
বিমান চলাচলের নিরাপত্তাকে কেবল পরিচালন ব্যয় হিসেবে না দেখে মানুষের জীবন, মূল্যবান সম্পদ ও জাতীয় অগ্রগতি সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব: ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। তিনি বলেন, নিরাপদ বিমান চলাচল দুর্ঘটনা প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, যাত্রীদের আস্থা ও এ খাতের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি।
গতকাল ঢাকার প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অষ্টম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনার-২০২৬ (আইএফএসএস-২০২৬)-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিমানবন্দর, টার্মিনাল ও এয়ার নেভিগেশন ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন চলছে।
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। একই সাথে জাতীয় বিমান সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার কথা বলেন।
এ বছরের সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ঞবপযহড়ষড়মু, ঞৎধরহরহম ধহফ ঞবধসড়িৎশ: ঈৎবধঃরহম ধ ঋঁঃঁৎব-জবধফু ঝধভবঃু গরহফংবঃ’। এতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, দলগত কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ উপযোগী ফ্লাইট সেফটি সংস্কৃতি গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি উদীয়মান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণ এবং নিরাপদ ও টেকসই বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়। সেমিনারে ২১টি দেশের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন তার বক্তব্যে বলেন, মানুষের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা, অপারেশনাল প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়নে ফ্লাইট সেফটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সুদৃঢ় উড্ডয়ন নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা, পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জর্দান, মরক্কো, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, সুদান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জিম্বাবুয়ের বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিরা সেমিনারে অংশ নেন। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) প্রতিনিধিরাও এতে যোগ দেন। আইএসপিআর।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








