
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কর্তৃক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং তাদের মিত্র ১৪ দলীয় জোটকে ‘ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন’ বা অপরাধমূলক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করায় ট্রাইব্যুনালের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণকে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ-এনআরসি।
একই সাথে এই রায়ের আলোকেই আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে অবিলম্বে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ ও অবৈধ ঘোষণার জন্য বিএনপি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এনআরসির আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।
গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে খোমেনী ইহসান বলেন, গতকাল ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কুষ্টিয়ায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের হত্যা মামলায় যে রায় ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, তা চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্বজনদের দীর্ঘদিনের দাবিরই আইনগত প্রতিফলন। রায়ে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, নিরস্ত্র শিক্ষার্থী ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং তা ছিল আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নীতি বাস্তবায়নের অংশ।
তিনি আরো বলেন, ট্রাইব্যুনাল তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও ১৪ দলীয় জোট একটি ‘অভিন্ন অপরাধমূলক উদ্দেশ্য’ (ঔড়রহঃ ঈৎরসরহধষ ঊহঃবৎঢ়ৎরংব) বাস্তবায়নে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করেছে। যেখানে একটি দলকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনকারী ‘ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, সেখানে সেই দলের স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকার বা রাজনীতি করার কোনো নৈতিক ও আইনগত অধিকার থাকতে পারে না।
বিবৃতিতে খোমেনী ইহসান জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তিন দফা দাবি তুলে ধরেছেন।
ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে ফ্যাসিবাদের মূল শক্তিকেন্দ্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন ও মিত্র ১৪ দলকে অবিলম্বে দলগতভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা জুলাই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শহীদ পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মাহবুব উল আলম হানিফসহ পলাতক সব মানবতাবিরোধী অপরাধীদের অতি দ্রুত আন্তর্জাতিক পুলিশি সহায়তায় গ্রেফতার করে শাস্তি কার্যকর করতে হবে। বিজ্ঞপ্তি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








