
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বাজারে শীতকালীন আগাম সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। এতে কিছু সবজির দাম কমলেও বেশির ভাগ পণ্যের উচ্চমূল্যে স্বস্তি ফিরছে না ক্রেতাদের মধ্যে। এর মধ্যে গত সপ্তাহের তুলনায় ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বিপরীতে, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে কয়েকটি বাজারে। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও রয়েছে আগের উচ্চমূল্যে।
গতকাল (শুক্রবার) রাজধানীর দুয়ারীপাড়া, মিরপুর ৬ ও পল্লবীসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে আসতে শুরু করেছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা ও শিমের মতো শীতকালীন সবজি। তবে মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় এসব সবজি কিনতে ক্রেতাদের বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। বাজারভেদে প্রতি কেজি আগাম শিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা দরে। টমেটোর দাম প্রতি কেজি ১৪০ টাকা পর্যন্ত। ফুলকপি ও বাঁধাকপি আকারভেদে প্রতি পিস ৩০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুলা ও ঢেঁড়সের দাম বাজারভেদে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। পটোল, করলা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও বরবটির দামও রয়েছে ৪০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। তবে কোনো কোনো বাজারে এসব পণ্যের দাম আরো বেশি দেখা গেছে।
তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও লাউ। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে কাঁচামরিচের দামও কিছুটা কমেছে। মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়।
বাজারে বিক্রেতারা জানান, দুই সপ্তাহ ধরে শীতকালীন আগাম সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। সরবরাহ বাড়লে এসব পণ্যের দাম আরো কমতে পারে। পাশাপাশি পূজার ছুটিতে বাজারে ক্রেতা কম থাকায় কিছু সবজির দাম কমেছে।
অন্য দিকে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত সপ্তাহে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা কমে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় নেমেছে। কোনো কোনো বাজারে সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে পাড়া-মহল্লার কিছু দোকানে ডিমের দাম আগের মতোই রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি পর্যায়ে ডিমের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং বাজার তদারকি জোরদার করায় দাম কমেছে। ছুটির সময় চাহিদা কম থাকায় ডিমের দামেও প্রভাব পড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোতে দাম আরো কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।
এ দিকে গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় কেনা গেলেও গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে তা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে। বাজারভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুয়ারীপাড়া বাজারে মুরগি ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক দিন ধরে খামার পর্যায়ে মুরগির সরবরাহ কিছুটা কমেছে। একই সাথে পরিবহন ব্যয় ও পোলট্রি খাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে পাইকারি পর্যায়ে বেশি দামে মুরগি কিনতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
মাছ ও গোশতের বাজারেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। গরুর গোশত প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের মধ্যে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং কাতল আকারভেদে ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ট্যাংরা প্রায় ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, কিছু সবজি ও ডিমের দাম কমলেও সামগ্রিক বাজারব্যয়ে তেমন স্বস্তি নেই। মাছ, গোশত, চাল, ডাল, তেলসহ পরিবারের নিয়মিত খাদ্যতালিকার বেশির ভাগ পণ্যই উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ফলে আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে ডিম, মুরগি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে সরবরাহ, উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ ও বাজার তদারকির ওপর।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








