কেন্দুয়ায় বাবা-ছেলে নিহত, মা-মেয়ে আহত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক 

Advertisement

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত ও মা-মেয়েসহ তিনজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পৃথক দুর্ঘটনায় দেশের অন্যান্য স্থানে প্রাণ হারিয়েছেন আরো তিনজন।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি ও কেন্দুয়া সংবাদদাতা জানান, নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত ও মা-মেয়েসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার  দুপুরে কেন্দুয়া- নেত্রকোনা সড়কের  লাউড়িবাড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- মাহমুদুল হক শাহীন (৪০), তার পাঁচ বছর বয়সী শিশুপুত্র রাজিন। গুরুতর আহত স্ত্রী তুহীন আক্তার (৩০), আট বছর বয়সী মেয়ে এবং মোটরসাইকেলচালক শফিক (৩৫)। 
নিহত শাহীন কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের আমতলী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দলিল লেখক ছিলেন।  গুরুতর আহত মোটরসাইকেল চালক শফিককে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 
জানা যায়, দুপুরের দিকে মোটরসাইকেলযোগে বাবা-ছেলে, স্ত্রী, কন্যাসহ নেত্রকোনর উদ্দেশে আসার পথে কেন্দুয়া-নেত্রকোনা সড়কপথের লাউড়িবাড়ি এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি বেপরোয়াগামী মোটরসাইকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে ছিটকে উভয় মোটরসাইকেলের আরোহীরা রাস্তার ওপর পড়ে কাতরাতে থাকেন। এ সময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবা-ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন। 
লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা জানান, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে  মিজান শেখ (৫০) নামে এক ইজিবাইকের যাত্রী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার  দুপুরে  যশোর- কালনা মহাসড়কের রামপুর দরগা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নড়াইলের হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো: মহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত মিজান শেখ উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতি গ্রামের মৃত পহম শেখের ছেলে। পারিবারিক ও পুলিশ সূত্র জানা যায়, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লক্ষীপাশা  থেকে ইজিবাইকে ঈশানগাতি গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন মিজান শেখ। পথিমধ্যে যশোর-কালনা মহাসড়কের রামপুর দরগার সামনে এলে ইজিবাইকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মিজান শেখ গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে প্রাইভেট কার ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন এক যুবক। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিন যাত্রী।
শুক্রবার বেলা ১১টায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দেউলাবাড়ি বাস স্টেশনসংলগ্ন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ও আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।  
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মধুপুর থেকে আনারসভর্তি একটি অটোরিকশা ঘাটাইলের দিকে যাচ্ছিল। অন্য দিকে ঘাটাইল থেকে ছেড়ে আসা একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার সাইরেন বাজিয়ে অটোরিকশার ওপর উঠিয়ে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। মারাত্মক আহত হন আরো তিনজন। আহতদের দ্রুত মধুপুর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঘাটাইল ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। ঘটনাস্থলে একজনকে নিহত অবস্থায় দেখতে পাই এবং আহত তিনজনকে স্থানীয়রা হাসপাতালে পাঠান। 
মতলব (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় আবারো ট্রলির ধাক্কায় প্রাণ গেল এক শিশুর। এবার নিহত হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী স্কুলছাত্র মো: ইয়াছিন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগানবাড়ি ইউনিয়নের খাগুরিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।  
নিহত ইয়াছিন খাগুরিয়া গ্রামের খানবাড়ির আবুল হোসেন খানের নাতি এবং বাবু খানের ছেলে। সে খাগুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুশ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। 
জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে খাগুরিয়া গ্রামে একটি ট্রলির নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় ইয়াছিন। তার মাথা ও পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে। পরে স্বজনরা তাকে শ্রী-রায়েরচর একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।  
মতলব উত্তরে ট্রলির ধাক্কায় প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। এর আগে গত ২১ অক্টোবর সাহেব বাজার-ঠেটালিয়া বেড়িবাঁধ সড়কের সম্ভুখার মোড়ে বালুবাহী ট্রলির ধাক্কায় আক্তার হোসেন খোকন (৪৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। ১ অক্টোবর মতলব ব্রিজে  পিকআপভ্যান ও ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘনিয়ারপাড় গ্রামের তরুণ অহিদুল ইসলাম (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর ছেংগারচর বাজারে ট্রলির ধাক্কায় তিন বছর বয়সী শিশু ফারিয়ার মৃত্যু হয়।