
ক্রীড়া প্রতিবেদক
অ্যাকাডেমি মাঠের নেটে অনুশীলনে তেমন কোনো অস্বস্তি বোধ করতে দেখা গেল না ডান হাতি ব্যাটার লিটন দাসকে। ঘণ্টাখানেকের নেট সেশনে তেমন একটা বড় শট মারতে দেখা যায়নি। চোট কাটিয়ে ফেরার লড়াইয়ে থাকা কিপার-ব্যাটার নেটে ব্যাট করছিলেন কিছুটা সতর্ক হয়ে। থ্রো ডাউনের পাশাপাশি অফ স্পিনার নাঈম হাসান ও নেট বোলারদের সামলেছেন। কিছু বল খেলার পর নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে গিয়ে করেছেন স্ট্রেচিং। ব্যাটিং অনুশীলন সারলেও লিটনকে কিপিং অনুশীলন করতে দেখা যায়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে লম্বা সময় কিপিং ও ব্যাটিং করার প্রভাবে ত্রিদেশীয় সিরিজের ঠিক আগে চোটে পড়েন লিটন দাস। টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে জানানো হয়, হিপ জয়েন্টের চোট, যার ফলে নিয়মিত অধিনায়ককে ছাড়াই ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যর্থ মিশন শেষ করে বাংলাদেশ। এবারো সামনে টেস্ট। তবে এই টেস্ট সিরিজ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় তা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। শতভাগ ফিট ছন্দে থাকা লিটনকে দরকার বাংলাদেশের। দল ঘোষণার দিন দুয়েক আগেও লিটনকে নিয়ে একটা উদ্বেগ ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের। শেষ পর্যন্ত স্কোয়াডে তাকে রাখা হয়েছে। যদিও লিটনের খেলা নির্ভর করছে তার নিজের স্বস্তির ওপর।
কোন কারণে লিটন খেলতে না পারলে জাকের আলি অনিক তৈরি আছেন। নেটে অনুশীলন করেছেন তিনিও। বাংলাদেশ যদি বোলার কমিয়ে বাড়তি ব্যাটার খেলায় তাহলে বিবেচনায় থাকবেন তৌহিদ হৃদয়। এমনকি লিটন যদি শুধু ব্যাটার হিসেবে খেলেন, তাহলেও একাদশের সমন্বয় আনতে বাড়তি ব্যাটার খেলাতে হবে।
জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পেয়েই শিষ্যদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। মোহাম্মদ আশরাফুলের পরিবর্তে দায়িত্ব পাওয়ার পরদিনই অ্যাকাডেমি মাঠে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন অভিজ্ঞ এই কোচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে ব্যাটারদের প্রস্তুতিতে বিশেষ নজর দিয়েছেন। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন। নেটে ব্যাটিং করেন নাজমুল হোসেন শান্ত, হৃদয়, সাদমান ইসলাম, জাকের আলী অনিক, মুমিনুল হকসহ দলের একাধিক ব্যাটসম্যান। অনুশীলনে লিটনের ব্যাটিং নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন সালাহউদ্দিন। পাশাপাশি জাকের আলী অনিকের ব্যাটিং নিয়েও আলাদাভাবে কাজ করেছেন।
লিটন দলে ফিরলেও তার খেলা নিয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয় টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনও লিটনের ফিটনেস নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। অনুশীলনে ব্যাটিংয়ের সময় কোনো ব্যথা অনুভব না করলে তবেই একাদশে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই উইকেটকিপার-ব্যাটারের। ফলে গুরুত্বপূর্ণ টেস্টের আগে লিটনকে নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে বাংলাদেশ দল।
এ দিকে ব্যাটারদের প্রস্তুতির পাশাপাশি বোলারদের নিয়েও কাজ করেছে কোচিং প্যানেল। অনুশীলনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কোচ মালিবংওয়ে মাকেতা ও স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের স্পিনে চাপে ফেলতে তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসানের সাথে কাজ করেছেন মুশতাক। এ দিন বল হাতেও অনুশীলন করেছেন মুমিনুল হক।
কে হচ্ছেন ব্যাটিং কোচ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে এই সিরিজ শুরুর আগে পরিবর্তন আনা হয়েছে কোচিং প্যানেলে। ব্যাটিং কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে মোহাম্মদ আশরাফুলকে। সাদা বলের ক্রিকেটে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় অনেকদিন ধরেই সমালোচিত হচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাকে সরিয়ে দিলো বিসিবি। আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে অন্তবর্তীকালীন ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব সামলাবেন বিসিবির হাইপারফরম্যান্স বিভাগের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তানের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশের। দুই ম্যাচের দু’টিতে হেরে ফাইনালের আগেই ছিটকে যায় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭২ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ১৬০ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে। বাংলাদেশের এই ব্যাটিং ব্যর্থতা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ঘরের মাঠে সবশেষ ১০ ওয়ানডেতে দলটির গড় স্কোর ২১৫.৩। বিদেশে তা আরো কম। দেশের বাইরে সবশেষ ১০ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের গড় স্কোর ১৭৩.৯।
২০২৫ সালের নভেম্বরে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পান আশরাফুল। পূর্ণ মেয়াদে নতুন ব্যাটিং কোচ নিয়োগে আলোচনাতে রয়েছেন দুই-তিনজন। এরমধ্যে পাকিস্তানের মোহাম্মদ ইউসুফ, দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলা এবং শ্রীলঙ্কার সাবেক একজন ক্রিকেটার রয়েছেন। নতুন কোচের সন্ধানে বিসিবির ভাবনায় সবচেয়ে আলোচিত নাম হাশিম আমলা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








