সমস্যা নিয়েই শুরু সাফ ক্যাম্প

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফিফা উইন্ডোর জন্য ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে পাওয়া যাবে না হামজা চৌধুরী, শমিত শোমদের। এবারের সাফে বাংলাদেশ দলের দ্বিতীয় ম্যাচ ১১ তারিখে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ফলে ওই ম্যাচে কোচ টমাস ডুলি পেতে পারেন হামজাদের। যদি তারা ৯ তারিখে আসেন। তাদের বহনকারী ফ্লাইট সময়মতো বাংলাদেশে এসে পৌঁছার বিষয়ও আছে। তবে বিমান থেকে নেমেই যে হামজারা মাঠে খেলবেন, তা নয়। তাদের দীর্ঘ বিমান ভ্রমণের ক্লান্তির বিষয়টি আছে। ফলে ভুটান ও শ্রীলঙ্কার মতো দুই দলের বিপক্ষে এই অবস্থায় লাল-সবুজদের জয়ে শুরু করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সাথে যোগ হয়েছে ক্যাম্পে যোগ দেয়া ইনজুরড ফুটবলাররা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল ক্যাম্পে উঠেছেন ২১ ফুটবলারর। ডুলি বলেন, ‘হামজা ৯ তারিখে আসবে। ফারহানও সম্ভবত ৯ তারিখে আসবে। ওই হিসেবে দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের পাওয়া যাবে।’
কোচ ডুলি ২৮ জন ফুটবলারের নাম জমা দিয়েছেন। এই বাইরে খেলোয়াড় বদলের সুযোটা একেবারেই কম। ফলে টুর্নামেন্টের আগে ইনজুরিতে পড়া খেলোয়াড়দের বদল করা নিয়ে মহা ঝামেলায় পড়তে হবে। 
কোচ ডুলি কি কারণে ইনজুরিতে থাকা তপু বর্মণ, মিনহাজুল করিম স্বাধীন, বিশ্বনাথ ঘোষ এবং সিনিয়র সোহেল রানাদের ক্যাম্পে ডাকলেন, তা বড় প্রশ্ন। সেই আসিয়ান কাপের আগ থেকেই চোট নিয়ে ভুগছেন তপু, বিশ্বনাথরা। লিগের ম্যাচে ইনজুরিতে পড়েন মিডফিল্ডার সোহেল রানা। কলারবোন ভেঙে গেছে স্বাধীনের। কোচ ডুলি অবশ্য আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তপু হালকা ইনজুরি নিয়ে ক্যাম্পে উঠেছেন।
বিদেশী লিগে খেলা ফুটবলারদের বিষয়ে ডুলি বলেন, ‘লিগের ম্যাচ আছে। যে খেলোয়াড় আপনার দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, তাকে আপনি ছাড়তে চাইবেন না। এমনকি ক্ল¬াব তাকে ছাড়তে বাধ্যও নয়। তারা বলতে পারে, খেলোয়াড় আমাদের সাথেই থাকবে। যখন ছাড়তে হবে, তখনই ছাড়বে। আর সেটি ৮ তারিখ।’
তিনি আরো বলেন, ‘তারা ৯ তারিখে রওয়ানা দিতে পারে, আবার ম্যাচের পরপরই রওয়ানা হতে পারে। কখন ফ্লাইট পাচ্ছে, তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে। তাই অনেকে যতটা সহজ মনে করেন বিষয়টা তত সহজ নয়।’
ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ইনজুরড ফুটবলারদের প্রসঙ্গে কোচ বলেন, ‘কেউ যদি গতকাল ম্যাচ খেলে আজ আসে, আর তার হাঁটুতে সমস্যা থাকে, তাহলে আমরা কী করতে পারি? কিছুই না। আমাদের তাকে খেলার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।’
আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ দলের হয়ে একটি করে গোল করেছেন শাহরিয়ার ইমন ও ফারহান আলী ওয়াহিদ। এর মধ্যে সাফ দলে নেই ইমন। কোচের কিন্তু এখনো খোঁজ চলছে দলে একজন নম্বর ৯। তার মতে, ‘আমরা এমন একজন ৯ নম্বর খেলোয়াড় চাই, যে আমাদের হয়ে সত্যিকার অর্থে গোল করতে পারবে।’ তার মতে, কার্যকর গোলদাতা ছাড়া সাফে সফল হওয়া কঠিন।
দলের শৃঙ্খলা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন এবং স্থানীয় ও প্রবাসী খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভাজনের গুঞ্জনও উড়িয়ে দিয়েছেন ডুলি। তার মতে, খেলোয়াড়দের কিছু স্বাধীনতা দেয়া মানেই শৃঙ্খলার অভাব নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভাজনের খবরকে ভিত্তিহীন গুজব বলেও মন্তব্য করেন কোচ।

Advertisement