে ডা. শফিকুর রহমান স্থানীয়দের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও বক্তব্য দেন।
এরপর বাগেরহাটের ফকিরহাটের নওয়াপাড়া ও কাটাখালী মোড় হয়ে খুলনা মহানগরীতে প্রবেশ করে গাড়িবহর। কাটাখালীতে প্রখর রোদ উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ পথসভায় অংশ নেন। পরে খুলনার বাবরি চত্বরের শিববাড়ী মোড় এবং ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে পৃথক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ফুলতলার কর্মসূচি শেষে বহর যশোরের উদ্দেশে রওনা হয়। যশোরের মুড়লীর মোড় ও চাচড়া এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা ও জনসংযোগের পর কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে লংমার্চের গাড়িবহর।
লংমার্চের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সড়কের দুই পাশে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা যায়। কোথাও স্লোগান দিয়ে বহরকে স্বাগত জানানো হয়, কোথাও পথসভায় নেতাদের বক্তব্য শোনেন স্থানীয় মানুষ। গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া, বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাটাখালী এবং খুলনার বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য জনসমাগম হয়। বিভিন্ন স্থানে নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। গাড়িবহর পৌঁছানোর আগেই অনেক স্থানে অপেক্ষায় ছিলেন নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।
শফিকুর রহমানের বক্তব্য
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে শুরু হওয়া এই লংমার্চ কোনো দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। জনগণের ভোগান্তি দূর করা এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। সাত দফা দাবির প্রধান ভিত্তি হচ্ছে গণভোটে জনগণের দেয়া রায় বাস্তবায়ন। এই রায় বাস্তবায়িত হলে দেশে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দুর্নীতির সুযোগ থাকত না।
বিএনপির বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে মিথ্যাচার এবং জনগণের আকাক্সক্ষার সাথে বিশ^াসঘাতকতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জনগণ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আগামী ৯ তারিখের আগেই সরকারকে নিজেদের অবস্থান সংশোধন করে গণরায় বাস্তবায়নের ঘোষণা দিতে হবে।
তিনি বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষের দেয়া রায় কোনোভাবেই অপমানিত হতে দেয়া হবে না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। গণরায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে তারা সরে আসবেন না।
যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, তরুণেরা কারো ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হবে না। অর্জিত নতুন স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় তাদের আবারো ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই বিপ্লবের অর্জন রক্ষায় সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
সারসঙ্কটের প্রসঙ্গ তুলে খুলনার সমাবেশে ডা. শফিক বলেন, কৃষক সার পাচ্ছেন না। পাবেন কিভাবে? নতুন করে তারা বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ডিলার নিয়োগ দিচ্ছেন। এ নিয়ে হইচই হচ্ছে, আবার নিজেদের মধ্যে খাবলা-খাবলি চলছে। কিন্তু কৃষক সার পাচ্ছেন না। আমরা এসব দাবি নিয়েই মাঠে নেমেছি। তিনি বলেন, শহীদ হাদিসহ ফ্যাসিবাদের সাড়ে ১৫ বছরে, বিশেষ করে জুলাইয়ে, যাদের হত্যা করা হয়েছে, সেই হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে তারা মাঠে নেমেছেন। সরকারি দলের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ জাতিকে চাঁদার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে এবং জনগণের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার বন্ধ করতেও তারা রাস্তায় নেমেছেন।
তিনি আরো বলেন, দাবিগুলো তাদের দলীয় বা জোটের দাবি নয়; প্রতিটি দাবি এ দেশের মানুষের, বাঁচা-মরার দাবি। তারা জনতার সাথে আছেন। এরপর যদি এক দফার প্রয়োজন হয় এবং খুলনা থেকে ঢাকায় যাওয়ার ডাক আসে, তাহলে বাংলার প্রত্যেকটি গ্রামের ঘর থেকে সবাইকে ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে হবে।
অলি আহমদের বক্তব্য
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব:) ড. অলি আহমদ বলেন, ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় কে প্রেসিডেন্ট হলেন, তার ওপর রাষ্ট্রের সবকিছু নির্ভর করে না। কারণ, সেখানে একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা বা সিস্টেম রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বারবার সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ব্যক্তি পরিবর্তনের সাথে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কাঠামো পরিবর্তিত হবে না। কার্যকর ও শক্তিশালী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সঙ্কট থেকে বের হওয়া সম্ভব হবে না।
