দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচলের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আজ

বিশেষ সংবাদদাতা

Advertisement

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও দাম্মাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় হাউছি বিদ্রোহীদের মিসাইল হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। তবে এসব হামলায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র জানা কঠিন হয়ে পড়েছে। হামলা ও সার্বিক নিরাপত্তার কারণে বিশ্বের একাধিক দেশের সাথে রিয়াদ ও দাম্মামের আকাশপথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যা শনিবার রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
এর আগে পরিস্থিতি ‘অনুকূলে রয়েছে জানিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-দাম্মাম-ঢাকা রুটে ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই ফ্লাইট নামার পরেই হাউছিদের মিসাইল হামলায় ধসে পড়ে দাম্মাম বিমানবন্দরটি। ঘটনার পর থেকে দাম্মামের সাথে আবার বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ বিশ্বের আকাশপথ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় এক বিজ্ঞপ্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানায়, হামলার কারণে ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টোবরের দাম্মামগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী রুটের সব ফ্লাইট আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্থগিত ফ্লাইটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে জানানো হবে। তবে ঢাকা থেকে জেদ্দা ও মদিনাগামী ফ্লাইট নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চালু থাকবে।
ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফ্লাইট চালানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ রুহুল আমিন মিন্টু। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দর বন্ধ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারগুলো কোনো ঝুঁকি না নিয়ে জেদ্দা ও মদিনা রুটে ফ্লাইট বাড়িয়েছে। সেখানে জাতীয় সংস্থা কেন দাম্মাম রুটে ঝুঁকি নিয়েছিল, তা বোধগম্য নয়।
তবে বিমানের জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ) শাহনুর আহমেদ নয়া দিগন্তকে জানান দাম্মামগামী ফ্লাইটটি ৩৯৩ জন যাত্রী নিয়ে নিরাপদে ফিরে এসেছে, কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। আজ দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচলের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসবে বিমান কর্তৃপক্ষ।
এ দিকে দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় দু’জন বাংলাদেশী আহত হয়েছেন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। তবে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের দাবি, বিমানবন্দরে হামলায় প্রকৃত কতজন হতাহত হচ্ছেন, তা স্পষ্ট নয়। প্রতিনিয়ত ঘটে চলা এ হামলায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, এ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানের রিয়াদ ও দাম্মামগামী ১৪১টি ফ্লাইট বতিল হয়েছে এবং ২১ হাজার ৯৩৩ জন যাত্রী আটকে পড়েছেন।