
বিশেষ সংবাদদাতা
আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠের পরিস্থিতি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। রোববার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে দলটির একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাতের পর সংবাদ সম্মেলনে ভোট কেন্দ্রে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অপসারণের দাবি জানায়।
জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে এই বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিরপেক্ষ নয় বলে অভিযোগ করা হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, অভিযোগের পক্ষে আহত ব্যক্তিদের ছবি এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের নানা প্রমাণ কমিশনের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। তবে কমিশনের আশ্বাসে তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তিনি জানান, তারা এখনো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি এবং সুষ্ঠু পরিবেশ পেলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- অভিযোগগুলো তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোট কেন্দ্রে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা। এ ছাড়া সদর উপজেলার ইউএনও বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ করে তাকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। প্রার্থীর পক্ষে রাতে বৈঠক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণাসহ মসজিদে সভা ও চিকিৎসাসেবা দেয়ার নামে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলে দলটি।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বাড়ানোর চেয়ে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তির নিরপেক্ষতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, দায়িত্বশীল ব্যক্তি দলীয় অনুগত হলে শুধু সংখ্যা দিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু করা সম্ভব নয়। অতীতের মাগুরা উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন অতীতে বড় রাজনৈতিক সঙ্কটের জন্ম দিয়েছিল। ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়েও যেন তেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন স্থানীয়ভাবে যোগাযোগ করে এখতিয়ার অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেও জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, তারা এ আশ্বাসে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি।
বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের পরিবেশ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থান নিষিদ্ধ করে অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি। রোববার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই নির্দেশনাটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য আসনের এই উপনির্বাচন। নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময়ের ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আরো ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। অর্থাৎ, ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে শুরু করে ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় কোনো বহিরাগত ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন না।
সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তি, নির্বাচন কমিশন থেকে বৈধ অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং ওই নির্বাচনী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বা নিবন্ধিত ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ওই এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। চিঠিতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গৃহীত এই সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপনির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো: দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো: আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো: খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








