স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৬৪
স্পেনের তোলেদো প্রদেশে দুই ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনাস্থলে আহতদের হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকর্মীরা : ইন্টারনেট।

দ্য ইন্ডিপেডেন্ট
স্পেনে দু’টি দ্রুতগতির যাত্রীচালিত ট্রেনের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী দু’টি হাইস্পিড ট্রেনের মধ্যে ঘটা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরো বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গতকাল বুধবার সকালে তোলেদো প্রদেশের মোরা এবং ওরগাজ শহরের মধ্যবর্তী স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্পেনীয় জাতীয় রেল সংস্থা ‘রেনফে’ এবং বেসরকারি ট্রেন অপারেটর ‘ইরিও’-এর দু’টি ভিন্ন কোম্পানির উচ্চগতির ট্রেন এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একটি ট্রেন পেছন দিক থেকে অন্যটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে কয়েকটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উল্টে গিয়ে পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়। সকাল ৯টার একটু পর সংঘটিত এই দুর্ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও বিভিন্ন জরুরি উদ্ধারকারী দলের বিশাল বহর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন স্থিরচিত্র ও ভিডিওতে দেখা গেছে, দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ট্রেনের বগিগুলো রেললাইনের পাশে কাত হয়ে পড়ে রয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া আহত যাত্রীদের উদ্ধারে তীব্র শীত ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। নিকটবর্তী উরদা শহরের মেয়র মানুয়েল গালান গণমাধ্যমকে জানান যে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সেবামূলক কাজের অংশ হিসেবে আহতদের দ্রুত চিকিৎসা ও আশ্রয় প্রদানের জন্য একটি ইনডোর স্পোর্টস হল সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ দিকে ট্রেন নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী সংস্থা ‘আদিফ’ তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, এই মারাত্মক দুর্ঘটনার পর পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মাদ্রিদ থেকে আন্দালুসিয়ামী সব হাইস্পিড ট্রেনের চলাচল সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়েছে। এই ভয়ংকর প্রাণহানির ঘটনায় তীব্র শোক ও মর্মান্তিক বেদনা প্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। এক শোকবার্তায় তিনি জানান, তোলেদোর এই বেদনাদায়ক ট্রেন দুর্ঘটনা তাকে গভীরভাবে স্তম্ভিত করেছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য তিনি দেশের পরিবহনমন্ত্রী এবং কাস্তিয়া লা মানচার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্টের সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনাহতদের দ্রুত ও সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিতে সরকারি সব বিভাগ একসাথে কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দু’টি উচ্চগতির ট্রেন একই লাইনে চলে এসে এই ভয়াল সংঘর্ষ ঘটাল, তা খতিয়ে দেখতে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Advertisement