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, উপজেলা, জেলা পরিষদ, ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখল এবং টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি চলছে। এসব কর্মকাণ্ডের দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই বর্তাবে।
সরকারকে চাটুকারদের পরিহার করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অভিজ্ঞ ও ভালো মানুষের পরামর্শ নিতে হবে। চাটুকারদের কথায় পরিচালিত না হয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ১৯৯৬ সালের মতো পরিস্থিতি এড়াতে সময় থাকতে সরকারকে সতর্ক হয়ে জনগণের আকাক্সক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
মামুনুল হকের বক্তব্য
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, কার্ডের মাধ্যমে ধোঁকাবাজি বন্ধ না করলে জনগণ আপনাদের লাল কার্ড দেখাবে। কার্ড বাদ দিয়ে জনগণের অধিকার আদায়ে সহযোগিতা করুন। তিনি এক দফা দাবি আদায়ে ১১ দলের ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দু’টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি সরকার গঠনের জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন, অন্যটি রাষ্ট্র মেরামতের প্রশ্নে হ্যাঁ-না ভোটের নির্বাচন। সংসদ নির্বাচনে সরকার ৫০ শতাংশ ভোট পেলেও সেই নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। অন্য দিকে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে জনগণের দেয়া বিপুল রায় সরকার অবমাননা করছে।
গণভোটের বৈধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই মায়ের গর্ভে জন্ম নেয়া যমজ সন্তানের একজন বৈধ হলে অন্যজন অবৈধ হতে পারে না। একইভাবে একই দিনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন বৈধ হলে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে গণভোটে দেয়া জনগণের রায়ও পুরোপুরি আইনি ও বৈধ।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জনগণ যে পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা প্রকাশ করেছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে জনগণের দেয়া রায় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও দুর্নীতির জন্য সংবিধান সংস্কার না করাকে দায়ী করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কাক্সিক্ষত সংস্কার না হওয়ায় এসব সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। জুলাই বিপ্লবের সুফল জনগণের ঘরে পৌঁছে দিতে সংবিধান সংস্কার জরুরি।
অন্যান্য নেতার বক্তব্য
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষের দেয়া রায় উপেক্ষা করে সরকার একদলীয় বাকশালী কায়দায় ফ্যাসিবাদের দিকে হাঁটছে। শেখ হাসিনার স্টাইলে সবকিছু পরিচালনা করে জুলাইয়ের রক্তের সাথে গাদ্দারি করতে দেয়া হবে না। এখনো সময় আছে, অধিবেশন ডেকে সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে।
উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপনির্বাচনে জাল ভোট দেয়া হয়েছে, প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ছবি ছিল না এবং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। দেশকে দলীয়করণ না করে গণমানুষের দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, সাত দফা দাবি মেনে না নিলে এবং সংবিধান সংস্কার না করলে জনগণ লংমার্চের মাধ্যমে লাল কার্ড দেখিয়ে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ব্যবস্থা করবে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের কথা বলে তার দ্বিগুণ মানুষের চাকরি চলে গেছে। আওয়ামী লীগের অন্তঃকোন্দলে প্রায় ৩৮ জন মারা গেছেন। আপনাদের আট মাসের অন্তঃকোন্দলে প্রায় ৪৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাংলার মানুষের রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হলে আবারো রক্ত দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনকে আট মাসেই অতিক্রম করেছে বিএনপি। নেতাকর্মীদের ভবন দখল, প্রকাশ্যে হাসপাতাল ভাঙচুর ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, গত উপনির্বাচনে দেখা গেছে, দেলাওয়ার হোসেনকে পরাজিত করানো হয়েছে। মহামান্যের সম্মান রক্ষার্থে আগের চেয়ে বেশি ভোট দিয়ে তাকে পাস করানো হয়েছে। সরকার ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে এ দেশে থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, এখন আর জনগণ সাত দফা দেখছে না, দেখছে এক দফা। নিকট অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জুলাই সনদ মেনে নিতে হবে। অন্যথায় জনগণ সরকারকে পালানোর জায়গা দেবে না।
ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনুয়ারুল ইসলাম চান বলেন, ‘আইহ্যাব এ প্লান’ মানে গুপ্তহত্যা করা। গুপ্তহত্যাকারী সরকারকে বলব, দেশের মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে বলছে, ‘ভাত দে হারামজাদা, মানচিত্র খাবলে খাবো।’
খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে এক কথা বলেছে, এখন আরেক কথা বলছে। দেশের জনগণের সাথে আর প্রতারণা করা যাবে না।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। তিনি বলেন, তাদের আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। রক্তাক্ত জুলাই যে আকাক্সক্ষা তৈরি করেছে, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর সংস্কারের শপথ না নিয়ে জাতির সাথে বেঈমানী করা হয়েছে। বিএনপিকে সাংবিধানিক সঙ্কটের দায়িত্ব নিতে হবে। পুলিশের আইজিপি ক্রসফায়ারের মতো কথা জনসম্মুখে বলছেন, অথচ ফ্যাসিবাদী সরকারও প্রকাশ্যে এ ধরনের কথা বলেনি। ছাত্র-জনতা আবার মাঠে নামলে পালানোর জায়গা পাবেন না।
জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী সেলিম উদ্দিন বলেন, সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার করতে হবে। দেশের সব মানুষের দাবি মেনে নিতে হবে। হাসিনা কাউকে গুরুত্ব দিতেন না, আপনারাও সেই পথ অনুসরণ শুরু করেছেন।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, বর্তমান সরকার নব্য ফ্যাসিবাদে রূপ নিয়েছে। তাদের দলীয় কোন্দলে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। ১১ দলীয় ঐক্যের দাবি মেনে নিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
ডাকসুর ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী আবু সাদেক কায়েম বলেন, আওয়ামী লীগ কোটা ও জুলুমের মাধ্যমে দেশ ছেড়েছে। বর্তমান সরকার দলীয়করণের মাধ্যমে দেশ ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি করছে। জনগণের রায় মেনে না নিলে জনগণ সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেবে না।
বায়তুল মোকাররমের উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক সঞ্চালনা করেন।
দিনভর পথসভা ও জনসংযোগের পর লংমার্চের শেষ গন্তব্য ছিল কুষ্টিয়া। সেখানে জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী জনসভা। ১১ দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাস্থলও হয়ে ওঠে মুখর। ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয় তৃতীয় ধাপের এই লংমার্চ। রাজধানী থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত দীর্ঘ পথের প্রতিটি পর্বে অভ্যর্থনা, পথসভা ও জনসমাগমের মধ্য দিয়ে সাত দফা দাবির পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা। এর আগে সাত দফা দাবি আদায়ে ১১ দলীয় ঐক্য গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় লংমার্চ কর্মসূচি পালন করে।
খুলনায় গাড়িবহর লক্ষ্য
করে ককটেল নিক্ষেপ
খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের গাড়িবহর লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ফুলবাড়ীগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে গাড়িবহরের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও আতঙ্কে দিগি¦দিক ছোটাছুটি করেন লংমার্চকে স্বাগত জানাতে জড়ো হওয়া নারী-পুরুষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লংমার্চের গাড়িবহর খুলনার শিববাড়ী থেকে ফুলতলার দিকে যাওয়ার পথে ফুলবাড়ীগেট এলাকায় পৌঁছানোর আগেই হেলমেট পরা কয়েক ব্যক্তি পরপর চার-পাঁচটি ককটেল নিক্ষেপ করে। বিস্ফোরণের পরপরই তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ সময় সেখানে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি করেন।
এর আগে ফুলবাড়ীগেট এলাকায় লংমার্চকে স্বাগত জানাতে নির্মিত একটি তোরণে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। পরপর এসব ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তবে কারা এ ঘটনার সাথে জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে, তা জানা যায়নি। এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের খানজাহান আলী থানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। থানার ওসি মো: আবুল বাসারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য ককটেল নিক্ষেপের ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গোপালগঞ্জে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, লংমার্চের গাড়িবহর কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জ জেলা অতিক্রম করে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








