
জসিম উদ্দিন রানা
দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজ। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ এই লড়াইয়ে ২৮ অক্টোবর মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে মূল পরীক্ষা। ঘরের মাঠে খেলা, পরিচিত উইকেট, চেনা পরিবেশ- সবই থাকবে বাংলাদেশের পক্ষে। এখন দেখার বিষয়, নিজেদের পক্ষে থাকা এসব সুবিধা কাজে লাগানোর সামর্থ্য কতটা আছে দলের।
সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রস্তুতি ম্যাচের ফলাফল দিয়ে টেস্ট সিরিজের ভবিষ্যৎ লেখা যায় না, তবে প্রতিপক্ষ যে নিজেদের প্রস্তুতির ঘাটতি পূরণে ব্যস্ত, তা স্পষ্ট। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত? চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেয়া, উইকেটে টিকে থাকার মানসিকতা, সেশন ধরে খেলার ধৈর্য; টেস্ট ক্রিকেটে আসল প্রস্তুতির পরীক্ষা সেখানেই।
টেস্ট খেলুড়ে প্রথম ১০ দলের মধ্যে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া বাকি সবাই কোনো না কোনো আইসিসি ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কারো ঘরে একাধিক শিরোপা। বাংলাদেশের ঘরে সেই জায়গাটা এখনো খালি। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে ব্যাটিংয়ের অনিশ্চয়তা। কখনো টপ অর্ডারের দ্রুত পতন, কখনো মাঝের সারির দায়িত্বহীন শট, আবার কখনো লোয়ার অর্ডারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধের অভাব- একই গল্পের পুনরাবৃত্তি যেন। টেস্ট ক্রিকেটে এক মুহূর্তের অসতর্কতা গোটা দিনের পরিশ্রম মাটি করে দিতে পারে; অথচ বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে মনে হয়, উইকেটে থাকার চেয়ে উইকেট ছেড়ে আসার তাড়নাই বেশি। প্রতিপক্ষের বোলারদের কৃতিত্ব অবশ্যই দিতে হবে, কিন্তু নিজেদের ভুলের দায় প্রতিপক্ষের ঘাড়ে চাপিয়ে লাভ কী?
আরেকটি বড় সমস্যা ধারাবাহিকতার অভাব। একজন ব্যাটার ভালো করলেন, পরের ইনিংসে ব্যর্থ; একজন বোলার শুরুতে আগুন ঝরালেন, পরে আর খুঁজে পেলেন না লাইন-লেংথ। দলীয় পারফরম্যান্সের বদলে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত ঝলকের ওপর নির্ভর করে টেস্ট জেতা যায় না। পাঁচ দিন ধরে প্রতিটি সেশনে লড়াই করার নামই টেস্ট ক্রিকেট। বাংলাদেশ কি সেই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছে? প্রশ্নটা অস্বস্তিকর, কিন্তু এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
টেস্টের ব্যাটিং দর্শনে পরিবর্তন আনতে হবে। উইকেটে নামলেই দ্রুত রান তোলার প্রতিযোগিতা নয়। একজন ব্যাটার ৩০-৪০ রান করে ফিরলে সেটিকে সাফল্য ভাবার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। টেস্টে পঞ্চাশ ভালো শুরু, শতরান দায়িত্বের প্রমাণ; আর ম্যাচ বাঁচানো কিংবা জেতানো ইনিংসই একজন ব্যাটারের প্রকৃত পরিচয়। বোলিংয়েও চাই পরিকল্পনা ও ধারাবাহিকতা। শুধু স্পিননির্ভর উইকেট বানিয়ে নিজেদের শক্তির ওপর ভরসা করার নাম ঘরের মাঠের সুবিধা নয়। পেসারদের জন্যও কার্যকর পরিবেশ তৈরি করতে হবে, স্পিনারদের ব্যবহার করতে হবে পরিস্থিতি বুঝে।
স্বস্তির বিষয় বাংলাদেশ এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে একেবারে খাদের কিনারায় নেই। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ ড্র এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে সাফল্য দেখিয়েছে, দলটির সামর্থ্য আছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ অবস্থানও নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তব করতে হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজে পয়েন্ট নষ্ট করার সুযোগ কমাতে হবে।
মিরপুরে তাই শুধু আরেকটি টেস্ট সিরিজ শুরু হবে না; শুরু হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় আত্মবিশ্বাস ও পরিকল্পনার পরীক্ষা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








