গোপালগঞ্জে বাবা-মেয়েসহ বিভিন্ন স্থানে ৬ জন নিহত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক
গোপালগঞ্জের মকসুদপুরে বাবা-মেয়েসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন।
মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে পিকআপ চাপায় বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গেড়াখোলা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো, ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার পবনবেগ  গ্রামের হেমায়েত মোল্লার ছেলে সাইফুল ইসলাম রঞ্জু (৪৫), ও তার মেয়ে সামিরা আক্তার (০৬)।  
মুকসুদপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, গোপালগঞ্জ গামী একটি মাছের পিকআপ বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোভ্যানকে চাপা দিয়ে চলে যায়, পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত্যু ঘোষণা করেন। মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজবাড়ী- কুষ্টিয়া সড়কের চন্দনী ব্রিজের কাছে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংর্ঘষে কুষ্টিয়ার যুবক নুরু আলম(২৮) ঘটন্থলেই নিহত হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ও আফরা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাজবাড়ীর গান্ধী মারা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত যুবক মো: নুর আলম (২৮) কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পাইপাড়া এলাকার সুতাইল গ্রামের সাকাউল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ খান জানান, রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়াগামী একটি বাস চন্দনী বাসস্ট্যান্ড পার হওয়ার পরপরই মোটরসাইকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলচালক গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নলডাঙ্গা( নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের নলডাঙ্গায় ট্রাকচাপায় গেদি বেগম (৫৬) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। নিহত গেদি বেগম রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলার পানানগর ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের মো: বনি ইসরাইলের স্ত্রী। এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাকসহ চালককে আটক করেছে নলডাঙ্গা থানা পুলিশ। রোববার নলডাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব সোনাপাতিল রেলব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার বেলা আনুমানিক ১২ টার দিকে ভিকটিম গেদি বেগম অটো ভ্যানে করে পাটুল থেকে দুর্গাপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথেমধ্যে নলডাঙ্গা থানাধীন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব সোনাপাতিল রেলব্রিজ সংলগ্ন মো: ওমিদুল শেখের মিলের উত্তর পাশে নলডাঙ্গা-পাটুল পাকা রাস্তার ওপর পৌঁছলে পেছন দিক থেকে আসা একটি ইঞ্জিনচালিত চার চাকার পাটবোঝাই ট্রাক ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যান থেকে ছিটকে রাস্তার ওপর পড়ে গিয়ে ওই নারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, ঢাকার কেরানীগঞ্জে পোস্তগোলা সেতুর ঢালে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শনিবার রাত ১২টার দিকে হাসনাবাদ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পোস্তগোলা সেতুর ঢাল দিয়ে নামার সময় মোটরসাইকেলটির সাথে ছয় চাকার একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের চালক ও পেছনে বসা নারী গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই ওই নারী মারা যান। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ দিকে দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ট্রাকের এক সহকারীকে মারধর করে সড়কের পাশে ফেলে রাখেন বলে জানা গেছে।
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মুনিরার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতে ঢাকার বাংলাদেশ মাল্টিকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মুনিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেড়তলা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনার শিকার হন মুনিরা। এ সময় একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৫ জন। তাদের মধ্যে ছিলেন মুনিরাও।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মুনিরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেয়া হয়। তার সাথে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদ জানান, শনিবার সকাল ৭টার দিকে দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর মুনিরাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে বাংলাদেশ মাল্টিকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মুনিরার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মুনিরার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ঘটনাটি জানার পর থেকেই আমি জুনায়েদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। তাৎক্ষণিকভাবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও অ্যালামনাইরা হাসপাতালে যান। সেখানে বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো: জহির বিন আলমও উপস্থিত ছিলেন।’

Advertisement